১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বরিশালের সরকারী দুই কর্মচারীকে কারাগারে প্রেরন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার মামলায় রাসেল রাঢ়ী ও আরিফুল ইসলাম রাশেদ নামের দুই সরকারী কর্মচারীকে বুধবার দুপুরে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কালিয়া দমন গুহর কনিষ্ঠপুত্র যুবলীগ নেতা সলিল গুহ পিন্টুকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে রাসেল ও আরিফুলসহ তাদের অপর সহযোগিরা।

এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় গত ২৯ জুন মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামী রাসেল হোসেন রাঢ়ী ও ২ নং আসামী আরিফুল ইসলাম রাশেদ উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলো। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বুধবার বেলা এগারটার দিকে তারা বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে। আদালতের বিচারক আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এরমধ্যে রাসেল রাঢ়ী আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক ও আরিফুল ইসলাম রাশেদ একই উপজেলার খাদ্য গুদামের উপসহকারী খাদ্য পরিদর্শক। কারাগারে প্রেরণ করা দুইজনেই গৌরনদী উপজেলার পূর্ব বেজহার গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেন রাঢ়ীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সরকারী চাকরীর বিধিমালা লঙ্ঘন করে মাহিলাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে একের পর অপকর্ম করে যাচ্ছিলো রাসেল রাঢ়ী ও তার সহদর আরিফুল ইসলাম রাশেদ। গত ২৯ জুন আধিপত্য বিস্তারের জন্য উপজেলা যুবলীগের সদস্য সলিল গুহ পিন্টুকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, ১২ জুন বিকেলে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন হাওলাদারকে কুপিয়ে এবং ৯ জুলাই মোটরসাইকেল মহরা দিয়ে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মাহতাব হোসেনকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে রাসেল রাঢ়ী ও তার সহযোগিরা। অফিস সহায়ক জেলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। সে অসুস্থার কথা বলে আমার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছিলো।

তিনি আরও জানান, সরকারী বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপসহকারী খাদ্য পরিদর্শক কারাগারে যাওয়ার বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, অফিসিয়ালি এখন পর্যন্ত বিষয়টি আমি শুনিনি। তবে সরকারী বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। বিষয়টি জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ