৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গৌরনদীতে শাহ আলম হত্যার ঘটনায় ৩৩ জনকে আসামি করে মামলা, গ্রেপ্তার-৪

গৌরনদী প্রতিনিধিঃ
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে নির্বাচনত্তর সহিংসতায় তিন দিনে তিন জন নিহত হন। সর্বশেষ বুধবার দিবাগত রাতে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৯নং ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের ভায়রা ভাই শাহ আলম খান (৫৪)। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম বাদি হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দাযের করেছে। পুলিশ শুক্রবার এজাহারভূক্ত আসামি হারুন সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে। অপরদিকে নির্বাচনের দিন নিহত আবু বকর ফকির হত্যা মামলায় সন্দেভাজন তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আফজাল হোসেন জানান, বুধবার দিবাগত রাতে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহ আলম খান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী হাসিনা বেগম বাদি হয়ে জাকির মৃধা (৩৫), এনায়েত মৃধা (৫৫), জামান মৃধা (৪৫), ইলিয়াস মৃধা (৩৩), সালাম মৃধা (৫৬), সালাম সরদার (৫৪), হাদিস সরদার (২০), কামাল সরদার (৪২) ও সোবাহান মৃধাসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনকে আসামি করে শুক্রবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ কমলাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি হারুন সরদারকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া নির্বাচনের দিন সহিংসতায় নিহত আবু বকর ফকির হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন রাজ্জাক সরদার, বাবুল সরদার ও হালিম সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় লোকজন, নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে বোমা হামলায় বিজয়ী প্রার্থী ফিরোজ মৃধার চাচাতো ভাই মৌজে আলী মৃধা নিহত হয়। নিহত মৌজে আলীর ছেলে নজরুল ইসলম বাদি হয়ে ১০১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। বুধবার দুপুরে গৌরনদী বন্দরস্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে থানার সামনে কর্মসূচী পালন করে ফিরোজ মৃধার সমর্থকরা। কর্মসূচী পালণ করে তারা বাড়ি ফেরার পথে বার্থী-কমলাপুর সড়কের কমলাপুর বেইলী বিজ্রের সামনে পৌছে বুধবার সন্ধ্যায় মন্টু হাওলাদারের ফাসি চেয়ে শ্লোগান দেন। এ সময় মিছিলে থাকা ফিরোজ মৃধার সমর্থক জাকির মৃধা (৩৫), এনায়েত মৃধা (৫৫), জামান মৃধা (৪৫), ইলিয়াস মৃধা (৩৩), সালাম মৃধা (৫৬) পরাজিত প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের ভাতিজা অপু (১৫) ও ভাগ্নে সাগর সরদারকে (১৭) মারধর করে। কান্না শুনে মন্টু হাওলাদারের ভায়রা ভাই শাহ আলম খান দুই কিশোরকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় শাহ আলম খানকে হাসপাতালে ভর্তি করলে রাত ১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
উল্লেখ গৌরনদী নির্বাচনী সহিংসতায় তিন দিনে তিনজন নিহত হয়। এতে ১শত ৯০ জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় পৃথক তিনটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ