৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বরগুনায় অর্ধশত বিদ্যালয় ভবন নিলামে বিক্রি, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক ::: বরগুনা জেলার অর্ধশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নিলামে বিক্রি হয়েছে সম্প্রতি। খোলা হচ্ছে ১২ সেপ্টেম্বর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোথায় হবে ক্লাশ বা নতুন ভবন নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে তাও জানেন না ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকরা। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভবনশূন্য এসব বিদ্যালয়ে কীভাবে পাঠদান করা হবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অভিভাবক মহল। করোনাকালীন সময়ে যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর গাফিলতির কারনে ভবন সংস্কারের কাজ ঝুলে থাকায় এমন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও অভিভাকরা। কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় বিপাকে পড়েছে কয়েক হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী।

বরগুনার চরকলোনী এলাকার হামিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, নিলামে বিক্রি হওয়া দুটি স্কুল ভবন ভাঙ্গার কাজ চলছে। পাঠদানের বিকল্প কোন ভবনও এখানে নেই। ছোট্ট একটি টিনের ঘর থাকলেও সেখানে নেই পাঠদানের কোন ব্যবস্থা। স্কুলটির শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণিতেই ৭৮ জন এবং সব মিলিয়ে ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

চরকলোনী হামিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত শুধুমাত্র বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন নিলামে দেয়া হয়েছে সম্প্রতি। নিলামক্রেতারা সকল ভবন ভাঙ্গার কাজ সবে মাত্র শুরু করেছেন। কবে এসব ভবনের কাজ শুরু হবে আর কবে তা শেষ হবে তা নিয়ে এখন সংশয় প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।

চরকলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি এ্যাড. সেলিনা হোসেন বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। অথচ পুরাতন ভবন নিলামে দেয়া হলো মাত্র সাত-আট দিন আগে। এসব বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে বহুবার যোগাযোগ করেছি তারপরেও যথাসময়ে তা করাতে পারিনি। ফলে এখন চরম ভোগান্ততিে পড়েছে এ বিদ্যালয়ের কোমলমতি তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষকরাও।

বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বাঁশবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুপতি মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাইঠা লবনগোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ ইটবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, নিলামক্রেতাদের কেউ পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নিয়ে গেছে, কেউবা এখনও তা ভাঙ্গার কাজে ব্যস্ত। এসব বিদ্যালয়সমূহের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব বিদ্যালয়ে নতুন করে ভবন নির্মাণে যে দীর্ঘ সময় লাগবে সে পর্যন্ত কীভাবে পাঠদান করা হবে সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা পাননি তারা।

পাথরঘাটার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম হায়দার জানান, তার উপজেলায় কমপক্ষে ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যেখোনে ভবন নেই। ক্ষুদ্র মেরামতের জন্যে বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে এসব বিদ্যালয়ে বিকল্প টিনশেড ঘর তোলা হয়েছে। তবে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থবিধি মেনে এসব বিদ্যালয়ে কীভাবে কোন কৌশলে পাঠদান করা হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা এখনও তারা পাননি। একইরকম তথ্য পাওয়া গেছে জেলার অন্যান্য উপজেলার সহকারী শিক্ষাকর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমএম মিজানুর রহমান বলেন, আমরা জেলার সকল স্কুল পরিদর্শন করছি। উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে আমাদের নিয়মিত সভা চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে পাঠদান করা হবে সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা পাননি বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিয়া শারমিন জানান, ‘ভবনশূন্য বিদ্যালয়গুলোতে শীঘ্রই অস্থায়ী ঘর তুলে দেয়া হবে যাতে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, এসব সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যেই আমরা একাধিকবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি, সভা করেছি। বিকল্প শেল্টার নির্মাণ করে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করা যায় সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিতে সংশি-স্ট সকলকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ