২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

উজিরপুরে পরকীয়া প্রেমিকার বাড়ি থেকে ইউপি সদস্য’র ভাইয়ের লাশ উদ্ধার

উজিরপুর প্রতিনিধি :: বরিশালের উজিরপুরে পরকীয়া প্রেমিকার বাড়ি থেকে ইউপি সদস্য’র ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে শঙ্কা। পরিবারে দাবী হত্যা। শনিবার (২৬ জুন) সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়- উপজেলার হারতা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মৃত নারায়ন চক্রবর্তীর ছেলে ও ইউপি সদস্য নিখিল চক্রবর্তীর ভাই ব্যবসায়ী ২ সন্তানের জনক বাসুদেব চক্রবর্তী টুনু(৪৫) বিষপান করেছে বলে বিষয়টি ২৫ জুন রাত পৌনে ২ টার দিকে ০১৭৬৮৯১৩৫৫৪ নম্বর দিয়ে মহিলা কন্ঠে ফোন করে হারতা বাজারের ডাঃ নগেন্দ্রনাথ হালদারকে জানান জামবাড়ী এলাকার কালাম সরদারের বাড়ীর সন্নিকটে শাখা রাস্তার পাশে এক ব্যাক্তি বিষপান করে মৃত্যুর যন্ত্রনায় গোংরাচ্ছে। ফোন পেয়ে গভীর রাত হওয়ায় ডাঃ ওই রোগীকে তার চেম্বারে নিয়ে আসতে বলেন। এর কিছুক্ষন পরে জামবাড়ী এলাকার মৃত সিব ভাংরার ছেলে উত্তম ভাংরা(৫২) ফোন করে বিষয়টি ওই এলাকার চৌকিদার গৌতম বাড়ৈকে জানান। সে তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্থল পৌছে মূমূর্ষ অবস্থায় পরে থাকা ব্যাক্তিকে চিনে ফেলেছে এবং তার পরিবারকে খবর দেয়। এরপর ইউপি সদস্য নিখিল চক্রবর্তী ঘটনাস্থল ছুটে এসে তার ভাই ব্যবসায়ী বাসুদেব চক্রবর্তী টুনুকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ডাঃ নগেন্দ্রনাথ হালদারের কাছে নিয়ে যায়। ভোর সাড়ে ৪ টায় তাকে মৃত্যু ঘোষনা দেয়। এদিকে উজিরপুর মডেল থানার ওসি রহস্য উৎঘাটনের স্বার্থে উত্তম ভাংরার বোন মিতু ভাংরা(৩৫)কে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জানা যায় মিতু ভাংরার প্রথম বিবাহ হয় পয়সারহাট বামশীল। সেখানে ২টি সন্তান রয়েছে। ২য় বিবাহ হয় কুচিয়ারপার হিরো মল্লিকের সাথে সেখানেও ১টি পুত্র সন্ত্রান রয়েছে। সে কালাম সরদারের বাড়ীতে ভাড়ায় থাকেন। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবী মিতু ভাংরার সাথে পরিকিয়ার জেরেই তার ভাই বিজয় ভাংরা(৫২),উত্তম ভাংরা(৪২) মিলে ব্যবসায়ী টুনুকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। এদিকে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে রহস্য উৎঘাটন ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

নিহত’র ভাই ইউপি সদস্য নিখিল চক্রবর্তী জানান- আমার ভাইকে বিষ খাওয়ায়ে হত্যা করে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ ব্যপারে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউল আহসান জানান- বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে এবং মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতিতে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ