২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কম্পিউটারের শর্টকোর্স রাখার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন বরিশালে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর: শিশুসহ আহত-৪ নিতু’স বিউটি পার্লার উদ্ধোধনে মেহজাবিন-বারিশা দক্ষিণাঞ্চলের প্রথিতযশা সাংবাদিক মাইনুল হাসানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে সংঘর্ষ ! নিহত-১২৯ অধ্যাপক কামরুজ্জামানের পিতার মাগফিরাত কামনা করে প্রেসক্লাব ও জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের দোয়া মুনাজাত দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৫ জনের মৃত্যু বরিশালে সাবেক এমপি ফরহাদের পিতার দাফন সম্পন্ন গলাচিপায় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার উদ্বোধন আমতলীতে গরু চোর চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

নদীর ভাঙন ও ভাঙা সড়কে দিশেহারা লামচরিবাসী, পাল্টে যাচ্ছে মানচিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাসেল হোসেন বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর লামচরি গ্রামের বাসিন্দা। বাবা মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে পরিবারের সাথে সেখানেই থাকেন আর বাড়ি থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে বরিশাল নগরের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকুরি করেন।

নিজের মোটরসাইকেল থাকায় প্রতিদিন বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করেন। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে কীর্তনখোলা নদীর অব্যাহত ভাঙনে তালতলী বাজার থেকে লামচরির সড়কটির মধ্যবর্তীস্থানে ভেঙে যাওয়ায় নানান ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়েছে তাকে। সর্বশেষ চলতি বছরের ভাঙন ও নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণে ওই সড়কটি বেশ কয়েকদিন পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে সপ্তাহখানেক ধরে রাসেল হোসেন বাড়িতে না আসতে পেরে নগরে বিভিন্ন বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটিয়েছেন। যদিও এখনও নদী ভাঙনের শিকার এই সড়কটি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে, চলাচল অনুপযোগী করে দেয় যানবাহনের। সাধারণ মানুষকেও যেতে হয় হাঁটু কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে কোমর সমান পানির মধ্য দিয়ে।

রাসেল হোসেন জানান, ছোট বেলা থেকেই কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন দেখে এসেছেন। তবে গেল ৬-৭ বছরে চরবাড়িয়া ইউনিয়নকে ঘিরে কীর্তনখোলার ভাঙন অনেকটাই বেড়েছে। ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ লামচরি গ্রামের মানচিত্র। যে দুই গ্রামে কম করে হলেও দেড় হাজার পরিবারের বসবাস।

তিনি জানান, আনুমানিক ৭ বছর আগে তালতলী থেকে লামচরি গ্রামের একমাত্র সড়কটির একাংশে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনে মূল সড়কটি বিলীন হয়ে গেলে বিপাকে পড়েন না হলেও ৩-৪ হাজার মানুষ। প্রথমদিকে স্থানীয় উদ্যোগে ট্রলারে চেপে মানুষজন ভাঙা সড়কে একপার থেকে অন্যপারে যাতায়াত করেন। পরে লামচরিতে থাকা দুটি ইটের ভাটার কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে বিলীন সড়কে অদুরে নীচু জমি ইট-বালি দিয়ে ভড়াট করে বিকল্প সড়ক গড়েন। ফলে আবারো লামচরির মানুষ সড়ক পথে যাতায়াত শুরু করেন। এর সাথে সাথে গ্রামবাসীর দীর্ঘ দাবির প্রেক্ষিতে শুরুও হয় নদী ভাঙন রোধে বিভিন্ন ধরনের কাজ।

রাসেল বলেন, কোনো কাজই কাজে আসেনি, নদী তার আপন গতিতে ভেঙে চলেছে, ইটভাটা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রাস্তাটি বার বার নদী থেকে দূরে সরিয়ে পুণঃনির্মাণ করে সচল রাখা হয়েছে। কিন্তু নদী তীরের বহু বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি বছরের পর বছরের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন ব্যাপারি জানান, এবারে শুধু নদীর ভাঙন নয়, অস্বাভাবিক জোয়ারেও তলিয়েছে গ্রামের রাস্তাঘাট-বাড়িঘর। আর ভাটিতে পানি নামার সাথে সাথে দেবে গেছে লামচরির মূল সড়কের বিভিন্ন স্থান। বর্তমানে তালতলী থেকে লামচরির একমাত্র সড়কটির ৬ কিলোমিটার পথে বড় বড় খাদ রয়েছে ৬ থেকে ৭ টি স্থানে। এর বাইরে পুরো সড়ক জুড়েই রয়েছে বহু খানা-খন্দ।

তিনি বলেন, যে জায়গাতে সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, সেখানে ইটভাটা ওয়ালাদের নির্মিত বিকল্প সড়কটিও দেবে গেছে। ফলে বর্তমানে নদীতে জোয়ার হলে বরিশাল সদর থেকে উত্তর ও দক্ষিন লামচরিতে আসতে মানুষেদের হাটু সমান পানি পার হয়ে আসতে হয়। পানির মধ্যে প্রায়ই যানবাহন আটকে পড়তে দেখা যায়, এছাড়াও ইট-বালুর তৈরি খানা-খন্দের সড়কটিতে যানবাহন উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। তারপরও কর্মের কারণে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে ভাঙা সড়ক পাড়ি দিয়ে কাজে যেতে হচ্ছে।

আর ভাঙা সড়কে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়ছেন নারীরা, বিশেষ করে অসুস্থ, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের ভোগান্তির কোনো শেষ থাকছে না এই সড়ক পারি দিতে গিয়ে এমনটাই জানালেন গ্রামের মেয়ে দোলা।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন মোল্লা বলেন, নদীতে যাদের বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে তাদের বেশিরভাগ শহরে চলে গেছেন। যাদের অর্থ ছিল তারা শহরে জায়গা-জমি কিনেছেন, আর যারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন তারা শ্রম বিকিয়ে অর্থ উপার্জন করে কোনোভাবে পেট চালাচ্ছেন।

তিনি জানান, ভাঙা সড়ক আর নদী ভাঙনে দিশেহারা মানুষগুলো এখন হতাশ হয়ে তাদের দাবির কথা বলেন না, আর জনপ্রতিনিধিরাও লামচরির মানুষগুলোর কাছে আসেন না।

তিনি বলেন, বর্তমানে নদীর ভাঙন আর ভাঙা সড়ক নিয়েই জীবন চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রামের মধ্যে রয়েছেন লামচরির দুটি গ্রামের মানুষ। দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বরের জন্মস্থান হলেও বর্তমানে ভোগান্তির এ জনপদ যে ছাড়তে পারছেন সেই আর ফিরছেন না।’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ