৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

আলোচিত কলেজ শিক্ষক হাবিবের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ

দুমকি প্রতিনিধি:  পটুয়াখালীর দুমকিতে নানা কারণে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত সরকারি জনতা কলেজের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এবার ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনেছে প্রায় অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগী। শুক্রবার সকাল ১০টায় দুমকি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন দুমকি উপজেলার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে মোঃ জসিম উদিন বাদল বলেন,  নিম্নে বর্ণিত দুমকি মৌজার ৫৪২ নং খতিয়ানের দাগ নং-১২৩৯, ১২২৮, ১২১২ এবং ৫৫২ নং খতিয়ানের ৬৭১ দাগের ২ একর ১৩ শতাংশ সম্পত্তি আমিসহ আরও ১৩ ব্যক্তি দলিল রেজিস্ট্রির পর ভোগদখল করে আসছিলাম। হঠাৎ মাস খানেক ধরে একই এলাকার প্রভাবশালী ভূমিদস্যু একটি চক্র জবরদখল করার পায়তারায় লিপ্ত হয়ে আমাদের অব্যাহতভাবে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। প্রতিনিয়ত ভিটে-মাটি ছাড়া করার হুমকিও দিচ্ছে। উপর্যুক্ত খতিয়ানভুক্ত দাগ নং-১২৩৯, ১২২৮, ১২১২ এবং ৬৭১ দাগের ২ একর ১৩ শতাংশ নিলামী সম্পত্তি দলিল রেজিস্ট্রির পর আমাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি ওই চক্রটির মালিকানা স্বত্ত্ব না থাকলেও তাদের নামে ভূয়া দলিল তৈরি, খায়-খালাসি, মেয়াদী পাট্টা এবং ভূয়া এস.এ রেকর্ডের মাধ্যমে প্রভাবশালী মহলের কাছে বেচা-বিক্রির পায়তারা চালাচ্ছে। সরকারি জনতা কলেজের শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান, পিতা-মৃত. নাজেম আলী মৃধা, আবদুল জব্বার মাস্টার, পিতা-মৃত. গফুর হাওলাদার, জাকির হোসেন, পিতা-সেকান্দার মাস্টার, সর্ব সাং-দুমকি, পটুয়াখালী। আলামিন, পিতা-মৃত. সালাম হাওলাদার, আমির হাওলাদার-পিতা-মৃত. সিরাজ হাওলাদার, আইয়ুব আলী, পিতা-মৃত. মোনজেত হাওলাদার এবং সুলতান, পিতা-মৃত. মোনজেত হাওলাদার, সর্ব সাং-দুমকি সাতানী, পটুয়াখালী গংদের পূর্বপুরুষ রহম আলী মৃধা, হাজী ফয়জর আলী মৃধা, মোহন আলী হাওলাদার, মোনজেত আলী হাওলাদারের জেএল নং-২৪, এসএ খতিয়ান নং-৫৪২, ৫৫২ খতিয়ানের জমি ১৯৫৯-৬০ সাল পূর্ববর্তী সময়ে সরকার নিলাম করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই খতিয়ানভুক্ত নিলামকৃত জমি দুমকি সাতানী গ্রামের বাসিন্দা হারুন মাতুব্বরের দাদা জিন্নাত আলী মাতুব্বর তার পুত্র তালেম মাতুব্বরের নামে ৩.৪৯ একর জমি নিলাম খরিদ করেন। দুমকি মৌজায় ১৯৫৯-৬০ সালে নিলামকৃত সরকারি রেকর্ড ভলিয়ম নং-০৬, পি.কে-১২০, সিরিয়াল-১৯৮। তালেম মাতুব্বরের নামে রেজিস্ট্রার বুকে তৎকালীন সময়ের ১৪০ টাকা জমা দেখা গেছে। ওই জমি নিলাম হওয়ার পর থেকে তালেম মাতুব্বরের ওয়ারিশগণ (স্ত্রী) চানবরু বেগম ও দুই পুত্র হারুন মাতুব্বর, রহমান মাতুব্বর নিয়মিত খাজনা-দাখিলা পরিশোধপূর্বক ভোগদখল করিয়া আসতেছিল। চক্রটি এছাড়াও বেআইনিভাবে বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের জায়গা-জমি জোরপূর্বক দখল করে আসছে। অপরদিকে বৈধ মালিক রাজেশ^র, বিশেশ^রের ওয়ারিশ কার্তিক চন্দ্র শীল, লক্ষণ চন্দ্র শীল ও মাধব চন্দ্র শীলের নিকট থেকে জেএল নং-২৪, এসএ খতিয়ান নং-৫৬৩, ৫৬৪, ৫৬৬, ৫৬৭, ৫৬৮ এ মোট জমি ১-৮০ শতাংশ চারটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে প্রায় ত্রিশ জন ব্যক্তি ক্রয় করে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগদখল করিয়া আসিতেছেন। সেসব স্থানে বসতবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনাও রয়েছে। চক্রটির দায়ের করা ৪৪/৪৫ মামলায় তহসিলদার তদন্তে এলে তারা কোন বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে না পারেনি। চক্রটি গায়ের জোরে জবরদখল করতে উঠেপুরে লেগেছে। আমিসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক জমি গ্রহীতা চক্রটির বিধ্বংসী কবল থেকে রক্ষা পেতে চাই। আমরা আমাদের ন্যায্য জমি প্রশাসনের মাধ্যমে ফিরে পেতে চাই। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুমকি প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ