২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জরুরি সংস্কারের অপেক্ষায় দশমিনার ৪৫০ বছরের পুরনো মসজিদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আছে মুঘল আমলের ৪৫০ বছরের পুরনো মুন্সি আমিরুল্লাহ জামে মসজিদ। সংস্কারের অভাবে যা এখন বিলুপ্তির পথে। অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহাসিক এ স্থাপনা মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন। তাই এর সংস্কার জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আদমপুর গ্রামে আনুমানিক ৪৫০ বছর আগে মুন্সি আমিরুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। যা এখনও স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

মুন্সি আমিরুল্লাহর বংশধরদের আর্থিক অনটনের কারণে এর রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কার না হওয়ায় মসজিদটি এখন কালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে।

এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি চুন-সুরকি দিয়ে বানানো। মূল ভবনের চারপাশ ২০০ বর্গফুট। উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। একতলা মসজিদটির চারপাশেই আছে নিখুঁত কারুকাজ। মসজিদের ভেতরের দিকে রয়েছে কারুকাজখচিত মুসলিম চিত্রকলার নমুনা।

এতে এখন একসঙ্গে ২০-৩০ জন মুসুল্লি একত্রে নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে পলেস্তারা খসে ইট বের হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিও ভেতরে পড়ে একাকার হয়ে যায়। দেয়ালে শ্যাওলা জমে বিবর্ণ হয়ে গেছে বাইরের দিকটা।

আমির উল্লাহ মুন্সির বংশধর শাহ আলম মুন্সি (৮১) বলেন, ‘অনেকবার খুলনা ও ঢাকা থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন মসজিদটি পরিদর্শন করে গেছেন। অনেক মাপামাপিও করেছেন, ছবি তুলেছেন। আমার পূর্বপুরুষদের জীবনকাহিনিও জানতে চেয়েছেন। তবে একবার চলে যাওয়ার পর খোঁজ নেননি কেউ।’

বহরমপুরের ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর উদ্যোগ নিলে এটি হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান। মসজিদটির সংস্কার হলে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ‘ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মসজিদটিকে আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এরপরে কারুকাজগুলোকে ঠিক রেখে সংস্কার করতে হবে।’

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘দশমিনাতে মুঘল আমালের এমন একটি মসজিদ যে আছে তা জানাই ছিল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে দেখবো। ওই মসজিদে এখন যেহেতু মানুষ নামাজ আদায় করছে, তাই এর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের উপ-পরিচালক লাভলী ইয়াসমীন বলেন, ‘মুন্সি আমিরুল্লাহ জামে মসজিদটি যদি মুঘল আমলের হয়ে থাকে, তবে পর্যবেক্ষণ করে অবশ্যই প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাভুক্ত করা হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ