১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই কর্মস্থলে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক বরিশালে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের ঈদ পুনর্মিলনী ও মধুমাস উদযাপন কাউখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের নতুন চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. কাজী শহীদুল আলম ভোলায় পুলিশের সহায়তায় বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে খুঁজে পেলো নিরাপদ আশ্রয়স্থল পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হলেন অধ্যাপক ডাঃ মনিরুজ্জামান শাহীন নির্মিত হলো জিনিয়া জিনি'র মিউজিক ভিডিও 'ও সাথী' ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ২টি হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী বিপ্লব উজিরপুরে গ্রেফতার

ঝড়ে লন্ডভন্ড গাছপালা ও ৭’শ বাড়ি-ঘরঃ বৃদ্ধ নিহত

মুহাম্মাদ আবু মুসা : বগুড়ার গাবতলীতে বয়ে যাওয়া ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে। এতে অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে এবং সবজীসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭শত বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অপর দিকে ঘরের চাপা পড়ে আজিজার রহমান (৬৩) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। নিহত বৃদ্ধ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের আটবাড়িয়া আদর্শ (গুচ্ছগ্রাম) গ্রামের জামাতুল্লাহ’র ছেলে। জানা গেছে, গত ২৬মে মঙ্গলবার রাত ১১টার পর পরই ঝড় এর সাথে শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। এই ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বিভিন্ন স্থানের ন্যায় গাবতলী উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের কম বেশী প্রতিটি গ্রাম। এতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয় সবজীসহ বিভিন্ন ফসলের। তাছাড়া ছোট বড় অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে যায় এবং প্রায় ৭শত বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে বা পড়ে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। অপর দিকে ঘরের উপর গাছ আর সেই ঘরের চাপা পড়ে আজিজার রহমান (৬৩) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নেই কম বেশী ক্ষতি সাধন হলেও সব চেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে সোনারায়, কাগইল, দক্ষিনপাড়া ও নেপালতলী ইউনিয়নে। উপজেলার রামেশ^রপুর ইউনিয়নের সাতচুয়া গ্রামের সবজী চাষী রেজাউন নবী আলমগীর এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি দেড় বিঘা জমিতে সবজী যথা করলা, মরিচ, বটবটি ও পোটল চাষ করে ছিলাম। যা বিক্রি করে ২লাখের অধিক টাকা লাভবান হতাম। কিন্তু বয়ে যাওয়া ঝড়ে তা সম্পূর্ণরুপে ক্ষতি সাধন হয়েছে। তিনি (আলমগীর) আরো জানান, খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খাঁন রবিন ও ইউপি চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী খোঁজ-খবর নিলেও কৃষি অফিসের কেউ খবর নেননি। সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, গাবতলী উপজেলার মধ্যে সব চেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে সোনারায় ইউনিয়নে। এমনকি ঝড়ে ঘরের চাপা পড়ে একজন মানুষও মারা গেছে। কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আগা নিহাল বিন জলিল তপন জানান, বাড়ি-ঘর বিধ্বস্তসহ গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে এবং সবজীসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কাগইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। ফলে তিনি (তপন) কাগইল ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বয়ে যাওয়া ঝড়ের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খাঁন রবিন। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খাঁন রবিন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঝড়ে বহু মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রওনক জাহান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, ঝড়ে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নেই কম বেশী ক্ষতি সাধন হলেও সব চেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে সোনারায়, কাগইল, দক্ষিনপাড়া ও নেপালতলী ইউনিয়নে। ইতিমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় রয়েছে, দুর্গত এলাকার মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৩হাজার, বিধ্বস্ত বাড়ির সংখ্যা আনুমানিক ৫শত, আংশিক বিধ্বস্ত বাড়ি ৪শত, সর্ম্পূণ বিধ্বস্ত বাড়ি একশত। ঝড়ে নিহত হয়েছে একজন। বয়ে যাওয়া ঝড়ের কারনে বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় এখন অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। যে কারনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের সহযোগিতা করতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্ব স্ব এলাকাবাসি।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ