২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বরিশালে কলেজছাত্র সোহাগ হত্যা : ২ আসামিকে ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন

শামীম আহমেদ :: বরিশালে কলেজছাত্র সোহাগ সেরনিয়াবাতকে হত্যার সাত বছর পর মামলার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

বরিশালের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক টি এম মুসা আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) বুধবার দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন জিয়াউল হক লালন ও রিয়াদ সরদার। আসামি মামুন, ইমরান, বিপ্লব ও ওয়াসিম সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এটিএম আনিসুর রহমান ও পিপি এ্যাড, লস্কর নুরুল হক। তিনি জানান, নিহত সোহাগ ছিলেন বরিশালের উজিরপুরের পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। এলাকায় তার একটি পোশাকের দোকানও ছিল। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে আসামিরা উজিরপুরের রাখালতলা এলাকায় সোহাগকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এর আগে বিভিন্ন সময় সোহাগের কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আসামিরা। তা না পাওয়ার সোহাগের দোকানে ভাঙচুরও চালানো হয়। এর জেরেই সোহাগকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মামা খোরশেদ আলম ১৩ জনকে আসামি করে উজিরপুর থানায় মামলা করেন। একে একে গ্রেপ্তার করা হয় আসামিদের। তদন্ত শেষে পুলিশ সে বছরের ২২ নভেম্বর অভিযোগপত্র জমা দেয়। ৩১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য এবং প্রমাণ ও আলামত বিবেচনায় বিচারক এই রায় দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী।

নিহতের বাবা ফারুক হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে যারা বেকসুর খালাস পেয়েছেন তারাও হত্যায় জড়িত ছিলেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি পেলে তা নিয়ে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশা করি হত্যায় জড়িত থাকার অপরাধে উচ্চ আদালত তাদের শাস্তি দিবে।’

নিহতের মা শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘রায়ে খুশি হয়েছি। তবে খালাসপ্রাপ্ত ১০ জনের সাজা দিলে আরও ভালো হতো। তারাও আমার ছেলের হত্যায় জড়িত ছিল।’

বাদীর আইনজীবী আনিসুর রহমান বলেন, ‘অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে, যা এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ