৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বরগুনা হাসপাতালে করোনা রোগীর সঙ্গে অবাধে দেখা করছেন স্বজনরা

অনলাাইন ডেস্ক :: বরগুনা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীদের সঙ্গে যখন-তখন দেখা করছেন স্বজনরা। কখনো আবার রোগী নিজেই করোনা ইউনিট থেকে বের হয়ে পাশের দোকানে চা-সিগারেট খেতে যাচ্ছেন।

শহরজুড়ে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়লেও বরগুনা হাসপাতালের দিকে নজর নেই কারোরই।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন জসিম উদ্দিন হাওলাদার নামে একজন করোনা পজিটিভ রোগী নিজের ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লিখেন- ‘করোনা কালীন সময়। আমার নিকটতম আত্মীয় স্বজন কারো দেখা পেলাম না, কিন্তু পাখা মার্কার প্রার্থী কামরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, ডা. কামরুজজামান ও এনায়েত দোকান্দার- এদের প্রতি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা আমার সাথে হাসপাতালে দেখা করে সাহস দিয়েছেন। এটা আমার জন্য চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ আমার কাছে রক্তের সম্পর্কের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।’

ফেসবুকে এই পোস্টের পরপরই সমালোচনার সৃষ্টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সদস্য সাইফুল ইসলাম মিরাজ করোনা আক্রান্ত হয়ে ১০ দিন ধরে করোনা ইউনিটে চিকিৎস্যা নিচ্ছেন। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংরক্ষিত স্থান আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভাইরাসের ছড়াছড়ি। তাই এখানে কেউ আসলে তার করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সর্বোচ্চ। গত কয়েকদিন ধরে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে দেখেছি- এখানে অনেক মানুষ আসেন আক্রান্ত স্বজনদের দেখতে। ‌যা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং এটি একটি অপরাধও। আক্রান্তদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন স্বজন থাকতে দেন। তারপরও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার জন্য হাসপাতালে আমি একাই থাকি। আইসোলেশন ওয়ার্ডে অসুস্থ স্বজনকে দেখতে এসে যারা আমার সামনে পড়েছেন তাদেরকেই আমি নিরুৎসাহিত করেছি এখানে না আসার জন্য।’

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, ‘মানুষ অসচেতন। প্রশাসনের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা করে। শুধু প্রশাসন লকডাউন দিলে করোনা সংক্রমণ বন্ধ করা যাবে না। অবশ্যই এসব কাজে জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীনদলসহ অন্যান্য নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার একা সামাল দিতে পারবে না। সেই পরিস্থিতিতে আমরা নেই।’

বিষয়টি নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার সোহরাব হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের করোনা ‍ওয়ার্ডে ৫০টি বেড। এক সপ্তাহ আগেই বেড রোগীতে পূর্ণ। ফাঁকা জায়গাগুলো কিছু নতুন বেড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিলো। তাতেও কাজ হয়নি। এখন মেঝেতেও বিছানা দেওয়া হচ্ছে। একদিকে চিকিৎসক সঙ্কট অন্যদিকে নার্স সংকট। হাসপাতালে আইসিইইউ নেই। রোগীদের পরামর্শ দিলেও তারা শোনেন না। রোগীর স্বজনরাও বেপরোয়া।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মানুষকে সচেতন হতে হবে আরও। প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে দিনরাত। আমরা চেষ্টা করছি সব নিয়ন্ত্রণে রাখতে। করোনা রোগীরা বাহিরে আসাটা শুনে আমিও হতাশ হয়েছি। মানুষ নূন্যতম সচেতন না হলে আমরা কিভাবে করোনা মোকাবেলা করবো? আমি সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপারের সাথে জরুরি বৈঠক করবো। করোনা রোগীদের বাহিরে আসা বন্ধ করতে এবং দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়া বন্ধ করতে আমরা কঠোর হবো।’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ