২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বরগুনায় অটোর ভারে ভাঙলো ব্রিজ, আটকে গেলো হাজারও মানুষ!

আমতলী প্রতিনিধি :: দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া খালের কাউনিয়া ও মহিষডাঙ্গা গ্রামের সংযোগ স্থাপনকারী লোহার সেতু বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় ধসে পড়েছে। সেতুটি ধসে পড়ায় ওই এলাকার ৬ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

আমতলী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী সদর ইউনিয়ন ও চাওড়া ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপনের জন্য ২০০২ সালে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের পর দীর্ঘ দিন কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময় ১০-১২ ফুট দেবে যায়। এনিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে। সেতুটি দেবে যাওয়ার ১ মাসের মাথায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় যাত্রী নিয়ে একটি অটো পার হওয়ার পর আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে।

সেতুটি ধসের ফলে আমতলী সদর ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা, পূর্ব মহিষডাঙ্গা, নাচনা পাড়ার একাংশ, হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের একাংশ, চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া, চলাভাঙ্গা গ্রামের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে এসব গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়েছে। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন কাজসহ অফিসিয়াল কাজের জন্য আসা-যাওয়া করে। সেতুর দুই পাশে রয়েছে কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমী, কাউনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বায়তুল আমান জামে মসজিদ, আমতলী সদর ইউনিয়নে আলহাজ্ব মো. শামীম আহসান দাখিলী মাদরাসা, ১টি এতিম খানা, নূরানী মাদরাসা ও একটি মসজিদ। করোনার কারণে স্কুল-মাদরাসা বন্ধ থাকলেও এতিম খানার ছাত্ররা ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশুনা এবং মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য মুসল্লিদের প্রতিদিন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করতে হয়। সেতু ধসে পড়ায় এখন সকল ধরনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশুনার জন্য এখন যাতায়াত করতে পারছে না।

গ্রামের বাসিন্দা আবলু কালাম মিস্ত্রী জানান, সেতুটি পইর‌্যা যাওয়ায় মোরা অনেক ভোগান্তিতে আছি। মোরা এহন এক পার গোনে আরেক পার যাইতে পারি না।

মহিষডাঙ্গা গ্রামের ষাটোর্ধ অরিফা বেগম বলেন, ব্রিজটা পইর‌্যা মোগো এহন আর ভোগান্তি শ্যাষ নাই। ব্রিজ পারাইয়া সোজা বুইনের বাড়ি যাইতাম হ্যাও এহন বন্ধ অইয়া গেছে।

আলহাজ্ব মো. শামীম আহসান দাখিলী মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সেতুটি ধসে পরায় এখন অনেক পথ ঘুরে আমতলী শহরে বিভিন্ন অফিস আদালতে যেতে হয়। এতে অনেক খরচ বেড়ে গেছে।

আমতলী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, চাওড়া খালের মহিষডাঙ্গা ও কাউনিয়া গ্রামের সংযোগ-স্থাপনকারী সেতুটি ধসে পড়ায় দুই ইউনিয়নের ৬ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন।

আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবদুল্লা আল মামুন জানান, সেতুটি ধসে পড়ার খবর পেয়েছি। পরিদর্শনের জন্য ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। লোহার সেতুর স্থলে গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হবে। এজন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ