মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বিজিবি কর্তৃক উন্নতমানের ৮টি স্বর্ণের বার আটক চলমান কর্মসূচী অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের হাতিয়ার : পিরোজপুরে ড. সায়েম আমীর নাজিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে দোয়া ও আলোচনা সভা ভান্ডারিয়ায় ইজিবাইকের চাপায় বৃদ্ধ নিহত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপন করুন : ডিসি খাইরুল আলম পটুয়াখালীতে র‌্যাবের হাতে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার কোনো ধর্মেই খারাপ কাজ করতে বলা হয়নি : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বাউফলে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু বরিশালে নববধূকে আটকে রেখে ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেফতার বরগুনায় কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে আটকে রেখে ধর্ষণ, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
এখনো ও দালাল মুক্ত হয়নি চরফ্যাশন হাসপাতাল, জরুরী চিকিৎসা সেবায় রোগী ধরার দালাল!

এখনো ও দালাল মুক্ত হয়নি চরফ্যাশন হাসপাতাল, জরুরী চিকিৎসা সেবায় রোগী ধরার দালাল!

Print Friendly, PDF & Email
এম লোকমান হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
দালাল মুক্ত হয়নি চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রোগী ধরার এসব দালাল হাসপাতালের ভেতর বাহিরসহ রোগী সেবা দেয়ার চিত্রও দেখা যায় সচরাচর। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ওয়ার্ড বয় ও জরুরি বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী দালালী করে নামে – বেনামে এম্ব্যুলেন্স, ঘর ও  জমির মালিক হয়েছেন।  চরফ্যাশন হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় মনির মাএ ২ টি এম্ব্যুলেন্সের মালিক। তবে সংবাদ কর্মীকে ১ টির অর্ধেক মালিকের কথা স্বীকার করেন মনির। চরফ্যাশন হাসপাতালের অপর এক এম্ব্যুলেন্স চালক জসিম তিনি নাকি বর্তমানে ৩ টি এম্ব্যুলেন্সের মালিক! অবশ্য এই প্রতিবেদককের কাছে তার কোন এম্ব্যুলেন্স নেই বলে দাবী করেন। আগে ভোলার একটির সাথে শেয়ার থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি।
জনমনে প্রশ্ন একজন ওয়ার্ড বয়, চালক ও জরুরি  বিভাগের  কর্মচারী এত সম্পদের মালিক হয়েছেন কিভাবে?
তাছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগণস্টিকসহ হাসপাতাল সংলগ্ন অসংখ্য ওষুধের দোকানের কর্মচারীদের সক্রিয় সিন্ডিকেট রোগী ধরে স্ব -স্ব প্রতিষ্ঠানে নিয়ে ওষুধ ও সরঞ্জামসহ কেনা -কাটা  এবং বেসরকারি ডায়গণস্টিক কিংবা হাসপাতালের সেবা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কমিশন হাতিয়ে নেয় রোগীর স্বজন ও নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে। এমন তথ্যও রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে। আইন অনুযায়ী সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২শ গজের ভেতর কোনো বেসরকারী হাসপাতাল কিংবা ডায়াগণস্টিক থাকার নিয়ম না থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার। এছাড়াও ড্রাগ লাইসেন্স ও প্রশিক্ষিত ড্রাগ ফার্মসিস্ট ছাড়াই শতাধিকের বেশি ওষুধের দোকানও রয়েছে চরফ্যাশন সরকারী হাসপাতালের দেয়াল ঘিরে।
ওষুধের দোকানের কর্মচারি ও দালাল শ্রেণীরা রোগীদের কৌশলে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় দোকান ও ডায়গণস্টিক সেন্টারে। ফলে সেখানে রোগীরা অতিরিক্ত মূল্যে সেবা ও চড়া মূল্যে ওষুধ ক্রয় করতে হয়। চরফ্যাশন হাসপাতাল এলাকায় নারী পুরুষ ও কিশোর যুবকসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন দালাল সবসময় হাসপাতালের ভেতর বাহিরে রোগী ধরার জন্য অবস্থান করতেও দেখা যায় প্রতিদিন। জরুরী বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে জরুরী বিভাগের কাজে সহায়তা করতেও দেখা যায় এসব বহিরাগত দালালদের। এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাসে নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধি। স্বাস্থ্য সচেতনতা না মেনেই রোগীদের সেবা দিচ্ছে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারসহ একাধিক বিভাগে।
এই বিষয় চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শোভন কুমার বোশাকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, প্রশাসনের সহায়তার প্রয়োজন। প্রশাসন ছাড়া আমরা কিভাবে দালাল মুক্ত করবো। এছাড়া যদি কোনো বহিরাগত লোক বা দালাল দ্বারা জরুরী বিভাগে কার্যক্রম হয়ে থাকে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবং করোনা সচেতনতায় রোগীরা যেন টিকিট কাউন্টারে ভিড় করতে না পাড়ে সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন ওষুধ প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগণস্টিকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দালাল শ্রেণীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সচেতন মহল দালাল মুক্ত হাসপাতাল চায়। প্রশাসনের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করছে তারা।

 868 total views,  9 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

add



© All rights reserved © 2014 barisalbani