১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

গলাচিপায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা মেলা

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সরকারী ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গনে ৫ এপ্রিল শুক্রবার দিনব্যাপী দুই’শ জন উদ্যোক্তাদের ৫০টি স্টল নিয়ে উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গলাচিপা সরকারি কলেজের মাঠে নিজের পণ্যের পসরা নিয়ে পুকুর পাড় ঘেঁষে বসে ছিল সব উদ্যোক্তরা। নিজের পণ্য ও পরিচিতি বাড়াতে এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা মেলার আয়োজক বৃন্দরা। মেলা মাঠে ছোট আয়োজন নিয়ে এক কোণে নিজের পন্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিল অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী মুসফিকা রহমান ঐশি। শারীরিক গঠনকে হার মানিয়ে ভিন্ন উচ্চতায় নিজেকে প্রমাণ করার জন্য নিজের হাতের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের মাস্ক, রুমালসহ বিভিন্ন সামগ্রী। ঐশি বলেন, প্রথমে দুই হাজার টাকা দিয়ে শুরু করি এ ব্যবসা। প্রথমে শখের বসে হলেও পরে এটাকে আমি ব্যবসা হিসেবেই দেখছি। গত বছর করোনাকালীন সময়ে আমি অনলাইন গ্রুপে যুক্ত হই। এর পর থেকে পড়াশুনার পাশাপাশি আমি অনলাইনে ব্যবসা শুরু করি। প্রতি মাসে আমার মোটামুটি আয় ভালোই হয়। সব টাকাই আমি জমা করে রাখছি। আমার কারুশিল্পের নাম জলফড়িং কারু শিল্প গলাচিপার উদ্যোক্তা মেলায় বরিশাল থেকে ছুটে এসছেন তানজিলা রহমান মুনিয়া, বরিশালে বসবাসরত এ গৃহিণী তার পণ্যের প্রসার ও পরিচয় ঘটাতে এ উদ্যোক্তা মেলায় যুক্ত হয়েছেন। বরিশালে শো রুম রয়েছে। গলাচিপাতে মেলায় মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়েছে। তা ছাড়া মূল উদ্দেশ্য ছিলো পরিচয় ঘটানো আর পণ্য সম্পর্কে ধারণা দেয়া। যা সফল বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, বেড শিটের বিভিন্ন ডিজাইন ও কাপড়ের রঙ পছন্দ করে দিলে তা ক্রেতার চাহিদা মতো সরবারাহ করা হয়।
এ মেলায় হাতের তৈরি খাবার, ফুল গাছ, মেয়েদের বিভিন্ন গয়না, কাপড়, বিভিন্ন ধরণের পোষাকসহ বিভিন্ন পণ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। উদ্যোক্তা মেলার আয়োজক কমিটি শুভ বলেন, এবারই আমরা প্রথম এ ধরণের মেলার আয়োজন করেছি। প্রথম আয়োজন হওয়ায় কিছু ঘাটতি রয়েছে। পরবর্তীতে আমরা এগুলো শুধরে নিবো।
মেলার আয়োজক তারান্ন তান্না তান্নুম লিজা বলেন, যেহেতু উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগ মেয়ে, তাই তাদের নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা থাকে, আমরা চাই আমাদের দেখা দেখি আরও অনেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। তিনি আরো বলেন, এখনো অনেক’ই বিভিন্ন উদ্যোক্তা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কিন্তু সাহস ও সুযোগ পেলে বেড়ে উঠা শিক্ষার্থীরা সব প্রতিবন্ধকতা ভেঙ্গে নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারবে বলে আমার আত্মবিশ্বাস।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ