১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কর্নকাঠির আম্মানিয়া এতিমখানা দেড় বছর ধরে বন্ধ, তারপরও সরকারী বরাদ্দ!

শামীম আহমেদ :: প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকার পরে অবশেষে নাটকীয় ভাবে দুই দিন আগে ৩ জন এতিম নিয়ে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠী আম্মানিয়া এতিমখানাটি চালু করেছে। তবে বন্ধ থাকাকালীন ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে বরিশাল সদর উপজেলা কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজসে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে নতুন কমিটির সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এনিয়ে এলাকা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ- প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ এতিমখানটি। তার পরেও সরকার কি ভাবে টাকা দেয় তাদের। স্থানীয় শফিক নামে এক ব্যক্তি বলেন, নামেই শুধু এতিমখানাটি। বিশ্ব জুড়ে মহামারী করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে এতিমখানাটি। দেড় বছর ধরে কোন কার্যক্রম চলেনি এখানে। কোন ছাত্রও ছিলোনা। সন্ধ্যার পরে ছিলো এখানে অন্ধকার।

তারা আরো বলেন, কিছু দিন আগে বরিশাল সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে এমিখানার নামে বরাদ্দ এসেছে। তাই টাকা আত্মসাত করতে নাটকীয় ভাবে তিন ছাত্র এতিমখানায় এনেছে দেখানোর জন্য।

একটি সূত্রে জানিয়েছেন- এতিমদের টাকা হাতিয়ে নিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী র্দীঘ দিন ধরে চক্র সক্রিয় হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এই এতিমখানাটির কে সভাপতি অথবা কে সম্পাদক স্থানীয়দের জানা নেই। সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মহামারি করোনা ভাইরাস শুরু থেকেই আম্মানিয়া এতিমখানাটি বন্ধ ছিলো। এবং কি এতিমখানাটি নতুন পরিচালনা কমিটির গঠন হলেও তার নেই কোন কার্যক্রম। এতিমখানার রান্না ঘর ও টয়লেটটি অকেজো অবস্থায় পরে আছে বছরের পর বছর ধরে। নতুন কমিটি আশার পরও কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এতিমখানায়। তার পরেও স্থানীয় প্রভাবশালী জব্বাব হাওলাদার দাবি করেন ঐ এতিমখানাটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি তার ভাইয়ের ছেলে।

অন্যদিকে এতিমখানাটির সাধারন সম্পাদক দাবি করেন বিএনপি’র নেতা গনি সরদার। এতিমখানাটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনম আনছার উদ্দিন সরদার বলেন, এতিমখানায় কোন ছাত্র না থাকার কারনে অনেক আগেই আমি এতিমখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বরিশাল সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকতাদের কাছে একটি লিখিত দিয়েছিলাম। র্দীঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ ছিলো এতিমখানাটি। কিন্তু হঠাৎ কোরবানী ঈদের কয়েকদিন আগে শুনতে পাই বরিশাল সদর উপজেলা সমাজ সেবা কার্যলয় থেকে ৩০ জন এতিম ছাত্রর নামে নাকি ১ হাজার টাকা করে এক বছরের বরাদ্দ আসছে মোট ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।

তিনি অভিযোগ করেন আরো বলেন, বন্ধ মাদ্রাসায় কি ভাবে বরাদ্দ আসে সেই প্রশ্ন আমার সমাজ সেবা কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। বেশ কিছু দিন ধরে এতিমখানাটি বন্ধ রয়েছে। তার পরেও কিভাবে তারা এতিমদের নামে টাকা বরাদ্দ দেয়। বর্তমানে এতিমখানায় ২ দিন আগে মাত্র তিন ছাত্র নিয়ে টাকা আত্মসাত করতে খুলেছে।

উল্লেখ্য, এতিমখানায় নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে যাকে তিনি অনেক ঢাকায় বসবাস করেন। তাকে বানানো হয়েছে এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি এই এতিমখানাটি নামে কোন প্রভাবশালীব্যাক্তিরা আর যে কোন টাকা আত্মসাত করতে না পারে এজন্য সরকার তদন্ত করে এতিমখানাটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, কর্ণকাঠী আম্মানিয়া এতিমখানা একটি আদর্শ সেবামুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর বরিশাল-৩। সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন এই এতিমখানাটি মাওলানা আনছার উদ্দিন প্রতিষ্ঠা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সদর উপজেলার কর্ণকাঠী আম্মানিয়া এতিমখানার সাধারন সম্পাদক গনি সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার কারনে মাঝে কিছু দিন এতিমখানাটি বন্ধ ছিলো। বর্তমানে চালু আছে।

৩০ জন এতিমদের বরাদ্দকৃত ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমি এখন কিছু বলতে পারবো না। আপনি আসেন চা খাবো আর আপনার সাথে কথা বলবো। নিউজ করার দরকার নেই বলে ফোনটি কেটে দেয়।

বরিশাল সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, কর্ণকাঠী আম্মানিয়া এতিমখানাটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়ার পরে। আমরা একটি নতুন কমিটির অনুমতি দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন- বর্তমানে ছাত্র নেই ও র্দীঘ দিন মাদ্রাসা বন্ধ ছিলো কিনা তা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। এবং কি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।

এবিষয়ে বরিশাল জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মামুন হোসেন বলেন, অনিয়মের কারনে আগের কমিটি বাতিল করে। সরকারী নিতিমালা অনুযায়ী নতুন একটি কমিটির অনুমদোন দেওয়া হয়েছে যার মেয়ার ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত।

তিনি আরো বলেন, আগে ৫৫ জন এতিমের নামে বরাদ্দ দেওয়া হত ওই এতিমখানায়। আমি সেখান থেকে কেটে ৩০ জনের নামে বরাদ্দর অনুমতি দেই। তবে আমার মনে হয় এখনও এতিমখানার নামে বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করা হয়নি। নতুন কমিটির কোন অনিয়ম থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করে সরকারী টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।’’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ