৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ভোলায় অনলাইন মার্কেটিং ও কমিউনিটি মিনি ফেয়ার ২০২২ অনুষ্ঠিত নৌকা মুক্তির সোপান, দেশের মানুষকে মুক্তি দিয়েছে নৌকা নির্ধারিত সময়ের পাঁচ ঘন্টা আগেই শুরু হলো রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় পরিষদকে বরিশাল নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা শেখ হাসিনা সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় না এলে এদেশে কোন সম্প্রীতি থাকবে না আবারও এদেশে পাকিস্তানী পতাকা উ... জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হলেন বরিশালের মামুন-অর-রশিদ বরিশালে কর্মীদের জুতাপেটা করে শাসন করলেন ছাত্রলীগ নেতা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে পুনরায় পদ পেলেন বরিশালের দুই সাংবাদিক "টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ" ক্যাম্পাস জীবনের শেষ প্রান্তে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন

জল্লায় দুই নারীর সহিংস নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ইউনিয়নবাসী

উজিরপুর প্রতিনিধি :: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে দুই নারীর সহিংস নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ইউনিয়নবাসী। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকেই আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা বেড়েই চলেছে। কে পাবে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের দলীয় মনোনয়ন। এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

তবে শান্তিপ্রিয় সাধারণ ভোটাররা জানান, ২০০৪ সালে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান অবনী ভূষণ বাড়ৈ। ওই সালের উপনির্বাচনে তার স্ত্রী উর্মিলা বাড়ৈ নির্বাচিত হয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা দুই বারে ১২ বছর ক্ষমতায় থাকেন। তবে তার আমলে ২০০৫ সালে খাদ্য গুদাম থেকে গম আত্মসাতের অভিযোগে মামলায় ২ বছরের সাজা হয়। দীর্ঘদিন তিনি কারাভোগ করেন। ২০১৫ সালে কুড়লিয়া বাজারের এক দোকানদার খুন হওয়াকে কেন্দ্র করে উর্মিলা বাড়ৈর নেতৃত্বে হাজার হাজার জনতা কুড়লিয়া পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও করে হামলা চালায়। এ সময় অনেক পুলিশ সদস্য আহত হয়। ওই মামলায় তিনি আসামী হয়েছিলেন।

২০১৬ সালে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ হওয়ায় উর্মিলা বাড়ৈ দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বিশ্বজিত হালদার নান্টুর কাছে পরাজিত হয়। এর পরে উর্মিলা বাড়ৈ বরিশাল জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলা পরিষদ থেকে ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কুড়লিয়া বাজারের দক্ষিণ দিকে একটি ফসলের মাঠে যাত্রী ছাউনি করেন। যাত্রী ছাউনি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ হওয়ায় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জেলা পরিষদও তার অনিয়ম দূর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠে। শুরু হয় নান্টু বনাম উর্মিলা গ্রুপের দ্বন্ধ। এ কারণেই ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত হালদার নান্টুকে প্রকাশ্য দিবালোকে কারফা বাজারে তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে ভাড়াটে খুনিরা গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরে হাজার হাজার বিক্ষুব্দ জনতা রাস্তাঘাট অবরোধ করে স্থানীয় একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের ব্যাপক বেগ পেতে হয়। এ ঘটনায় উর্মিলা বাড়ৈ গ্রুপের মামুন শাহ, রাব্বী, সমরেশ, নান্নু, পান্নু, উর্মিলা বাড়ৈর ছেলে অচিন্ত্য বাড়ৈ, পার্শ্ববর্তী এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। মামলায় মাদারীপুরের ভাড়াটে খুনি রবিউল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়। শুরু হয় পুরো এলাকায় বিশ্বজিত হালদার নান্টুর স্ত্রী বেবী গ্রুপের দাপট। ঘটনার পরে ২০১৯ সালে বিশ্বজিত হালদার নান্টুর স্ত্রী বেবী রানী দাস উপ-নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন। এরপর থেকে শুরু হয় বেবী রানী দাস বনাম উর্মিলা বাড়ৈ গ্রুপের দ্বন্ধ। উভয়ই বিভিন্ন সময়ে শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকতেন। সহজ সরল বেবী রানী দাসকে এতবড় গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় হিমশিম খেতে হয়।

সম্প্রতি ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিপালী রানীর সাথে বেবী রানী দাসের মতানৈক্য শুরু হয়। এর সূত্র ধরে ইউপি চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত একটি কপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পৌছলে দিপালী রানীকে মন্ত্রণালয় সাময়িক বরখাস্ত করে। এ বিষয় নিয়ে দিপালী রানী ও বেবী রানী দাসের ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি টাকা ভাগ বাটোয়ারার একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়, শুরু হয় তোলপাড়।

স্থানীয় লিটু, জহর, সাইফুল ইসলামসহ অগণিত এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, ২ বিক্ষুব্দ নারী নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে এসে তৃতীয় কাউকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিলে জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ