২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রিজন সেলে হাজতিকে হত্যার দাবি স্বজনদের, কারারক্ষীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের প্রিজন সেলে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হাজতি মোতাহার হোসেন (৬৭) কে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। এই ঘটনায় বিচার চেয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের তিন কারারক্ষীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যার নালিশী অভিযোগ করেছেন।

নিহতের মেয়ে নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশী অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান নিহতের ছেলে জাহিদুল ইসলাম।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ঘটনার মূল হোতা এবং হত্যা মামলার আসামি পটুয়াখালীর বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম (২৫), বরগুনার বেতাগীর বাসিন্দা নজরুল ইসলাম (৪৭), মোস্তফা হাওলাদার (৫০), মো. ফারুক (৫৫), সফিকুল ইসলাম (২৮), নাসির উদ্দিন হাওলাদার (৩৫), জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৪০) ও কামাল হাওলাদার (৫৫)।

এছাড়া ঘটনার সময় শেবাচিম হাসপাতালের প্রিজন সেলে দায়িত্বে থাকা আ. সালাম এবং মিরাজসহ তিন কারারক্ষী এবং আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের ছেলে জাহিদ অভিযোগ করে বলেন, বরগুনার বেতাগীতে প্রতিবেশিদের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক দ্ব›দ্ব রয়েছে। সেই দ্ব›েদ্বর জেরে বেতাগী থানায় প্রতিপক্ষরা আমার বাবা মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে বরগুনা কারাগারে পাঠায় আদালত।

কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরগুনা কারা কর্তৃপক্ষ তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এপর তাকে শেবাচিম হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রিজন সেলের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষী মিরাজসহ অন্যান্যরা আমার বোন নাসরিনের কাছে টাকা দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ আরও বলেন, হত্যাকাÐের দু’দিন আগে আমাদের পারিবারিক শত্রæ নজরুল, মোস্তফা, শফিকসহ অন্যান্যরা শেবাচিম হাসপাতালের প্রিজন সেলে গিয়ে প্রকাশ্যে আমার বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। গত ১৩ এপ্রিল বিষয়টি বাবা আমাকে জানিয়েছেন। এরপরই ঘটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘তাদের প্রতিপক্ষরা প্রিজন সেলের কারারক্ষীদের সাথে আতাত করে অন্য আসামি তরিকুল ইসলামকে দিয়ে মোতাহার হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর পুরো ঘটনাই ঘটানো হয়েছে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে। কেননা ঘটনার সময় কারারক্ষীদের দুজন প্রিজনসেলের চাবি নিয়ে বাইরে চলে যায়। আরেকজন কারারক্ষী ঘুমিয়ে ছিলেন। তাই পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বাদীর আইনজীবী আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘বিচারক নালিশী মামলাটি গ্রহণ শেষে বাদীর জবানবন্দীও গ্রহণ করেছেন। তদন্তের জন্য মামলাটি বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু এ ঘটনায় আগেই কারাকর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে তিন কারারক্ষির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। তাই নিহত মোতাহারের মেয়ের দায়ের করা মামলাটি আগের মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে একক মামলা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নতুন দায়ের করা মামলার তদন্তে যাদের নাম বেরিয়ে আসবে তাদেরও প্রথম মামলার আসামি হিসেবে যুক্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল ভোরে শেবাচিম হাসপাতালের নিচতলার প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হাজতি মোতাহার হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করে অপর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তরিকুল সিকদার। এসময় আহত হন অজিত মন্ডল নামের অপর এক হাজতি। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অপরাধে তিন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত হত্যা মামলার আসামি তরিকুলকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

সর্বশেষ