১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বরগুনার তালতলী রাখাইনদেরকে বন্যশুকর দিয়ে হয়রানি

হারুন অর রশীদ,আমতলী (বরগুনা)প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে বিভিন্ন পাড়ার রাখাইনরা তাদের গৃহপালিত পশু শুকর সরবরাহ করার সময় বন্য শুকর দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে বনবিভাগ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন বাংলাদেশ আধিবাসী ফোরামের বরগুনা ও পটুয়াখালী আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক মি. মংথিনজো।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ১৩টি রাখাইন পাড়ায়ই তারা তাদের শুকর গৃহে পালন করে আসছে। সেই সুবাদে গত ২৬ জুলাই উপজেলার সওদাগর পাড়ার মি:থানতে মং এ ছেলে দীনমজুর মি:চানমং সে তার গৃহপালিত শুকরটির ৩৮ কেজি মাংস কুয়াকাটার এক আত্মীয়ের আয়োজনে তাদের বাড়ীতে সরবরাহের সময় কতিপয় অর্থলোভী বাংঙ্গালী মুসলমানদের সহযোগীতায় কলাপাড়ার নিজামপুর খেয়াঘাটে কোষ্টগার্ড সদস্যরা খামখেয়ালী ভাবে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে মহিপুর বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। বনবিভাগ ওই মাংসকে বন্য শুকরের ৮০ কেজি মাংস এবং বন ও পরিবেশের আনুমানিক ১লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ করে বন্যপ্রাণি নিরাপত্তা ২০১২ আইনের ৩৪ এর (ক) ও (খ) ধারামতে আদালতে প্রেরন করেন। আদালত ওই মি: চানমংসেকে জেলহাজতে প্রেরন করেন। এ ছাড়াও চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারী উপজেলার তাঁতিপাড়া নিবাসী মৃতু মি:নোজাঅং এর পুত্র মি:নেওয়েনচো নিজের গৃহে পালিত শুকর কলাপাড়ার মহিপুরের মি:শুখরঞ্জন শীলের কাছে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। শুখরঞ্জন ওই শুকরটি নেয়ার সময় উপজেলার নিশানবাড়ীয়া খেয়াঘাটে টহলরত বন প্রহরীরা আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্রয় ও বিক্রেতা উভয়কে ২হাজার টাকা জরিমানা ও মুছলেকা রেখে শুকরসহ উভয়কে ছেড়ে দেন।
রাখাইন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মি. মংচিন থান বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ আমাদের হয়রানী করার জন্য একেরপর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আসছে। আমরা ওই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সরকারের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে সুবিচারের প্রত্যাশা করছি।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ