১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

নেছারাবাদে মাদ্রাসার খাদেমকে চুরির অপবাদে ইউপি সদস্যের মারধর

পিরোজপুর প্রতিনিধি॥পিরোজপুরের নেছারাবাদে ইলেকট্রনিকস মালামাল চুরির অপবাদ দিয়ে মোঃ জহিরুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসার খাদেমকে রশি দিয়ে বেধে বেদম মারপিট করেছেন ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম খোকন ও তার সহযোগীরা।এসময় ঘটনা স্হলে উপস্থিত এক ব্যক্তি তার মোবাইলে নির্যাতনের ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে তা ব্যাপক ভাইরাল হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদে।নির্যাতনের শিকার মোঃ জহিরুল ইসলাম পাশ্ববর্তী ঝালকাঠী উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। সে ঝালকাঠী জেলার হদুয়া বৈশাখিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার একজন খাদেম।
জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সোহাগদল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.কামরুল ইসলাম খোকন ও তার সহযোগীরা উত্তর পশ্চিম সোহাগদল বায়তুন নুর জামে মসজিদের ইলেকট্রনিক্স মালামাল চুরির অভিযোগ এনে ইন্দেরহাট বন্দর থেকে মো. জহিরুল ইসলাম ধরে সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। সেখানে নিয়ে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা জহিরুল ইসলামকে দড়ি দিয়ে হাত বেধে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পিটাতে থাকে এবং এলোপাথারি চর থাপ্পর মারে। এসময় জহিরুল ইসলাম চিৎকার দিয়ে বলতে থাকেন, “আমাকে মারেন কেন, আমাকে মারবেন না, আইনের লোক আছে, প্রয়োজনে তাদের হাতে তুলে দিন, আপনারা আমার মোবাইল ও জিনিস পত্র সব নিয়ে গেছেন, আমি অসুস্থ আমাকে মাইরেন না”। এসময় সহযোগীদের মধ্যে একজন পায়ের নিচে পিটানোর নির্দেশ দেয়। এর একপর্যায়ে নেছারাবাদ থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জহিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। রবিবার থানা পুলিশ জহিরকে ওই মামলায় পিরোজপুর কোর্টে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম খোকনের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন “সাংবাদিকের কাছে জবাব দিতে তিনি বাধ্য নন বলে জানান। আইন নিজের হাতে নিয়ে কাউকে এভাবে নির্যাতন করার বিধান আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি আমাকে ইজ্জত দিয়ে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
এ ব্যপারে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ সার্কেল) মো. রিয়াজ হোসেন (পিপিএম) বলেন,নির্যাতনের ভিডিও দেখেছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোশারেফ হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের বিষয়টি জেনেছি। কোন ব্যক্তিকে এভাবে মারার কারো অধিকার নেই।ব্যাপারটি ওসি ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বিস্তারিত জানার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।
নেছারাবাদ থানা অফিসার ইনচার্জ আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান,জহিরুল ইসলাম মসজিদের মালামাল চুরির কথা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য বাদী হয়ে মামলা করেছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ