১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

নানা সংকটে জর্জরিত বরিশাল আবহাওয়া অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক :: জলবায়ু পরিবর্তনে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে উপকূলীয় এলাকাগুলোকে। সিডর, আইলা, বুলবুল, রোয়ানু, ফণি, আম্পানের মতো আলোচিত ও ভয়ঙ্কর সুপার সাইক্লোনগুলোর আঘাতে খুলনা, চট্টগ্রামের মতো বরিশাল বিভাগও নানানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার সমুদ্র ও সুন্দরবন তীরবর্তী জেলা বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলার পাশাপাশি বরিশাল জেলাকেও দুর্যোগের কারণে ক্ষতিকর দিকগুলোর সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এককথায় নদীবেষ্টিত বরিশালের মানুষকে রোদ-ঝড়-বৃষ্টির ওপর নির্ভর করেই জীবনের জন্য জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এজন্য এ অঞ্চলবাসীদের জন্য আবহাওয়া বার্তা বিশেষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারে আগাম সতর্কতা যদিও এ অঞ্চলে দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে এনেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভাগীয় শহর বরিশালের আবহাওয়া অফিসটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জনবল, আবাসন, আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকটে আর নানান অব্যবস্থাপনায় সংস্কারহীন আবহাওয়া অফিসটি দিনে দিনে জরাজীর্ণ রূপ নিয়েছে।

জানা গেছে, গোটা বরিশাল বিভাগে চারটি আবহাওয়া স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে বিভাগীয় শহর বরিশালে একটি, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় একটি, খেপুপাড়ায় একটি ও ভোলা জেলায় একটি রয়েছে। এর বাইরে উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পিরোজপুর ও পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি জেলায় নেই কোনো আবহাওয়া অফিস। ফলে এসব এলাকার মানুষও বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্যের ওপর নির্ভর করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে বরিশালের লাখুটিয়া সড়কে আবহাওয়া অফিসটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘবছর আগে নির্মাণ করা আবহাওয়া অফিসের ভবনটির সক্ষমতা এখন অনেকটাই কমে গেছে। ভবনের অধিকাংশ স্থান থেকে খসে পড়েছে পলেস্তরা। দরজাগুলো ভেঙে যাওয়ায় সেগুলোকে বেঁধে রাখা হয়েছে।

আবার অতি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়া অফিসটিতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা প্রয়োজন হলেও, নেই বিদ্যুতের একাধিক লাইন কিংবা সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা। যে কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে অফিসে বিকল্প আলোয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের কাজ করতে হয় কর্মকর্তাদের। এর বাইরে অফিস এলাকায় ১৩টি বিদ্যুতের লাইটপোস্ট রয়েছে। যেখানে আবহাওয়া অফিসে কর্মরতদের টাকায় বাতি না লাগালে রাতে অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকতে হতো কম্পাউন্ডটিকে। এর বাইরে ঝড়-বৃষ্টি হলেই আবহাওয়া অফিসের টেলিফোনটি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে ঝড়-বৃষ্টিতে এই মাধ্যমে অফিসটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাহত হয়ে থাকে। .বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষকরা জানান, এখন আবহাওয়ার সংকেত দিতে দুই ধরনের তথ্যের সমন্বয় করা হয়। প্রথমত রাডারভিত্তিক ওয়েবসাইটের তথ্য এবং আমাদের অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সরঞ্জামাদির ব্যবহারিক তথ্য। কিন্ত এখানে অত্যন্ত ধীরগতির ইন্টারনেট হওয়ায় তাৎক্ষণিক তথ্য সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অফিসে সরবারহ করতে হিমশিম খেতে হয়।

কারণ হিসেবে তারা জানান, এ আবহাওয়া অফিসে এখনো মডেম ব্যবহার করে ইন্টারনেট সংযুক্ত দিতে হয়। যাতে ২-জির গতি পাওয়া যায়। এতে ২-জি গতিসীমা পাওয়া যায়। যদিও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেকশন পেলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সুবিধার হবে এবং তাৎক্ষণিক তথ্য সরবারহ করা যাবে বলে দাবি তাদের।

অপরদিকে জনবলের হিসাব কষলে বরিশালে আবহাওয়া অফিসে এখন ১২ জন কর্মরত রয়েছেন। যাদের সবাই কর্মকর্তা পদমর্যাদায়। এদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন সহকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পাঁচজন উচ্চ পর্যবেক্ষক এবং পাঁচজন বেলুন মেকার রয়েছেন।

অথচ দেশের অন্যান্য বিভাগীয় অফিসের জনবল কাঠামোতে একজন উপ-পরিচালক থেকে নাইটগার্ড পর্যন্ত কমপক্ষে ১৭টি পদ রয়েছে। সেক্ষেত্রে বরিশাল অফিসে এখনো ৫ জনবল সংকট রয়েছে। এর মধ্যে অফিস সহায়ক ও নাইটগার্ড পদে জনবল অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অফিস সহায়ক আর নাইটগার্ড ছাড়া যেকোনো অফিসই পুরোপুরি অরক্ষিত থাকে।

যদিও আশার আলো হচ্ছে, দীর্ঘদিন পরে বরিশাল আবহাওয়া অফিসে কর্মরতদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আবাসনের জন্য ব্যবস্থা করা ভবনটি এখন জনবলের জন্যই অপ্রতুল। ফলে ভাড়া বাসাতেই থাকতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। .উন্নয়ন বরাদ্দসহ নতুন ভবন বরাদ্দ পাওয়ার জন্য চেষ্টা চলছে বলে জানিয়ে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহম্মেদ বলেন, সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছি, আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য সরবারহ করতে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও ইন্টারনেট সেবা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের চালিকা শক্তি। কিন্তু এখানে ইন্টারনেট এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমস্যা যেন কাটছেই না। যদিও সরকারি ইন্টারনেট সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের। তবে কবে নাগাদ সংযোগ পাবেন সেটি এখনও নিশ্চিত নন।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ