১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনঃ আ`লীগ-বিএনপি ভাই ভাই, এসো স্বতন্ত্র ঠেকাই

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

পটুয়াখালী প্রতি‌নি‌ধি ঃ
কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র আবদুল বারেক মোল্লার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। এছাড়াও এখানে বিএনপির একজন এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের একজন মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র এবং আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ভোট ব্যাংকের পরই এখানে রয়েছে বিএনপির অবস্থান। যে কারণে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি একত্রিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ঠেকাতে মাঠে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাছাড়া ‘আওয়ামীলীগ-বিএনপি ভাই ভাই, এসো স্বতন্ত্র ঠেকাই’ এই শ্লোগান কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনে এখন সবার মুখে মুখে।
জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের অভিযোগ, গত পক্ষকাল ধরে আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মী সমর্থকরা তার কর্মী সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারনায় দফায় দফায় বাধা প্রদান, হামলা এবং তাদের বাসাবাড়ী ভাংচুর করলেও বিএনপির কর্মী সমর্থকরা বিনা বাধায় দিনরাত সমানতলে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে আসছেন। তিনি জানান, ‘আমার জনসমর্থন দেখে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচারনায় বাধা দিচ্ছেন। জেলা ও পার্শ্ববর্তি উপজেলা থেকে পাচ হাজারেরও বেশি বহিরাগতদের দিয়ে তিনি নৌকার প্রচারনার নামে শুধুমাত্র আমার জগ প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা করছে। তাদের বাসা বাড়ী ভাংচুর করছে।’ আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করতে একাধিক দলীয় জনপ্রতিনিধি এমন কি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের কুয়াকাটায় এনে প্রভাব বিস্তার করছেন। মূলতঃ তাদের নির্দেশেই আমার কর্মী সমর্থকদের রাস্তায় বের হতে দিচ্ছেনা। এমন কি নির্বাচনে মাঠে রাখার জন্য মনোনয়ন দাখিলের আগে বিএনপির প্রার্থীকে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পক্ষ থেকে ২০লাখ টাকা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় ইতিমধ্যে প্রকাশও হয়েছে-বলেন তিনি। আগামী ২৮ডিসেম্বর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ন পরিবেশে নির্বাচন নিয়ে তিনি শংকা প্রকাশ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা জানান, আওয়ামীলীগ কখনই বিএনপি-জামায়াতের সাথে জোট করেনা। যারা জ্বালাও পোলাও করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে তাদের সাথে একত্রিত হবার কোন প্রশানই ওঠেনা। তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাটকে ওস্তাদ। সবসময় নাটক করে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কুয়াকাটার জনগণ তা কখনই করতে দিবেনা। আবদুল বারেক মোল্লা জানান, গত পাঁচ বছরে কুয়াকাটায ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। আমার বিশ্বাস এই উন্নয়নের কারণেই এখানকার ভোটাররা তাকে পূনরায় মেয়র পদে নির্বাচিত করবেন। বহিরাগত এবং বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি আর কেন্দ্রিয় নেতাদের কুয়াকাটায় অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয় কর্মী সভায় যোগ দিতে তারা এসেছেন।
আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে ২০লাখ টাকা নিয়ে মনোনয়ন দাখিলের বিষয়ে সরাসরি অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন, কুয়াকাটায় বিএনপির শক্ত ঘাটি। যদি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে বিএনপির জয় অবশ্যই হবে বলে দাবী করেন তিনি। তিনি বলেন, এ কারনেই কুয়াকাটার একটি মহল বিএনপি বা আমাকে নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি সাধারন ভোটার ও দলীয় কর্মীদের এসব অপপ্রচার না শোনার জন্য অনুরোধ জানান।
দলীয়কর্মী ছাড়া ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থীর এখানে কোন নিজস্ব ভোট ব্যাংক না থাকলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী জানান হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ নুরুল ইসলাম মুসুল্লী।
তবে এখানকার সাধারন ভোটাররা চান আগামী ২৮ডিসেম্বর একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচনী পরিবেশ। যে পরিবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। কারণ হিসাবে তাদের মতামত, পাচ বছর আগে সর্বপ্রথম কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। জোড় করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, কেন্দ্র দখলসহ ভোট কেন্দ্রে না আসতে দেয়াই ছিল প্রধান কারণ।
যেমন কুয়াকাটা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মাঝিবাড়ী এলাকার বাসিন্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ‘৫৫বছর বয়স অইছে। কত বচ্ছর বাচি জানিনা। অন্তত এবার যেন একবারের জন্য অইলেও ভোট দিতে পারি-আপনারা সে বিষয়টা দ্যাহেন’। তিনি বলেন, মোর বাড়ীতে সতেরডা ভোট আছে। মাইয়া পোলা ছাড়াও মোর নাতীরা এবার ভোটার অইছে। এবচ্ছর যদি মোরা ভোট দিতে না পারি তাইলে মনে বড় কষ্ট পামু।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ডিসেম্বর কুয়াকাটা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আট হাজার একশ বাইশ জন মোট ভোটার রয়েছেন।

#

সর্বশেষ