১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কেঁচো সার উৎপাদনে সাফল্যঃ বদলে যাচ্ছে কয়েক’শ লোকের জীবনযাত্রা

সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।
কেঁচো সার বা জৈব সার উৎপাদন করে পটুয়াখালীর দশমিনায় প্রায় দুই শতাধিক কৃষক সফলতাকে ছুঁতে যাচ্ছেন। স্বপ্ন জৈব, কেঁচো ও ভার্মি কম্পোষ্ট সার তৈরির আলোয় নিজেকে আলোকিত করার। জমিতে কেঁচো সার ব্যবহার করে কৃষি খাতকে আরো সম্প্রসারিত ও নিজ পরিবারকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন উদ্যোক্তা গোপাল ভূপতি। তার মতো জৈব সার উৎপাদনকারীদের সংখ্যাও এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ উপজেলায়। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে কেঁচো ও গোবর দিয়ে উৎপাদিত জৈব সার জমিতে প্রয়োগে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা। এ জৈব সার ব্যবহারে তাদের জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূলের ফলনও ভালো হচ্ছে। গরুর গোবর, কলাগাছ ও কচুরিপানা থেকে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন তারা।
জানা যায়, একটি বেসরকারি এনজিও ভার্মি কম্পোস্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে উপজেলার প্রায় শতাধিক কৃষকদের। ভার্মি কম্পোষ্ট সার তৈরির ফর্মুলা তাদের উজ্জীবিত করলো। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, তার থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে উপজেলায় প্রায় ২শ’ কৃষক এ সার উৎপাদন করছেন।
উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের গোপাল ভুপতি বলেন, প্রথমে মাত্র ১০টি রিং ও ৫টি স্লাব দিযে গড়ে তুললো ভার্মি কম্পোষ্ট ও জৈব সার প্রকল্প। নিজেরাই কেঁচো উৎপাদন করে ছায়ায় শুখানো গোবরে ছেড়ে দিয়ে ২ মাসের মধ্যে উৎপাদনে চলে আসে। বাড়ি থেকে ভার্মি কেজি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করে গোপাল ভূপতি। এছাড়াও ভার্মি কম্পোস্ট উদপাদনকারীদের কাছে প্রতি পিচ কেঁচো ২টাকা দরে বিক্রি করেন । কেঁচো সংগ্রহ করে নিজের ফার্মের গরুর গোবর দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেন। ২০১৯ সালে কেঁচো সার উৎপাদনে প্রথম উদ্বুদ্ধ। প্রথমদিকে অল্প পরিমাণ সার উৎপাদন হলেও তার কর্মকা- দেখে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিলে নিজ বাড়িতে ভার্মি কম্পোস্টের প্রদর্শনী চালু করেন। বর্তমানে এখান থেকে সবজি চাষি ও নার্সারি মালিকরা প্রতি কেজি ১২-১৫ টাকা দরে জৈব সার নিয়ে যাচ্ছে এবং কেঁচো ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা প্রায় দ্বিগুণের বেশি। সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা পেলে ব্যবসার পরিধি আরো প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। লাইসেন্স সহজীকরণ করলে আরো বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এতে বেকার জনগোষ্ঠী এই পেশার সঙ্গে জড়িত হতে পারবে। কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণে কেঁচো সার চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই প্রণোদনার আওতায় তাদের নিয়ে আসার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান তিনি। তার সার উৎপাদন দেখে বেকার যুবকরা দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সকল প্রকার উপকরণ ও সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। জৈব সার উৎপাদন এবং নিজের সবজি ক্ষেত থেকে শুরু করে ধান ক্ষেতে সার ব্যবহার করছেন ।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের কাজী আনিচ বলেন, খুবই লাভজনক হওয়ায় অনেক নতুন উদ্যোক্তা এতে আকৃষ্ট হচ্ছে। আরেক নতুন উদ্যোক্তা বলেন, কেঁচো সার ব্যবহারে জমি ও গাছপালা ঠিক থাকে। অন্যদিকে রাসায়নিক সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। খরচও বেশি হয়। সবদিক বিবেচনায় লাভজনক হওয়ায় অনেকেই কেঁচো চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাই সরকারের উচিত এমন নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহামেদ জানান, ফসলি জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো ও কৃষকদের পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতেই সরকার জৈব সার উৎপাদনকারীদের নানা সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে জৈব সার উৎপাদনের বিষয়টি উপজেলার কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ায় চাষিরা কেঁচো সার ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমরা কৃষকদের পরিবেশবান্ধব জৈব সার ব্যবহারের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছি।
উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান নোমান জানান, এ উপজেলায় ১০লিটারের উপরে ২০খামার আর ৫লিটারের উপরে ১১৫টি গাভীর খামার রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ