২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গলাচিপায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গোলাম মস্তফার সহায়তায় শেখ হাসিনার উপহার ঘর পাচ্ছে ভূমিহীন হত দরিদ্ররা

তারিখঃ ৪ জুন ২০২১

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গোলাম মস্তফার সহায়তায় শেখ হাসিনার উপহার পাকা ঘর পাচ্ছে ভূমিহীন হত দরিদ্র পরিবারগুলো। গলাচিপা উপজেলার আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের আওতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘর দিচ্ছেন ভূমিহীন হত দরিদ্র পরিবারদের। উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নেও ঘর পাচ্ছেন হত দরিদ্ররা। চিকনিকান্দী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গোলাম মস্তফা ভূমিহীন হত দরিদ্রদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যাচাই বাছাই করে হত দরিদ্রদের ঘর দেওয়ার জন্য সুপারিশ করছেন। এতে প্রকৃত ভূমিহীন ও হত দরিদ্ররাই ঘরগুলো পাচ্ছে বলে মনে করেন চিকনিকান্দী ইউনিয়নের জন সাধারণ। চিকনিকান্দী ইউনিয়নের সূতাবাড়িয়া গ্রামের ভূমিহীন হত দরিদ্র বাসনা রানী বলেন, তহশীলদার আমাদের এখানে এসে ভূমিহীন হিসেবে আমাকে ঘরের জন্য সুপারিশ করে মালামালের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, চিকনিকান্দী থেকে উলানিয়া ভূমি অফিসে যাওয়া আসার গাড়ি ভাড়া তিনি তার পকেট থেকে দিয়ে দিয়েছেন। তার মত মানুষ হয় না। এ বিষয়ে ভূমিহীন হত দরিদ্র সূচিত্রা রানী দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চিকনিকান্দী ইউনিয়নের ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ অনেক বছর পর্যন্ত আছি। আমি একটি ঘরের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করি। তহশীলদার স্যারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমার নিজের কোন জায়গা ঘর না থাকায় আমার জন্য সুপারিশ করায় আমি একটি ঘর পেয়েছি। তিনি আমার কাছ থেকে এক কাপ চাও খান নি। বরং তিনিই আমাকে চা খাওয়াইয়াছেন এবং ঘরের জন্য সুপারিশ করেছেন। এখনো তার মত ভাল মানুষ আছে বলে পৃথিবীটা এখনও ভালো আছে। আমি তার ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি। তাদেরকে যেন সৃষ্টিকর্তা ভাল রাখেন। হত দরিদ্র ভিক্ষুক রাহিমা বেগম বলেন, আমি স্কুলের পাশে পলিথিনের বেড়া দিয়ে থাকতাম। তহশীলদার স্যার আমার এখানে এসে আমার এ অবস্থা দেখে আমাকে সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করতে বলেন। তার পকেট থেকে ১০০ টাকা দিয়েছেন আমাকে আবেদন করার জন্য। তার টাকা দিয়ে কম্পিউটার কইরা আমি ইউএনও স্যারের কাছে আবেদন দেই। তহশীলদার স্যারের সুপারিশে আমি একটি ঘর পেয়েছি। এখন আর আমাকে পলিথিনের ঘরে কষ্ট করে থাকতে হয় না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাকা ঘরে থাকি। আমি প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি। ইউএনও স্যার এবং তহশিলদার স্যারের জন্যও দোয়া করি। তারা সবাই যেন ভাল থাকেন। এ বিষয়ে চিকনিকান্দী ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা বিবেক দেবনাথ বলেন, চিকনিকান্দী ইউনিয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে অসহায়, ভূমিহীন ও হত দরিদ্ররাই ঘর পেয়েছে। এ বিষয়ে চিকনিকান্দী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গোলাম মস্তফা বলেন, ‘আশ্রায়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার’ হিসেবে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে গলাচিপা উপজেলায় চিকনিকান্দী ইউনিয়নে ভূমিহীন ও হত দরিদ্রদের যাচাই বাছাই করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিষ কুমার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলামের নির্দেশনায় ঘরগুলো দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘরগুলোর অগ্রাধিকার শুধুমাত্র অসহায়, ভূমিহীন, হত দরিদ্রদের। কোন টাকার বিনিময়ে এ ঘর বিত্তবানদের দেয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিষ কুমার বলেন, এই ঘর শুধুমাত্র ভূমিহীন ও অসহায় হত দরিদ্রদের জন্য। এই উপজেলায় প্রায় ৯শত ঘর দেওয়া হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ