১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

গলাচিপায় ড্রাগন ফলের চাষ করে চমকে দিলেন ছালমা খান

সজ্ঞিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
গ্রামের নিজ আঙ্গিনায় ড্রাগন চাষ করে চমকে দিলেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের কোটখালী গ্রামের মোঃ ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী এবং নারী উদ্যেক্তা ছালমা খান। পেশায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চাকুরী জীবি হয়েও নিজের এবং পরিবারকে করেছেন স্বাবলম্বী। ড্রাগন চাষের বিষয়ে তিনি জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ব্লুগোল্ড প্রকল্পের পটুয়াখালীর জৈনকাঠিতে ড্রাগন ফলন দেখে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে বিগত ২০১৭ সালের মাত্র ৬” ইঞ্চি’র ৩০ টি চারা দিয়ে এক শতাংশ জমির উপর আড়াই হাত গভীর, আড়াই হাত পাশ গর্ত খূরে গোবর সার এবং ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে শুরু করছিলেন এ ড্রাগন চাষ। বাড়ির আঙ্গিনায় ত্রিশটি চারা পরিচর্যার ফলে বছরের ঘুরতেই চারা গুলোতে ফুল এবং ফল দেয়া শুরু হয়। চারা গুলো বৃদ্ধির সাথে ড্রাগন ফুল এবং ফলের আকারো বৃদ্ধি হতে দেখে আমার আকর্ষণ আরো বেরে যাওয়ায় পরিবারের অনেকেই আমাকে ড্রাগন চাষে সহযোগিতা করেন। যার কারনে প্রতিবছরে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকার ড্রাগন ফল বাজারে বিক্রি করতে পারছি। এতে করি যেমনি আমার সংসারে একটি বার্তি আয় করে এক ছেলে এবং এক মেয়েকে ভালো ভাবে লেখা পড়াও করাতে পারছি বলেই ছেলেকে বরিশাল ক্যাডেট এ এবং মেয়েকে গলাচিপা সরকারি ডিগ্রী কলেজে পড়াশোনা করতে পারছে। যদিও বর্তমানে কোভিট১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারনে বাড়িতেই লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক জনসাধারণ তার এই ড্রাগন ফলের বাগন দেখতে আসতেও দেখা যায়। ভবিষ্যৎ এ তিনি আরো দশ শতাংশ জমির উপর সু-স্বাদু ড্রাগন চাষ করবেন বলে আশা ব্যাক্ত করেন। তিনি, জানান, আসলে এ ফলন চাষে প্রথমত একটু পরিচর্যা করলেও, পরবর্তীতে তেমন কোন পরিচর্যা বা সময় ব্যায় করতে হয়না। তবে, একটু উঁচু জায়গায় এবং পর্যাপ্ত আলোর স্থানে ড্রাগন চাষে আরো ভালো ফলন পাওয়া যায়। ড্রাগন ফলের শরীরের জন্য খুব উপকারি, এবং এতে অনেক পুষ্টি রয়েছে। যেমন ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি ৩, লোহা, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন বি ১, ফস্ফোরাস, ভিটামিন বি ২, ভিটামিন সি ৫ ইত্যাদি , যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে বলে এক গবেষণায় জানা যায়। ড্রাগন ফলের চাষ সম্পর্কে আরো জানা যায়, কখন ড্রাগন ফল চাষের উত্তম সময় ড্রাগন ফল সাধারণত সারা বছরেই চাষ করা যায়। অঙ্গজ পদ্ধতি বা বীজের মাধ্যমে ড্রাগন ফলের বংশবিস্তার হয়ে থাকলেও মাতৃ গুনাগুণ বজাই রাখার জন্য অঙ্গজ পদ্ধতিতে অর্থাৎ কাটিং এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করাই ভালো। কাটিং এর সফলতার হার প্রায় শতভাগ এবং তাড়াতাড়ি ধরে। কাটিং থেকে উৎপাদিত একটি গাছে ফল ধরতে ১২-১৮ মাস সময় লাগে। এটি মোটামুটি শক্ত প্রজাতির গাছ হওয়ায় প্রায় সব ঋতুতেই চারা রোপন করতে পারেন। তবে ছাদে ড্রাগন ফল চাষ করে ভালো ফলন পেতে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে চারা রোপন করলে সুফল পাওয়া যায়। এবিষয়ে গলাচিপা উপজেলার কৃষি অফিসার আরজু আক্তার সজ্ঞিব দাস সাংবাদিককে জানান, নারী উদ্যেক্তা ছালমা খান এর অসাধারণ ড্রাগন ফলের বাগানের বিষয়ে জেনে আমি অত্যান্ত গর্বিত। তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। তিনি যদি আরো পরিসরে ড্রাগন চাষ করেন, নিশ্চই সবসময় তাকে উপজেলা কৃষি অফিস সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন বলে তিনি ড্রাগন সফল চাষি ছালমা খান কে অভিনন্দন জানান।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ