৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে নেয়ার পরিকল্পনা:

শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বেগের মধ্যে বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের মাধ্যমে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা ও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পরীক্ষা নেওয়ার এই পরিকল্পনার পেছনের বিবেচনা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “গত বছর নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে আমাদের সংক্রমণের হার অনেক কমে এসেছিল। এ বছর টিকা প্রদান আবার শুরু হয়ে গেছে, দেশব্যাপী টিকা প্রদান চলবে এবং ব্যাপক হারে রেজিস্ট্রেশনও চলছে।

“আমাদের টিকারও এখন কোন ঘাটতি থাকছে না। আশা করি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ব্যাপক সংখ্যক জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা প্রদান সম্ভব হবে। আমরা আশা করছি, নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংক্রমণ হার হয়তবা গত বছরের মত বা তারও চেয়ে কম হবে।”

দীপু মনি বলেন, “কোভিড-১৯ পরিস্থিতি অনুকূল হলে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে গ্রুপভিত্তিক শুধুমাত্র ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয়ের ওপর পরীক্ষার সময় ও নম্বর দুটিই হ্রাস করে পরীক্ষা গ্রহণ করতে আমরা পারব বলে আশা করছি।

“সে অনুযায়ি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ এবং এইচএসসি ও সমমানের জন্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।”

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও এই সময়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে ফেরানো যায়নি।

ফলে মহামারীকালে কোন পাবলিক পরীক্ষায়ও বসতে পারেনি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত বছর মহামারীর আগে এসএসসি পরীক্ষা হয়ে গেলেও এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘অটোপাস’ দেওয়া হয়।এবার শুরু থেকেই ‘অটোপাস’ না দেওয়ার কথা বলে আসছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

যেভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে

এর আগে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নিতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য যথাক্রমে ৬০ ও ৮৪ দিনে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ের ওপর অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিখন ফল অর্জনের বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যই অ্যাসাইনমেন্টগুলো দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি জানান, এসএসসি বা সমমানের অ্যাসাইনমেন্ট ১৮ জুলাই থেকে দেওয়া শুরু হবে। প্রতি সপ্তাহে দুটি করে ১২ সপ্তাহে মোট ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। প্রতিটি নৈর্ব্যচনিক বিষয়ের ওপর ৮টি করে অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে শিক্ষার্থীদের।

২৬ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া শুরু হবে। সপ্তাহে দুটি করে ১৫ সপ্তাহে মোট ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এইচএসসির ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয় এবং যেহেতু দুটি করে পত্র আছে, সেজন্য মোট ছয়টি পত্রে তারা ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট করবেন। অর্থাৎ প্রতিটি পত্রে ৫টি করে অ্যাসাইনমেন্ট করবেন।” মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবশ্যিক বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার যুক্তিও তুলে ধরেন দীপু মনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যেগুলো আবশ্যিক বিষয় এসএসসির ক্ষেত্রে যেমন- বাংলা, ইংরেজি, গণিত, আইসিটি, ধর্ম; এইচএসসির ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজি- সেই আবশ্যিক বিষয়গুলো বা চতুর্থ যে বিষয় সেই বিষয়গুলোর কোনো অ্যাসাইনমেন্ট আমরা দেব না।

“এসএসসি, এইচএসসির শিক্ষার্থীরা তাদের জেএসসি, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় আবশ্যিক বিষয়গুলো পড়ে এসেছে। এই বিষয়গুলো পূর্ববর্তী পরীক্ষায় মূল্যায়নও হয়েছে। কিন্তু নৈর্ব্যচনিক বিষয়গুলোর মূল্যায়ন বোর্ডগুলো করেনি, তাই এই বিষয়গুলোর মূল্যায়ন আবশ্যক।”

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ