২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চরফ্যাশনে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার চরফ্যাশনে গভীররাতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা উঠেছে৷

আজ (৬ মার্চ) শনিবার সকালে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ৩নং ওয়ার্ডের আবদুর রহমান ফরাজি বাড়িতে৷জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মালিক ফারুক হোসেনের পুকুরের মাছ নিধন করেছে তার প্রতিপক্ষরা। সকালে পুকুরের মরা মাছ দেখতে এলাকার উৎসুক জনতা ভীড় জমায়৷পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভাসছে৷একে একে মরা মাছ ভেসে উঠছে৷ পুকুর থেকে মরা মাছ তুলে নুর নাহার ও তাজুল ইসলাম।এসময় প্রতিপক্ষ বসির, বিল্লাল ,আলমের মেয়েরা গৃহবধু নুর নাহারকে এলোপাথারীভাবে মারধর করে৷ আহত নুরনাহার বলেন শুক্রবার দিবাগত রাতে আমার ঘরের পিছনে পুকুরপাড়ে লোকজনের পায়ের শব্দ শুনে দরজা খুলে দেখি বসির ও বেল্লালসহ কয়েকজন টর্চ লাইট মেরে বস্তায় মাছ নিয়ে যাচ্ছে৷আমি চিৎকার করলে চোখে টর্চ মেরে ধরে রাখে৷এরপর ভোররাতে আমরা বসিরের ঘরে মাছের বস্তা তল্লাসী করতে গেলে সে দরজা খুলেনি৷ নুর নাহার আরও অভিযোগ করেন তারা আমাকে মারধর করে বলতে থাকে তোরে এমনভাবে মারবো কোন দাগ থাকবেনা৷৷ এরপরে স্বজনরা আমাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।এ বিষয়ে পুকুরের মালিক ফারুক হোসেন বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন৷

এ অভিযোগ বিষয়ে কাশেম ফরাজি ও আলম বলেন, নুর নাহারকে তাদের কেউ মারধর করেনি৷বিষ দিয়ে মাছ নিধন নিয়ে বসির ও বেল্লালের সাথে কথা কাটাকাটির সময়ে হাতাহাতি হয়৷৷এতে নুর নাহার সামান্য ব্যাথা পেতে পারে৷ পুকুরের মালিক ফারুক হোসেন বলেন, আদালতের বন্টন নামা রার উপেক্ষা করে জমিজমা নিয়ে কাশেম-আলমরা রিরোধ করে আসছে৷ সংসদ সদস্যের নিকট আবেদন করলে তিনি উভয় পক্ষকে সমঝোতা করতে জিন্নাগড় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেন৷ কয়েকদফা শালিসে বৈঠকে বিষয়টি এখন চুড়ান্তভাবে বিচারাধীন৷ এরইমধ্যে তারা আমার পুকুরে রাতের আধারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করে এবং আমার ছোট ভাইয়ের বউ এই ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে বাড়িতে প্রাকাশ্যে তাকে মারধর করে৷ পুকুর থেকে উদ্ধার করা ৬ বস্তা মাছ জিন্নাগড় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্হিতিতে বাজারে ১০হাজার ৩শ টাকা বিক্রি করা হয়েছে।রাতে লুট হওয়া মাছ উদ্ধার হয়নি৷

জিন্নাগড় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন ও গণমাধ্যমকর্মিরা ঘটনাস্হলে গিয়ে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনা দেখেন৷
পুকুরে রুই, কাতল, সিলভারকাপ শৈল,কৈ মিনারকাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির বেশ বড় সাইজের মাছ মারা গেছে। এতে মালিকের প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email