৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ভোলায় অনলাইন মার্কেটিং ও কমিউনিটি মিনি ফেয়ার ২০২২ অনুষ্ঠিত নৌকা মুক্তির সোপান, দেশের মানুষকে মুক্তি দিয়েছে নৌকা নির্ধারিত সময়ের পাঁচ ঘন্টা আগেই শুরু হলো রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় পরিষদকে বরিশাল নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা শেখ হাসিনা সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় না এলে এদেশে কোন সম্প্রীতি থাকবে না আবারও এদেশে পাকিস্তানী পতাকা উ... জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হলেন বরিশালের মামুন-অর-রশিদ বরিশালে কর্মীদের জুতাপেটা করে শাসন করলেন ছাত্রলীগ নেতা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে পুনরায় পদ পেলেন বরিশালের দুই সাংবাদিক "টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ" ক্যাম্পাস জীবনের শেষ প্রান্তে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন

বরিশালে ওষুধ চুরির দায় এড়াতে থানায় জিডি করলেন ডা.সাইয়্যেদ

বরিশাল বাণী:  সরকারি হাসপাতালের বস্তাভর্তি ওষুধ পাচার ও অবৈধভাবে পোড়ানোর ঘটনার ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় ১০জন সাংবাদিককে দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে আটক করে রাখা সেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে নিজেই বাদী হয়ে স্টোর কিপার সাইদুল ইসলামকে দায়ী করে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন।

গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্ব্যাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও কর্মচারীদের যোগসাজসে সরকারি হাসপাতালের বিপুল পরিমান সরকারি ঔষধ পাচার করাসহ অবৈধ ভাবে পোড়ানোর খবর পান স্থানীয় সাংবদিকরা পড়ে তারা পেয়ে সেই চিত্র ধারন করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ১০জন সাংবাদিককে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুব্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে ইউনওর নেতৃত্বে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় রোববার রাতে উপজেলা প্রাণী সম্পদের ভেটেরিনারি সার্জনকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সায়িৎদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ বাদি হয়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় স্টোর কিপার সাইদুল ইসলামকে দায়ি করে সাধারন ডায়েরি করেছেন। তদন্ত কমিটিকে আগামি তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুরোধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ^াস। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটিকে ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত চিকিৎসকগন নিজেদেরকে বাঁচাতে ষ্টোর কিপার ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের ওপর ঘটনার দ্বায় চাপাচ্ছেন।

জানাগেছে, গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপুল পরিমান সরকারি ঔষধ পাচার হওয়া ও পোড়ানোর হচ্ছে এমন একটি খবর আসেস্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে। খবর পেয়ে স্থানীয় দশজন সংবাদকর্মীরা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। তখন তারা দেখতে পান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাজেদুল হক কাওছার ও ষ্টোর কিপার সাইদুর রহমান, ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী আনোয়ার হোসেন, খোকন ও দুলালসহ তাদের বহিরাগত আরো ৪/৫ জন সহযোগী মিলে কয়েকটি বস্তা ভর্তি সরকারি ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার কোয়াটারের পাশে একটি নির্জন স্থানে ফেলে বেশ কিছু ঔষধ পোড়ানো হচ্ছে। সংবাদকর্মীরা এর ভিডিও ধারন ও ছবি তুলতে গেলে তখন ডাক্তার-কর্মচারীরা বেশ কিছু সরকারি ঔষধ সেখানে ফেলে পালিয়ে যায়। সংবাদ সংগ্রহ শেষে সংবাদকর্মীরা ওই এলাকা ত্যাগ করতে গিয়ে দেখেন ডাক্তার কোয়াটারের দুটি গেট তালাবদ্ধ করে দিয়ে সিকুরিটি লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাদেরকে আটকে ফেলা হয়েছে বুঝতে পেরে সাংবাদিকরা তাৎক্ষনিক তারা ঘটনাটি গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাসকে জানান ও ফেইসবুক লাইভে এসে তাদেরকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আমরুল্লাহ এ সময় তার কোয়াটারের বাসায়ই ছিলেন। সাংবাদিকরা মুক্ত হতে তার মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দেন। তিনি সংবাদকর্মীদের ফোন রিসিভ করেননি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মডেল থানার এসআই কামাল হোসেনকে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার কোয়াটারের গেট খোলার নির্দেশ দেন। তাকে দীর্ঘ সময় সেখানে অপেক্ষা করিয়ে রেখে রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ গেটের তালা খুলে দেন। ফলে ঘটনার প্রায় দুইঘন্টা পর আটকে রাখা সংবাদকর্মীরা মুক্ত হন।
এরপর ইউএনও’র নির্দেশে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার কোয়ার্টার ও আসপাশের এলাকা তল্লাশী চালিয়ে কোয়াটারের পাশের ঝোপ ও ঝাড়ের ভেতর থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে নেয়া বস্তাও কার্টন ভর্তি বিপুল পরিমান সরকারি ঔষধ ও ইনজেকশন এবং চিকিৎসা সামগ্রী জব্দ করেন। যেগুলোর গায়ে আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত মেয়াদ লেখা রয়েছে।

ঘটনা জানাজানি হলে এলাকার শতাধীক সাধারন মানুষ ও সংবাদকর্মীরা ওই রাতে সেখানে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে প্রত্যহারপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবিতে ইউএনও’র সামনে মিছিলসহকারে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে রাত ১টার দিকে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত হয়ে ঘরে ফেরেন।

একটি গোপন সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটিকে ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত চিকিৎসকগন নিজেদেরকে বাঁচাতে ষ্টোর কিপার ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের ওপর ঘটনার দ্বায় চাপাচ্ছেন।

আটকের শিকার হওয়া সাংবাদিকরা দাবি করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আমরুল্লাহ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাজেদুল হক কাওছার নির্দেশে ডাক্তার কোয়াটারের দুটি গেটে তালা দিয়ে আমাদেরকে আটকে রাখা হয়।

সাংবাদিকদের আটকে রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আমরুল্লাহ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ষ্টোর কিপার ডেট ওভার কিছু ঔষধ পুড়িয়ে ফেলেছে। পাচার করা বস্তাভর্তি ডেট থাকা সরকারি ঔষধ উদ্ধার এবং সাংবাদিকদের আটকে রাখার ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পুরো ঘটনার দায়ভার ষ্টোর কিপার সাইদুল ইসলামের উপর চাঁপিয়ে দিয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাজেদুল হক কাওছার নিজেকে নির্দোষ সাজানোর চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের ধারন করা ভিডিও ফুটেজে ঔষধ পাচার ও পোড়ানোর ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সংবাদকর্মীদেরকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বেশকিছু সরকারি ঔষধ জব্দ করা হয়েছে। যার অধিকাংশরই ডেট আছে। প্রাথমিক তদন্তে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শনিবার দিবাগত রাত ৮টা ২৩ মিনিটের দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ট্রলি ভর্তি করে ঔষধের কার্টনগুলো বাহিরে নেয়া হয়েছে। পুরো ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করাসহ এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচারে জন্য রোববার রাতে উপজেলা প্রাণী সম্পদের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মাছুম বিল্লাহকে আহবায়ক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আঃ জলিল, গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) তৌহিদুজ্জামানকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ