৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
কাউখালীতে ৩৫০ বোতল এলকোহলসহ গ্রেফতার ২ ভেঙে ফেলা হলো পটুয়াখালীর প্রবেশদ্বারে প্রদর্শিত যুদ্ধ বিমানটি গৌরনদীতে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ পাচারের ছবি ও ভিডিও ধারন করায় সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ গলাচিপায় ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন কিনলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই -এ্যাড. বলরাম পোদ্দার কলাপাড়া উপজেলাকে জেলায় রূপান্তরিত করার দাবিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন পটুয়াখালীতে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা, বৃদ্ধ গ্রেফতার জাতীয় লিগে অংশ নিচ্ছেন বরিশালের নারী ফুটবলাররা মঠবাড়িয়ায় মাহফিল থেকে ফেরার পথে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে জখম

পুরুষের জন্মবিরতিকরণ পিল আসছে নতুন বছরে!

জন্মবিরতিকরণ পিল। শুনলেই নতুন করে ভাবতে হয় না যে- এটা নারীদের গর্ভনিরোধক পিল। কিন্তু জন্মনিরোধক পিলের এ ধারণা পরিবর্তন হতে যাচ্ছে আগামী বছরে। আশা করা যাচ্ছে, ২০২১ সালের মধ্যে পুরুষদের জন্যও জন্মবিরতিকরণ পিল বাজারে আসবে।যদিও পুরুষদের এই পিলের ধারণা নতুন নয়। আজ থেকে ৬০ বছর আগেই এটি ব্রিটেনে আলোচনায় এসেছিলো। গত ২৫ বছর যাবৎ বিজ্ঞানীরাও অবিরাম বলে চলেছেন, এটি প্রস্তুত। তবু বাস্তবতায় এ পিল এখনো মেলেনি। আর সেই আশাটিই নতুন করে আবারও আলোচনায় এসেছে ২০২১ এর জন্য সর্বশেষ গবেষণা অনুযায়ী, পুরুষরা তাদের জন্য প্রতিরোধমূলক পণ্যগুলো শিগগিরই গ্রহণ করতে সক্ষম হবে- জেল, পিল, মাসিক ইনজেকশান এমনকি পরিবর্তনযোগ্য বন্ধ্যাকরণ অস্ত্রোপচার- সবকিছুই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছে।সাধারণ চোখে মনে হয়, পুরুষদের প্রজননতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষাকৃত সহজ। নারীদের চাইতেও এখানে জটিলতা কম। অথচ সত্যিটা পুরোই উল্টো।

একজন পুরুষের জৈবিক উদ্দেশ্য হলো- তার জিনগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়া, বংশবিস্তার করা। সারাদিনজুড়ে একজন প্রজননে সক্ষম পুরুষ প্রতি সেকেন্ডে এক হাজার শুক্রাণু উৎপাদন করে, জৈবিক ক্রিয়ার সময় নির্গত করেন ২৫০ মিলিয়ন শুক্রাণু। এই বিপুল পরিমাণ শুক্রাণুর কৃত্রিমভাবে নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা কার্যকরভাবেই কঠিন। অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে একজন নারী প্রতি মাসে মাত্র একটি অথবা দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ করেন।১৯৫০ সালে বিজ্ঞানীরা সর্বপ্রথম পুরুষদের জন্য পিল তৈরির চেষ্টা করেন। তারই অংশ হিসেবে মার্কিন কোম্পানী স্টার্লিং ড্রাগ একটি পরজীবি- বিরোধী চিকিৎসার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সময় এক অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে পান; এটি পুরুষ ইঁদুরদের অস্থায়ীভাবে উৎপাদনে অক্ষম করে তোলে।

তারা কারাগারের পুরুষ বন্দীদের ওপরও যৌগটি প্রয়োগ করেন এবং দেখতে পান যে, তাদের শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু বন্দীরা যখন চোরাইপথে চালানকৃত হুইস্কি পান করে তখন তারা ভয়াবহ পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার শিকার হন। তাদের প্রচন্ড বমি হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় অনেকগুণ। ফলশ্রুতিতে স্টার্লিং সেবার তাদের সেই ঔষধের প্রয়োগ বন্ধ করে দেয়।

বর্তমানে পুরুষদের কাছে জন্ম নিয়ন্ত্রণের দুটি বিকল্প রয়েছে- কনডমের ব্যবহার এবং স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ অস্ত্রোপচার- সেখানে সার্জন শুক্রাণু বহন করা টিউবটি কেটে ফেলেন বা বন্ধ করে দেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জোয়ার নয়া মোড় নিচ্ছে এখন। নতুন এক ধরণের গর্ভনিরোধক জেল এখন আবারও আশা দেখাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই জেলটি ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দম্পতির মাঝে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।জেলটি পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন এবং সেজেস্টেরোন এসিটেটের সংমিশ্রণ (যার বাণিজ্যিক নাম নেস্টোরন)।নেস্টোরন টেস্টিসে শুক্রাণুর উৎপাদন এমন প্রক্রিয়াতে কমিয়ে ফেলে যে তা পুরুষের লিবিডোকে (যৌনক্রিয়া) প্রভাবিত না করেই শুক্রাণুর উৎপাদন কার্যকরভাবে প্রতিহত করে।পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অংশ হিসেবে, পুরুষেরা এই জেল তাদের কাঁধে এবং উপরের বাহুতে প্রতিদিন মাখবেন। হরমোন তাদের ত্বকের নিচে শোষিত হবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আস্তে আস্তে তা রক্তস্রোতে মিশে যেতে থাকবে। ব্রিটেনে এটি এডিনবরা ইউনিভার্সিটি এবং ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট কর্তৃক পরীক্ষিত হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email