৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

‘চলচ্চিত্রটাকে পরীমনি সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে’: ঝন্টু

অনন্যা অনু, বিনোদন ডেস্কঃ ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নায়িকেই দুষছেন চলচ্চিত্র বরেণ্য চিত্রপরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। তিনি বলেন, পরীমনির সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটা ওর প্রাপ্য ছিল। যেমন কর্ম, তেমন ফল। এখন কান্দে আর বলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই। ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কেন চাইবে? প্রধানমন্ত্রীর কি খেয়েদেয়ে আর কোনো কাজ নেই? তিনি কি আমাদের এগুলো নিয়ে বসে থাকবেন! এখন আমরা মিডিয়াতে প্রায়ই দেখি, কারো কোনো সমস্যা হলেই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চান। প্রধানমন্ত্রী কি আমাদের বিচার করার জন্য আসছেন, নাকি দেশ চালানোর জন্য আসছেন? তিনি কী করবেন একা?

মদ খায় কেন একটা মেয়ে? বয়স কত? ২৫ বছরও তো হয় নাই! ওর পক্ষে কথা বলার মুখই তো আমাদের নাই। আমি যে ওর পক্ষে কথা বলব, কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে যে, রাত ১২টার সময় মদ খেতে ক্লাবে যায় কেন আপনাদের মেয়ে, ক্লাবে গিয়ে নাচানাচি আর ভাঙচুর করে কেন? এটার উত্তর আমি কী দেব? এর উত্তর তো আমার কাছে নাই। উত্তর একটাই, সরি।
আমাদের দেশে পরীমনির চেয়েও অনেক ভালো নায়িকা শাবানা, ববিতাসহ আরও যারা ছিল, তারা কি কখনো ড্রিংকস করেছে? রাত ১২টার সময় ক্লাবে গেছে? তাহলে পরীমনি যায় কেন?’ এ প্রজন্মের মাহিয়া মাহি ও শবনম বুবলীদের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এদের সম্পর্কে তো কিছু শুনি না। পরীমনির নামে এতকিছু শুনি কেন? দোষটা কার? আমি তো বলব, ও দোষ না করলেও দোষ ওরই।

মিডিয়ার মানুষদের এমনিতেই বেশিরভাগ মানুষ পছন্দ করেন না। অন্য চোখে দেখেন। সেসব মানুষদের ভাবনাটাকে আমাদের মেনে নিতে হবে। তার মধ্যে পরীমনির বিষয়ে যা শুনতেছি, সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে আমরা লজ্জা পাই। সে গভীর রাতে ক্লাবে গিয়ে নাচানাচি করে, মদ খেয়ে পড়ে থাকে। এটা আমাদের কাছে লজ্জার ব্যাপার। ওর সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারি, কিন্তু বলব না। কারণ সেটা আমাদের ঘাড়েই পড়বে, আমাদের মেয়ে।

পরীমনিকে নিয়ে ছবি করার অনেক শখ ছিল। মেয়েটা দেখতে সুন্দর, ফিগার ভালো। কিন্তু এখন যদি কোনো প্রযোজক পরীমনিকে নিয়ে ছবি করতে বলে আমি বলব, না, ওর কাছে যাবো না। ওর ইমেজ শেষ। ওকে দেখে আর কেউ টিকিট কাটবে না। ওর অনেক কিছু জেনে গেছে, অনেক কিছু দেখে ফেলেছে মানুষ। কত নোংরা নোংরা ছবি ফেসবুকে আসতেছে। এগুলোর পর ওর ইমেজ আর আছে নাকি?

নায়িকাদের দর্শক স্বপ্নের নায়িকা মনে করে। কিন্তু স্বপ্নের নায়িকার সবকিছু যদি ফেসবুকেই দেখা যায়, তাহলে তো স্বপ্নটা শেষ। স্বপ্নের ঘুম ভেঙে গেছে। তাই, যে নায়িকা চলচ্চিত্রকে প্রাধান্য দেয় না, সে অন্যখানে প্রধান্য দিচ্ছে ডেফিনেটলি। চলচ্চিত্রটাকে পরীমনি একটা সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন নায়িকার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে তোলপাড় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে রাতে বনানীর নিজ বাসায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন পরী। সে রাতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেন চিত্রনায়িকা। জানান, ৮ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা চালান ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ।

পরীমনির এ ঘটনায় দেশজুড়েই চলছে আলোচনা। যদিও এ আলোচনায় নতুন উপাদান যোগ করেন ঢাকার অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কে এম আলমগীর ইকবাল। তিনি বলেছেন, ওই রাতে ক্লাবে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন পরীমনি।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ