২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
উজিরপুরে সাঁকো থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু তালতলীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী কারাগারে কলাপাড়ায় নৌ-পুলিশের লাঠির আঘাতে জেলের মৃত্যু, বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী পটুয়াখালী জেলা পরিষদের নির্মিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য’ উন্মোচন কলাপাড়ায় নৌ-পুলিশের পিটুনিতে জেলের মৃত্যু , ৫ পুলিশ অবরুদ্ধ গৌরনদীতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে আত্মগোপন, ৯ বছর পর যুবক উদ্ধার আগৈলঝাড়ায় ইয়াবাসহ নারী বিক্রেতা গ্রেফতার করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ৫৬২ বরিশালে চলছে পণ্যবাহী ট্রাকের কর্মবিরতি বরিশালে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও রক্তক্ষরণে মৃত্যু পথযাত্রী ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রী

গৌরনদীতে স্ত্রীকে বেড়াতে নিয়ে এসে হত্যার পর সেফটি ট্যাংকিতে মৃতদেহ গুম

শামীম আহমেদ :: বরিশালে গৌরনদী উপজেলায় শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীকে বেড়াতে নিয়ে এসে হত্যার পর মৃতদেহ গুম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিরুদ্ধে। পুলিশের হাতে আটকের পর পরিচ্ছন্নতা কর্মী সাকিব হোসেন (২৪) তার স্ত্রী নাজনীন আক্তারকে (১৯) হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

সাকিব হোসেন পুলিশকে বলেন, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামের তার বাবার ঘরের পাশে সেফটি ট্যাংকিতে স্ত্রী নাজনীন আক্তারের মৃতদেহ গুম করেছেন।

এদিকে সাকিব হোসেনের কথার সূত্র ধরে মঙ্গলবার (১ জুন) সকাল ১০ থেকে সেফটি ট্যাংকিসহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে বগুড়া সদর থানা পুলিশের একটি দল। তাদের তল্লাশি কাজে সহায়তা করছে গৌরনদী থানা পুলিশ। তবে দুপুর ১ টা পর্যন্ত নাজনীন আক্তরের মৃতদেহের সন্ধান মেলেনি। তবে সেফটি ট্যাংকির ভেতর থেকে নাজনীন আক্তারের ওড়না ও শরীরের চামড়ার কিছু অংশ পাওয়া গেছে। নাজনীন আক্তার বগুড়া সদরের সাবগ্রাম (উত্তরপাড়া) এলাকার মো. আব্দুল লতিফের মেয়ে।

আটক সাকিব হোসেন গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামের আব্দুল করিম আকন্দের ছেলে। আড়াই বছর আগে বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে চাকরি পান সাকিব হোসেন। সেই সুবাদে তিনি বগুড়ায় থাকতেন।

নাজনীন আক্তার গত ২৪ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় গত ২৬ মে বাবা আব্দুল লতিফ বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে সেনানিবাস কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার সাকিব হোসেনকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

সাধারন ডায়েরি (জিডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ধর্মীয় রীতি মেনে সাকিব হোসেনের সঙ্গে নাজনীন আক্তারের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর নাজনীন তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। সাকিব গত ২৪ মে স্ত্রী নাজনীকে ফোন দিয়ে বলেন, তার (সাকিব) বাবা খুবই অসুস্থ। অসুস্থ বাবাকে দেখতে নাজনীনকে তার গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামে যেতে হবে। সাকিব নাজনীনকে গোদাপাড়া চারমাথা বাসস্ট্যান্ডে দ্রুত আসতে বলেন। এরপর নাজনীন তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সেখানে যান। এরপর বাসে করে গৌরনদীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর নাজনীনের সঙ্গে আর তার বাবা-মায়ের যোগযোগ হয়নি। পরবর্তীতে বাবা-মা নাজনীন ও সাকিবের নম্বরে কল করলে দু’টি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনা উল্লেখ করে আব্দুল লতিফ থানায় সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন।

সাধারন ডায়েরির (জিডি) তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপ পরিদর্শকের (এসআই) মো. গোলাম মোস্তফা জানান, নাজনীন নিখোঁজের ব্যাপারে খোঁজ নিতে সোমবার সাকিব হোসেনকে জিজ্ঞাসবাদ করা হয়। সাকিব হোসেন এসময় মিথ্যা কথা বলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেস্টা করেন। এরপর আটক করে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সাকিব বলেন, বাবা অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে গত ২৪ মে নাজনীনকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়ি গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামে আসেন। তার বাবা আব্দুল করিম পেশায় ভ্যান চালক। আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক। যদিও এসব কথা গোপন করে সাকিব নিজেদের অবস্থা সম্পন্ন পরিবারের ছেলে পরিচয় দিয়ে নাজনীনকে বিয়ে করেছিলেন। সাকিবের কাছে নাজনীন এসব কথা গোপন করার কারন জানতে চানতে চান। এসময় তাদের মধ্যে ঝগড়া বেধে যায়। একপর্যায়ে রাগে নাজনীন সাকিবকে ভিক্ষুকের ছেলে বলে গাল দেন। সাকিব এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজনীনের গলায় রশি দিয়ে ফাস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর বাবা-মায়ের সহায়তায় ঘরের পেছনে থাকা সেফটি ট্যাংকিতে স্ত্রী নাজনীন আক্তারের মৃতদেহ গুম করে বগুড়া ফিরে গিয়ে কর্মস্থলেযোগ দেন।

গৌরনদী থানার পরিদর্শক মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, সকালে সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশের একটি দল গৌরনদী আসেন। এরপর গৌরনদী থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তারা নাজনীনের মৃতদেহ উদ্ধারে বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামে যান। আগেই এ খবর পেয়ে সাকিবের বাবা-মা সেখান থেকে পালিয়েছেন। সকাল ১০ টা থেকে প্রথমে সেফটি ট্যাংকি পরিস্কার করে তার মধ্যে তল্লাশি করা হয়। কিন্ত তবে সেফটি ট্যাংকির ভেতর থেকে নাজনীন আক্তারের ওড়না ও শরীরের চামড়ার কিছু অংশ পাওয়া গেছে। মৃতদেহ সেখানে নেই। বাড়ির আশেপাশে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।’’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ