রবিবার, ০৫ Jul ২০২০, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

চন্দ্রমোহনে সরকারী ঘরের আশায় মেম্বারকে টাকা দিয়ে সব হারালো হতদরিদ্ররা

চন্দ্রমোহনে সরকারী ঘরের আশায় মেম্বারকে টাকা দিয়ে সব হারালো হতদরিদ্ররা

Print Friendly, PDF & Email

এম সাইফুল–
অসহায় ও ভূমিহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া সরকারী বসতঘর নিয়ে বানিজ্যে নেমেছে বরিশাল সদর উপজেলা চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ নজরুল ইসলাম ফোরকান । সরকারী ঘর পাইয়ে দেয়ার নামে ভূমিহীনদের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫হাজার টাকা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই মেম্বারের বিরুদ্ধে। এভাবে প্রায় অনেকের কাছ থেকে টাকা নিলেও কিছু মানুষের ঘর দেয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের ঘর দেয়া হয়নি তারা এখন টাকাও ফেরত পাচ্ছে না। বরং দিনের পর দিন ঘুরিয়ে অসহায় মানুষদের আরো বিপদে ফেলছেন ইউপি মেম্বার ফোরকান হাওলাদার। গণমাধ্যমের কাছে এমনই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা আরো বলেন, তিনি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ায় কেউ কোন প্রতিবাদ করেও সুবিধা পাচ্ছে না। নিজ ক্ষমতার বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেক কাছ থেকে ঘর দেয়ার নামে টাকা নিয়েছে। এছাড়া যারা বসতঘর পাওয়ার যোগ্য তাদের না দিয়ে সামর্থবানদের ঘর দেয়া হয়েছে। এদিকে করোনা মহামারীর মধ্যে একদিকে ঘর নেই, অপরদিকে নগদ সম্বলটুকু ঘরের জন্য মেম্বারকে দিয়ে বিপাকে রয়েছেন এসব পরিবার।
ভুক্তভোগী আনিছ জানান, প্রায় ২ বছর আগে ঘর পাওয়ার নামে ফোরকান মেম্বারের কাছে ২০হাজার টাকা দেই। কিন্তু ঘর তো দেয়নি বরং টাকা চাইতে গেলে ভয়ভীতি দেখায় এবং কাউকে না বলার জন্য বলে।
আরেক ভুক্তভোগী বৃদ্ধ মোখলেছ হাওলাদার জানান, প্রায় দুবছর আগে ফোরকান মেম্বারের কাছে ১০হাজার টাকা দেই সরকারী ঘর পাবো বলে। কিন্তু সে ঘর না দিয়ে বরং টাকা নিয়ে নয়ছয় করে। ভাঙ্গা ঘরেই হয়তো শেষ সময়কাল কাটাতে হবে। ১৫দিনের মধ্যে ঘর দেয়ার কথা বললেও ২বছর কেটে গেছে।
অপদিকে জেলেদের ভিজিএফ এর চাল নিয়ে রয়েছে অভিযোগ। চাল পেতে হলে কার্ড করাতে হবে। আর কার্ড করাতে ইউপি মেম্বারকে দিতে হয় ৩ থেকে ৪হাজার টাকা । নয়তো জেলেদের ভাগ্যে চাল জুটবে না। এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী অসহায় জেলে। এ ব্যাপারে ১নং ওয়ার্ডের চরসিংহরকাঠির মৎসজীবি জেলে সমিতির সভাপতি কুট্টি খাঁ জানান, জেলেদের চাল পাওয়ার কার্ড করার জন্য অসহায় এক জেলের নাম দেই। কিন্তু ফোরকান মেম্বার ৩ হাজার টাকা দাবী করেন। পরে টাকা দিতে দেরি হওয়ায় সে অন্যজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কার্ড দেয়।

এ ব্যাপারে ইউপি মেম্বার মোঃ নজরুল ইসলাম ফোরকান এর কাছে অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি কোন অসহায় পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেয়নি। যদি কেউ বলতে পারে জরিমানা দিবো। এই বলে ফোন আসছে বলে লাইনটি কেটে দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজিজ হাওলাদার জানান, আমার কাছে মেম্বারের বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি এবং ঘর পাওয়ার কথা বলে কারো কাছে থেকে টাকা নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমি অবগত নই। যদি কারো কাছ থেকে টাকা নেয় সে অভিযোগ আসে আমি ব্যবস্থা নিবো ।

 3,620 total views,  7 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2014 barisalbani