২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রাঙ্গাবালীতে রাসাদ হত্যাকারীর ফাঁ*সির দাবিতে মানববন্ধন হেরাররশ্মি’র বার্ষিক শিক্ষাসফর ও শিল্পী সমাবেশ অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীতে মন্দিরে চুরি, পিতলের প্রতিমা ও স্বর্ণালংকার লুট নলছিটিতে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ৩ নাজিরপুরে ভ্যান চালিয়ে বিএ পাশ করলেন হায়দার আলী তালতলীতে খালাকে হত্যার পর কানের রিং বিক্রি করে খুনিকে টাকা দেয় ভাগ্নে পটুয়াখালী পৌর নির্বাচনে প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় প্রার্থীরা বরিশালে বুফে রেস্তোরাঁয় আগুন, আহত বিএম কলেজের ছাত্রী বরিশালের বাজারে রমজানের আগেই বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম উজিরপুরে মাদ্রাসার পরিত্যক্ত ঘর থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধ’র মরদেহ উদ্ধার

দেশসেবায় অনন্য ছিলেন শহীদ কনস্টবল পারভেজ, দেশ সেবায় জীবন দান

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

স্যালুট হে বীর!

মাত্র বাইশ বছর বয়সে ছিল ছেলেটার, পুলিশের কনস্টবলের চাকুরি করত। দিনে ষোল থেকে আঠারো ঘন্টা ডিউটি, ছুটি নেই। মাথার উপরে অফিসারের বকাঝকা, আর নীচে পাবলিকের গালি। এর মধ্যেই কক্সবাজার সমুদ্রের পাশে ট্যুরিস্ট পুলিশ ব্যারাকে কেটে যাচ্ছিল জীবন।

গালি দেবার বেলায় বাঙালি বড়ই স্মার্ট। সুযোগ পেলে ট্রাম থেকে পুতিন, পেলে থেকে ম্যরাডোনা বা মেসি-নেইমারের মায়ের সাথেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে এক মুহূর্ত দেরি করেনা। আর পুলিশ হলে তো কথাই নেই! চোর-ডাকাত, ইয়াবা বেন্ডার বা যে কোন বদমাশ তারাও ভাবে একমাত্র পুলিশ ছাড়া এদেশের বাকি সবাই স্বয়ং ভগবান প্রেরিত দেবদূতবিশেষ! পান থেকে চুন খশলেই সব পুলিশের ঘাড়ে পড়ে। দেশের সব দায়িত্ব যেন শুধু পুলিশের।

এতো প্রশ্নবিদ্ধ পেশা হওয়ার সত্বেও বৃদ্ধ মায়ের ঔষধের খরচ আর স্কুল পড়ুয়া বোনের লেখাপড়ার খরচ যোগাতেই পুলিশের মতো চ্যালেঞ্জিং পেশাকেই বেছে নিয়েছিলো পারভেজ। সেবা ও দায়িত্বপূর্ণ এই পেশাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলো ক’দিন আগে কৈশোর ফেলে আসা পারভেজ।

সবকিছু শৃঙ্খলার ভেতরে ভালোই কেটেছিলো দিন। গরীব দেশ, এক দেড় হাজার মানুষের জন্য পুলিশ কতজন তা মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খোঁজা লাগে। দুর্নীতি, নোংরামির দুষ্টচক্র তো আছেই! সরকারের বরাদ্দ অতি সামান্য, মাথাপিছু দৈনিক ৪০ পয়সার কাছাকাছি ট্যাক্স দেয় জনগণ- আর আশা করে ওতেই দেশের পুলিশ USA পুলিশের চেয়েও আধুনিক হবে।

ছেলেটার ছোট্ট মাথায় এতসব খেলে না, ও শুধু জানে- পুলিশের চাকুরি মানে চোর ডাকাতের হাত থেকে মানুষকে বাঁচানো। ওটা করতে গেলে প্রাণ যায় যাক, তাও মান বাঁচুক! চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারীর সামনেতো পুলিশ পিছু হটতে পারেনা।

২৩ জুলাই ২০১৫ বৃহষ্পতিবার সকালে কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্টে ট্যুরিস পুলিঃ ব্যারাকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল পারভেজ। না, ডিউটি শুরু হয়নি তখনও। এমনিই এসেছে সাদা পোশাকে হাটছিলো সে, অস্ত্রও আনেনি সাথে।

হঠাৎ চোখে পড়ল হোটেল কল্লোলের মোড়ে একটা দৃশ্য- আরে! কি হচ্ছে ওখানে? দেখে তো মনে হচ্ছে ছিনতাই!

সাথে অস্ত্র নেই, পরা নেই ইউনিফর্মও। যেহেতু এটা ডিউটির সময় না, মুখ ফিরিয়ে চলে গেলেও কারও কিছু বলার নেই। চলেও যেত ও, এরকম ছিনতাই কতই না হয়!

কিন্তু না! পুলিশে যোগদানের পর পাসিং আউট প্যারেডে কুরআন শরীফ সামনে রেখে সবার সাথে পারভেজও প্রতিজ্ঞা করেছিল – “নিজের প্রাণ বিপন্ন করে হলেও মানুষের জানমালের হেফাজত করবে।”

আর পুলিশের সামনে পর্যটকে ছিনতাই করে পালিয়ে গেলে আয়নায় মুখ দেখাবে কি করে!

বিশ বছর বয়েসে পুলিশে ঢুকেছে ও। ফোর্স ওকে আর ওর পরিবারকে এতদিন রেশন খাইয়েছে। উর্দি পরণে না থাকুক, উর্দির ফরজ নেভানোর এই তো সময়!

সব চিন্তা ফেলে হুংকার ছেড়ে খালি হাতে ছিনতাইকারীর পিছু নিলেন পারভেজ। প্রায় ১ কিলোমিটার দৌড়ে কক্সবাজারের জাম্বুর মোড় পার হয়ে গোলচক্কর মাঠে একাই জাপটে ধরল অস্ত্রধারী ২ ছিনতাইকারীকে।

ছিনতাইকারীর হাতথেকে ছিনিয়েও নিলেস পর্যটকের সাড়ে ছয় হাজার টাকা। এরিমধ্যে ছিনতাইকারীর পারভেজের বুকের ঠিক মাঝখানে ছুরি বিঁধিয়ে দিল । বুকে ছুরিবিদ্ধ হয়েও পারভেজ ছাড়লেননা ২ ছিনতাইকারীকে।

পারভেজের একার লড়াই দেখে এগিয়ে এল আশেপাশের মানুষ, ধরা পড়ল ২ ছিনতাইকারী। কিন্তু ততোক্ষনে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন পারভেজ। পারভেজের রক্তে লাল হয়ে গেলো কক্সবাজারর গোল চক্কর মাঠের সবুজ ঘাড়। সবুজ ঘাসের উপর পারভেজের লাল রক্তে বাংলাদেশের মানচিত্র এঁকে দিয়ে চলে গেলেন নাফেরার দেশে।

এতক্ষন যেই পাভেজের কথা বলছি তার পুরো নাম পারভেজ হোসেন (২২) , টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের কনস্টবল ছিলেন তিনি।

কনস্টবল পারভেজ হোসেনের মতো শতশত পুলিশেরর রক্তে বিনিময়ে এই দেশের মানুষ রাতের বেলা শান্তিতে ঘুমায়। তারপর সকাল বেলা কর্মস্থলে যেতে যদি সামান্য জ্যমে পড়লেই আমরা ট্রাফিক সার্জেন্টের মা-বোন উদ্ধার করি। নিজের বাসা তালা না দিয়ে ঘুরতে গিয়ে, ফিরে এসে যদি দেখি বাসায় চুরি হয়েছে, তবে নিজের দোষ ডাকতে পুলিশের চৌদ্দগোস্টি উদ্ধার করি। এমন ভাব আচরণ করি আমার বাসা তালা ঝোলানোর দায়িত্ব যেন পুলিশের ছিলো।

মিডিয়াতে এগুলো আসেনা বেশিরভাগ সময়ে, আসলেও কোন এক কোনাকাঞ্চি দিয়ে। “আসামীর কাছ দু-একশ টাকা খেলেই তা আপনি প্রতিদিন দেখবেন। কিন্তু ছিনতাই ঠেকাতে জীবন দিল পুলিশ সেটি আর ঘটনাই মনে করেননা। পুলিশকে কিভাবে উন্নত করা যায় তা নিয়ে পাবলিক দু লাইন লেখবার সময় কই?!

মাঠে সবুজ ঘাসে পড়ে থাকা পারভেজের পারভেজের রক্ত যেন ঠিক বাংলাদেশের পতাকা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হবেনা ওর–!!

পৃথিবীর কোন দেশে পর্যটকদের রক্ষার জন্য কোন পুলিশ সদস্য শহীদ হননি।”
পুলিশ সদস্য শহীদ পারভেজের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা….

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার ( উত্তর) মোঃ জাকারিয়া রহমান এর ফেসবুক থেকে নেয়া।
Courtesy:Imrul Kayes

সর্বশেষ