২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বরগুনায় নির্মানাধীন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে ধস !

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

হারুন অর রশিদ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্য সোনাখালী গ্রামে নির্মানাধীন একটি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ কাজ শেষ করার পূর্বেই দেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদার সিডিউল মোতাবেক কাজ না করায় এ নির্মানাধীন বাঁধটি দেবে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্য সোনাখালী গ্রামের উপড় দিয়ে তাফালবাড়িয়া নদী বয়ে গেছে। গত বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবল ¯্রােতে ওই গ্রামের মেম্বারের বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৩০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে ওই ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে ওই গ্রামের জমির ফসল ও চাষাবাদ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ। ওই ৫টি গ্রামের মানুষদের ভোগান্তি লাগবে ও নদীর ভাঙ্গণ রোধে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ইমারজেন্সি প্রকল্পের অধীনে ওই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের নভেম্বর মাসে ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবান করে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। আজাদ এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই কাজের কার্যদেশ পায়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নির্মাণাধীন বাঁধের কাজের শুরুতেই ঠিকাদার অনিয়ম করে সিডিউল মোতাকেব কাজ না করায় নির্মাণ কাজ শেষ করার পূর্বেই বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। সিডিউলে উল্লেখ আছে মাটি ও জিও ব্যাগ দ্বারা টেকসই বাঁধ নির্মাণের। কিন্তু যে পরিমান জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ দেওয়ার কথা বাস্তবে তা করা হয়নি। বাঁধ রক্ষায় বাঁশের পাইলিংও ছিল নড়বড়ে। যে কারনে বাঁধ নির্মাণের ৮ দিনের মাথায় নদীতে প্রবল ¯্রােতে বাঁশের পাইলিং ভেঙ্গে জিও ব্যাগ দেবে হুমকির মুখে পরেছে ওই বাঁধ। আসছে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির ¯্রােতে এ নির্মাণাধীন বাঁধ টিকবে কিনা তা নিয়ে স্থাণীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

আজ (বুধবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, নির্মাণাধীর বাঁধের পাইলিং ভেঙ্গে জিও ব্যাগ নদীতে দেবে গেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা দেবে যাওয়া স্থানে নতুন জিও ব্যাগ ফেলে তা মেরামত করছেন।

ঠিকাদার স্বপন মৃধার তত্বাবধায়ক মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, ঠিকাদার আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি সেই ভাবেই কাজ করছি। দেবে যাওয়া অংশে নতুন জিও ব্যাগ ফেলে ঠিক করে দিচ্ছি।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আজিজুর রহমান সুজন মুঠোফোনে বলেন, নির্মাণাধীণ বাঁধে দেবে যাওয়া স্থানে নতুন করে জিও ব্যাগ ফেলে ঠিকাদার বাঁধ ঠিক করে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার স্বপন মৃধা বলেন, সিডিউলে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ তৈরী করেই বাঁধ নির্মাণ করেছি। এখানে কোন রকমের অনিয়ম করা হয়নি।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙ্গে আমার ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ দূর্ভোগে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড দূর্ভোগ লাঘবে ওই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে নির্মাণাধীন বাঁধ দেবে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে নির্মাণ কাজ দেখতে যাই। ওই বাঁধ আসছে বর্ষা মৌসুমে টিকবে কিনা তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পাউবো কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাই।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলৗ মোঃ কায়সার আলম মুঠোফোনে বলেন, বাঁধ দেবে যাওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। দেবে যাওয়া বাঁধ মেরামত করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নি¤œমানের কাজের বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ