১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

দুটি সংসার তছনছ ! বরিশালে প্রনয়ের ডোরে আবদ্ধ হলেন শিক্ষক-শিক্ষিকা

বরিশাল বাণী: বরিশালে একবধূর দুই স্বামী বরিশাল প্রতিনিধি বরিশালের হিজলা উপজেলা সদর টি টি এন্ড ডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজী জাকির হোসেন।

এক পুত্র সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই সংসার করছিলেন তিনি। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার তার সংসারে দ্বিতীয় স্ত্রীর দাবী নিয়ে আগমন করে তারই সহকর্মী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা পারভিন। সেলিনা পারভিনেরও রয়েছে এক পুত্র সন্তান এবং স্বামী।

গত সোমবার (২৪ আগষ্ট) তারা দু’জন ভালোবেসে এবং একমত হয়ে বিয়ে করেন বলে সাংবাদিক এবং নিজ নিজ পরিবারের নিকট স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে শিক্ষকের ঘরে স্ত্রী-সন্তান এবং শিক্ষিকার ঘরে স্বামী-সন্তান রেখেই দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাদের উভয়ের পরিবারে চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে এবং উভয়ের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা সদর সংলগ্ন খুন্না গোবিন্দপুর এলাকার কাজী আবুল কাশেম এর বড় ছেলে উপজেলা সদর টি টি এন্ড ডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজী জাকির হোসেন গতবছর ডেপুটেশনে কর্মরত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। ওই সময় জাকির উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইউনিয়নের বদরপুর ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বেপারীর মেয়ে সেলিনা পারভিনের সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাদের দু’জনের মধ্যে জাকির ১৩ বছর পূর্বে বিয়ে করে কানিজ ফাতেমা নামে এক মেয়েকে। তাদের ১০বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে এবং উভয়েরই ৫ বছরের বড় ছেলে এবং সেলিনার বিয়ে হয় ৭ বছর পূর্বে স্থানীয় রফিক আকন নামে এক যুবকের সাথে। তাদেরও ৬ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। এ বিষয়ে জাকিরের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা বলেন, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই আমার স্বামী অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছে। এখন হয় আমিই একমাত্র স্ত্রী হিসেবে তার সংসার করবো, নয়তো আইনের আশ্রয় নেবো। আমি আমার শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের সীদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। জাকিরের পিতা কাজী আবুল কাশেম জানান, আমার ছেলে যা করেছে, তা মারাত্মক অন্যায়। এখন তাকেই সীদ্ধান্ত নিতে হবে কার সাথে সে সংসার করবে। তবে, দুই বউ নিয়ে সে আমার বাড়ী থাকতে পারবেনা বলে জানান জাকিরের পিতা। অপরদিকে সেলিনা পারভিনের স্বামী রফিক আকন জানান, যে নারী ঘর থেকে বেড়িয়ে যায় তাকে কি আর ঘরে তোলা যায়? তবে, যে লোকটি তাকে বিয়ে করেছে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যে, একজন নারীর স্বামী থাকা অবস্থায় সে কিভাবে বিয়ে করলো ওই নারীকে। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন ও তার নববধূ সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা পারভিন জানান, আমাদের বিয়ে উভয় পরিবার আমাদের বিয়ে মেনে নিয়েছে। হিজলা থানা অফিসার ইনচার্জ অসীম সিকদার জানান, বিষয়টি নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মজুমদার জানান, ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে জানার চেষ্টা করে উভয় পরিবারে যেন শান্তি বজায় থাকে তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ