২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

করোনার প্রাদুর্ভাবে প্রত্যাশারা নির্বাসিত

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

শামীমা সুলতানা:

হ্যাঁ প্রচন্ড আত্মপ্রত্যয়ি মানুষ আমি শূন্যের মাঝেও পূর্ণতা খুঁজেফিরি,আবার ততোটাই আবেগপ্রবণ আমি। অনেক দিন তেমন লেখা হয়না অনেকেই কষ্ট করে আমার লেখা পড়েন, অপেক্ষা করেন আমার লেখার জন্য, কৃতজ্ঞ আমি আপনাদের প্রতি। আপনাদের ভালোবাসা, আমার প্রতি আপনাদের প্রত্যাশা আমাকে প্রাণীত করে । আর এমনি ভক্তকুল ইনবক্সে নক করেই যাচ্ছেন কেনো দেরি করে লিখছি নিয়মিত কেনো লিখছিনা। আবার অনেকে বলেন আপনার /তোমার লেখায় ম্যাসেজ থাকে যা আমাদের সংশোধিত করে উজ্জিবিত করে। এই সময় আপনি পজেটিভ কিছু লেখেন যা হতাশার সময় মনে একটু প্রশান্তি দিবে।আসলে এটা সত্যি যে হাতে এখন প্রচুর অলস সময় অফিস, মিটিং, কোনো প্রগ্রাম নেই কোনো তারানেই। তার পরেও কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছেনা। যে আমি সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পরে ক্লান্ত শরীরেও সৃষ্টির উম্মাদনায় শব্দের খোঁজে কাগজ, কলম নিয়ে বসে বসে রাত্রির শরীর বেয়ে প্রভাত নামাতাম।সেই আমি আজ শব্দ খুঁজিনা! জীবনে এই প্রথম কেউ আমাকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে আমার চারিদিক থেকে প্রত্যাশার আকাশ কেরে নিয়ে অন্ধকারে ছেয়ে দিচ্ছে। হ্যাঁ করোনা আমাকেও আতংকিত করছে!আগন্তক ক্ষুদ্র স্বপ্ন গুলো যখন ভেঙে টুকরো হলো তখন স্বপ্নবাজ আমরও ভয় করছে নতুন স্বপ্ন বুনতে। আমার বড়ো ভাই জার্মান বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,ATN Bangla News 24 RTV Bangla vision এর জার্মান প্রতিনিধি সাংবাদিক খান লিটন।
আমার সকল সৃষ্টিশীল কাজের অন্যতম এক প্রেরণার নাম। ২০২০ সালে ভাইয়া দেশে আসবে তাই এক বছরের অধিক সময় ধরেই দিন গুনে চলছিলাম। প্রতিক্ষার অবসন হলো হঠাৎ ভাইয়া ম্যাসেজ দিলো ২২/০২/২০২০ তারিখ *তুমি আজ কয়টায় মেলায় আসবে? *ভাইয়া আমি বরিশালে, এমন রিপ্লাই করেই প্রশ্ন জাগলো মনে! ভাইয়া কি বাংলাদেশে? যদিও নেটে ফোনে কোন আপডেট পাইনি, দ্রুত ফোন দিলাম বাংলাদেশে ব্যবহারিত নাম্বারে ওপাশ থেকে হ্যাঁলো বলতেই আমি সারপ্রাইজড! হাসি ভরা মুখে বললো হ্যাঁ তোমাকে বলিনি ভাবলাম একেবারে সামনে হাজির হবো, জার্মানিতে বসে কিআর জানতে চাই মেলায় কয়টায় আসবে! তার পর থেকে অপেক্ষা! ছেলের এস,এস,সি পরিক্ষা থাকায় আমি আর ঢাকায় যেতে পারলাম না। ভাইয়া চিকিৎসার জন্য পাঞ্জাবে গেলেন আমাদের দেখা হলোনা!
কথা হয় ফোনে ম্যসেঞ্জারে,সামনে পুষ্পকলি’র কথা পত্রিকার দ্বিতীয় প্রকাশনা উৎসব। “পুষ্পকলি’র” স্বজন তথা বরিশালের সকল সৃষ্টিশীল কাজের প্রেরণা, জনবান্ধব জেলাপ্রশাসন জনাব এস,এম,অজিয়র রহমান স্যার ও পুষ্পকলি পরিবারের সকলের আলোচনা সাপেক্ষে সম্ভব্য তারিখ ১৯ মার্চ ঠিক করা হলো। উৎসবে অনান্য অতিথিদের মাঝে বিশেষ আকর্শন ভাইয়া। ভাইয়া বরিশালে আসবে তাই আমার ভিতরে চলছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়োজনের পরিকল্পনা। ব্যস্ততায় অনেক সময় দুপুরের খাবারও হোটেলে অর্ডার করতে হয়েছে রান্নার সময় হয়না বলে। কিন্তু রান্না আমার শখ রান্নায় কখনো আমার ক্লান্তি নেই বাসায় মেহমান আসলে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াতে ভিশন তৃপ্তি পাই।ভাইয়ার জন্য রেসিপি রেডি সরিষা ইলিশের জন্য বড়ো ইলিশ, নদীর টাটকা আইড় মাছ, ছোটো মাছ নিজেই কিনলাম। যদিও এ কাজটিতে বড়ো অনিহা আমার, ক্লান্তিহীন ভাবে শপিং করার নাম আছে আমার। শাড়ী, স্যালোয়ার কামিজ ছেলেদের ড্রেস আমার পছন্দের উপরে পরিবার এবং আত্মীয় সকলের ১০০% আস্থা। কিন্তু মাছ,মাংশ, কাচাবাজারে গিয়েছি হাতে গোনা কয়েকবার বিশেষ প্রয়োজনে। এবারের প্রয়োজনতো একেবারেই বিশেষ তাই নদীর টাটকা মাছ কিনলাম আরো টুকরো টুকরো আয়োজন!কারণ প্রতিটি মুহূর্তকে একটু স্পেশাল করাই আমার চিরায়ত স্বভাব!কিন্তু এরই মাঝে মরোন ঘাতী করোনা গুটি গুটি পায় প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। মুজিব বর্ষে বছর ব্যাপি বিভিন্ন আয়োজনের পরিকল্পনায় উৎসব মুখোর বাংলাদেশে বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সকল আয়োজন স্থবির! সরকারি নির্দেশনা জনসমাবেশ পরিহার করার। সচেতন নাগরিক হিসাবে নিজ দ্বায়িত্বে অনুষ্ঠান সুচি সংক্ষিপ্ত করলাম পুষ্পকলিদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে আয়োজনের ব্যাপ্তি কমিয়ে আনলাম।হঠাৎ ১৬ তারিখ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলো। যেহেতু ভেন্যু নির্ধারণ করাহয়েছিলো বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’র মিলনায়তন আর যাদের জন্য আয়োজন তারা শিক্ষার্থী। । স্বাভাবিক ভাবেই সব বন্ধ হয়েগেলো। মঞ্জু ভাইয়া ফোন দিলো খুব সকালে কোনো কথা বলার সুযোগ নাদিয়েই বললো চা খেয়েছো? বললাম এখনো খাইনি ভাইয়া হাসি ভরা মুখে ভাইয়া বললো তারাতারি চা বসাও একসাথে চা খাবো! এক আকাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে বললাম ভাইয়া আপনি বরিশাল আসছেন? বললো আমি একা নই তোমার লিটন ভাইয়া, সগির মামা আছে সাথে । ভাবলাম লিপি আন্টির বাসায় উঠেছে। পূণরায় জানতে চাইলাম ভাইয়া বরিশাল কখন আসছেন? হেয়ালি ছেরে স্থির কন্ঠে জানালো আমরা এখন গাড়িতে বরগুনা যাচ্ছি তুমি কাল চলে এসো। প্রবল ইচ্ছা থাকলেও আর যাওয়া হলোনা কঠিন বাস্তবতায় হেরেগেলো ইচ্ছে আর ভালোবাসা! ছোট্টো বয়স থেকে যে শিক্ষা নিয়ে ৩৭ বছর চললাম “মানুষ সামাজিক জীব ” আজ সেই মানবজাতি আমাদের মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব! বাসায় অবস্থান করতে হবে বলে দ্রুত বাহিরের বিশেষ প্রয়োজনীয় কাজ গুলো সেরেফেলার জন্য সকাল সন্ধ্যা অফিসে, ফোনে বিরতিহীন ব্যস্ততা! মনের ভীতরে একবুক হাহাকার আমাদের দেখা হলোনা! সেই দিন থেকে আজ অনেক দিন হয়ে গেছে লিটল ভাইয়ার সাথে কথা বলিনি। ভেতরের অসস্তি থেকে নিজেকে হালকা করার জন্য শেয়ার করলাম ছোটো ভাবী(তন্বীর আম্মা)কে। ভাবী বললো লিটন আসছে একটু অসুস্থ তাও শুনছি কিন্তু আমাদের সাথেও এবার দেখা হয়নি, তুমি মন খারাপ করোনা। দেখো কতো দিন হলো তোমাকে দেখেছি অথচ আমি পটুয়াখালী কিন্তু এই সময় তো আসবেনা তুমি!বললাম ভাবী দোয়া করুন পৃথিবী সুস্থ হোক তখন নিশ্চয়ই আমাদের দেখা হবে। ২১ মার্চের পরে আমার আর সক্ষ্যতা হয়নি খোলা আকাশ আর নদীর সাথে যাদের সান্নিধ্যে কাটতো আমার আষ্ট প্রহর কতো সব গল্প হতো কীর্তনখোলার ঢেউয়ের সাথে কতো সব স্বপ্ন বুনতাম নীল আকাশের সাদা মেঘের ভাঁজে ভাঁজে ! আজ এক টুকরো আকাশ দেখি বারান্দার গ্রীলের ফাঁক থেকে! প্রতিদিন স্বপ্ন দেখি একটি সুস্থ পৃথিবীর জেগে উঠি ব্যাস্ততম একটি প্রভাতের প্রত্যাশায় সব কিছুই ম্লান হয়ে যায় অবশেষে।

লেখিকা: কবি ও কথা সাহিত্যিক

সর্বশেষ