৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

আগৈলঝাড়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণ: চার দিনেও উদ্ধার কিংবা গ্রেফতার হয়নি কেউ

বাণী ডেস্ক: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অপহরণের চার দিন পরেও উদ্ধার হয়নি দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী চৈনিকা ইসলাম মিথিলা (১৫)। এ ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রাইভেট পরতে আসলে নিরব ফকিরসহ ৪-৫ জনের একটিদল মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে স্কুলের সামনে থেকে মটরসাইকেলে মিথিলাকে অপহরন করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মিথিলার মা মিষ্টি বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে নিরব ফকিরসহ ৪জনের নামে আগৈলঝাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন মামলা নং ৭/৮৩। আসামিরা হলেন মো: নিরব ফকিরের (১৯), মো: সাকিব ঘরামী (১৯), মো: মহিউদ্দিন ফকির (৪৫) ও মুক্তা বেগম (৩৫)। মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের লখারমাটিয়া গ্রামের চুন্নু মৃধার মেয়ে ও বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী চৈনিকা ইসলাম মিথিলাকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরণের কু-প্রস্তাবসহ উত্যক্ত করে আসছিল বড় বাশাইল গ্রামের মহিউদ্দিন ফকিরের ছেলে নিরব ফকির। এছাড়া তাকে প্রেমের প্রস্তাবও দেন তিনি। বিষয়টি তার পরিবারে জানালে নিরবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তারা। এক পর্যায়ে মিথিলা মঙ্গলবার সকালে প্রাইভেট পরতে আসলে নিরবসহ দু-তিনজন সহযোগীদের নিয়ে অপহরণ করে। বিষয়টি নিরব ফকিরের পরিবারকে জানালে তারা বিভিন্নভাবে ওই মেয়ের পরিবারকে হুমকি-ধামকি দেয়। এদিকে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার বা আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এব্যাপারে মিথিলার মা মিষ্টি বেগম বলেন, আমার মেয়ে মিথিলা মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রাইভেট পরতে আসলে নিরব ফকিরসহ ৪-৫ জনের একটিদল মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে স্কুলের সামন থেকে মটরসাইকেলে মিথিলাকে অপহরন করেন। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আসামী মুক্তা বেগম তার নিজ বাড়িতে ছিলেন। আমরা বিষয়টি আমাদের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার এসআই মিল্টন মন্ডলকে জানালে সে বলেন আমি তাদেরকে আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দিয়েছি এর মধ্যে তারা মিথিলাকে ফেরত দিবে। একটু অপেক্ষা করুণ ওই দিন দুপুর ১২ পরে নিরব ফকিরের মা মুক্তা বেগম বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এবং বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ২ নং আসামী মো: সাকিব ঘরামীর কাছে ১নং আসামী নিরব ফকিরের বিক্রয়কিত মোবাইল ফোনটি বিকেল ৫ তার মধ্যে থানায় জমা দিতে বলেন কিন্তু সাকিব ঘরামীর মা ওই মোবাইল ফোনটি থানায় না দিয়ে ৪নং ওয়ার্ড মেম্বারের কাছে জমা দেন। আমি এখনো জানিনা আমার মেয়ে বেঁচেআছে নাকি তাকে ওরা মেরেফেলেছে আমি আমার নাবালিকা মেয়েকে ফেরত চাই এবং আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার এসআই মিল্টন মন্ডল বলেন, স্কুলছাত্রী অপহনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার ও অপহৃতা স্কুল মিথিলাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ