১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বরগুনার আমতলীতে সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ

হারুন অর রশিদ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
বরগুনার আমতলীতে সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যাকে ইটভাটার শ্রমিক ইলিয়াস সিকদার ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের শিকার শিশু কন্যার মা এমন অভিযোগ করেন। ধর্ষণের আলামত নষ্ট ও ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইটভাটার ম্যানেজার মোঃ মোফাজ্জেল হাওলাদার ও সরদার মোঃ নুর আলম শিশুর বাবা ও মাকে আটকে রেখেছে। পাঁচ দিন পরে সোমবার (১২ এপ্রিল) শিশুটিকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার উত্তর রাওঘা গ্রামের ধর্ষণের শিকার শিশু কন্যার মা-বাবা কুকুয়া ফাইভ স্টার ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। ওই একই ইটভাটায় পশ্চিম সোনাখালীর ইসমাইল সিকদারের ছেলে ইলিয়াস সিকদার কাজ করে। গত বুধবার দুপুরে ইলিয়াস শিশু কন্যাকে মজা (চকলেট) খাওয়ানোর কথা বলে তার ঘরে ডেকে নেয় এবং শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করে। শিশুর ডাক চিৎকারে শিশুর মা সহ স্থানীয়রা ছুটে যান। পরে ওই শিশুটিকে ইটভাটার সরদার মোঃ নুর আলম গাজীপুর বন্দরের স্থানীয় চিকিৎসক মোঃ জসিম উদ্দিনের কাছে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই বখাটে ইলিয়াস পলাতক রয়েছে।
এদিকে এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য ইটভাটার ম্যানেজার মোঃ মোফাম্মেল হাওলাদার ও সরদার মোঃ নুর আলম উঠেপড়ে লাগেন। শিশুর আলামত নষ্ট ও ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা শিশু কন্যার বাবা ও মাকে ঘটনার পরপর ইটভাটায় আটকে রাখেন।
পাঁচ দিন পরে ওই শিশুকে নিয়ে মা ও বাবা ইটভাটা থেকে পালিয়ে যায়। সোমবার দুপুরে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক মোসাঃ তারান্নুম মাহজাবিন শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করেছেন। অধিকতর পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শিশু কন্যার বাবা বলেন, ধর্ষণের আলমত নষ্ট ও ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইটভাটার ম্যানেজার মোফাজ্জেল হাওলাদার ও সরদার মোঃ নুর আলম আমাদের আটকে রেখেছেন। পাঁচদিন পর ওই ইটভাটা থেকে পালিয়ে এসেছি।
ইটভাটার সরদার মোঃ নুর আলম শিশুটির বাবা মাকে আটকে রাখার কথা অস্বীকার করে বলেন, শিশুটিকে আমি চিকিৎসা করিয়েছি।
ইটভাটার মালিক মোঃ মধু প্যাদা বলেন, এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। সাড়ে তিন বছরের একজন শিশু কন্যার সাথে এমন ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি দাবী করি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি শুনে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হারুন অর রশিদ
আমতলী, বরগুনা।
০১৭১৭২৭১১৫৯

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ