২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ঢাকা-বরিশাল লঞ্চ চলাচলে নতুন সূচি

অনলাইন ডেস্ক।।
যাত্রী কমে যাওয়ায় লোকসান ঠেকাতে ঢাকা-বরিশাল নৌ-পথে লঞ্চ চলাচলে নতুন সূচি তৈরি করেছেন এ পথে চলাচলকারী নৌযানের মালিকরা। মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল সংস্থার (যাপ) ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা নদীবন্দর নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও নৌযান মালিক কমিটির নেতৃবৃন্দের এক বৈঠকে এ সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল সংস্থার সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, প্রতিদিন তিনটি লঞ্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে বরিশাল আসবে এবং তিনটি লঞ্চ বরিশাল থেকে ঢাকা যাবে। বৈঠকের সিদ্বান্ত অনুযায়ী কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

এখন থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটের ১৮টি লঞ্চ চলাচল করবে। এ ১৮ লঞ্চ ছয়টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক গ্রুপে পারাবত ১১, সুন্দরবন ১১ ও কীর্তণখোলা ২; খ গ্রুপে সুরভী ৮, মানামী ও অ্যাডভেঞ্চার ৯; গ গ্রুপে সুন্দরবন ১০, পারাবত ১২ ও অ্যাডভেঞ্চার ১; ঘ গ্রুপে পারবত ৯, সুরভী ৭ ও প্রিন্স আওলাদ ১০; ঙ গ্রুপে পারাবত ১০, সুন্দরবন ১৬ ও কুয়াকাটা ২ এবং চ গ্রুপে সুরভী ৯, পারাবত ১৮ ও কীর্তণখোলা ২০।

মাঝ নদীতে কোনো লঞ্চ অন্য লঞ্চকে ওভারটেক করতে পারবে না। যে লঞ্চ যার পিছনে ছেড়ে আসবে গন্তব্যে ওই লঞ্চের পিছনেই থাকতে হবে। কোনোভাবে প্রতিযোগিতা করা চলবে না। এ সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে মানতে লঞ্চের মাস্টারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে রিণ্টু জানান। তবে কখন থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে তা জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল সংস্থার সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, “আমরা একটি আলোচনা সভা করেছি। কীভাবে ধ্বংসের পথ থেকে এ ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখা যায়। সেই বিষয়ে বিভিন্ন লঞ্চ মালিক নানা প্রস্তাবনা দিয়েছেন। সেই প্রস্তাবনার আলোকে আমরা তিনটি করে লঞ্চ চালানোর সিদ্বান্ত নিয়েছি।”

রিন্টু বলেন, “লঞ্চ ব্যবসায় হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। কিন্তু যাত্রীর অভাবে এ লঞ্চ ব্যবসা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন লঞ্চ মালিকরা ১ থেকে ২ দুই লাখ টাকা করে লস দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা বাঁচব কীভাবে!”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে লঞ্চের ডেকে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ যাত্রী হয়। কেবিনের ৭০ ভাগ খালি থাকে। লঞ্চ বন্ধ করলে মানুষ কী বলবে। তাই আর্থিক ক্ষতি মেনে চালিয়ে যাচ্ছি।”

সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা নদীবন্দর নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনা কমিটির জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল ও ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মামুন অর রশিদ। লঞ্চ মালিকরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এ সকল সিদ্বান্ত কবে থেকে কার্যকর করা হবে তা নিশ্চিত না করলেও রিন্টু বলেন, এতে করে কিছুটা হলেও যাত্রী সংকট কাটানো সম্ভব হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ