১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

বরিশালে লঞ্চঘাটের ইজারা নিয়ে দুই এমপির টানাটানি!

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

নিজস্ব প্রতিবেদক ::: লঞ্চঘাটের ইজারা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে বরিশাল-৪ আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ ও সংরক্ষিত আসনের এমপি শাম্মী আহম্মেদ। তবে টাকার পরিমাণ যে খুব বেশি তাও নয় মাত্র আট হাজার টাকা। নদীর তীরে চর জেগে উঠায় পন্টুনে লঞ্চ ভিড়তে না পারা এবং জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে ইজারা বাতিলের দাবি এমপি পঙ্কজের। তবে সংরক্ষিত আসনের এমপি শাম্মীর দাবি, ঘাট ইজারা না পাওয়ার শঙ্কা থেকেই আগাম ইজারা বাতিলের ভুয়া দাবি তোলা হচ্ছে। আর দুই এমপির টানাটানিতে বিপাকে পড়েছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চর এককুরিয়া ইউনিয়নের লালখারাবাদে এ লঞ্চঘাট। ঢাকা আসা-যাওয়ার পথে যাত্রীরা ওঠানামা করে এখানে। সরকার মাসে ইজারা বাবদ পায় ৮ হাজার টাকা। কিন্তু ঘাটের ইজারা দেয়া না দেয়ার দাবিতে এখন মুখোমুখি অবস্থানে বরিশাল-৪ আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ ও সংরক্ষিত আসনের এমপি শাম্মী আহম্মেদ।

পঙ্কজ অনুসারীদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে তারা ইজারা নিলেও ক্ষমতা পেয়ে সম্প্রতি সংরক্ষিত আসনের সাংসদ শাম্মী আহমেদের লোকজন হামলা চালিয়ে দখল করে ঘাটটি। দিনে ৩-৪ হাজার টাকা আয় হলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেয় দিনে মাত্র ২৬৭ টাকা; বাকিটা হয় লুটপাট।

ঘাট ইজারাদার দাবি করা জাকির হোসেন মন্টু বলেন, ‘এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ঘাটটির ইজারা আনলেও তা ভোগ করতে পারিনি। শাম্মী আহমেদের অনুসারীরা ঘাট দখল করেছে। এ ঘাটের কারণে শাম্মী আহমেদের লোকজন আমাকে মারধর করে আহত করে। হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম প্রায় ২১ দিন। ঘাটে সারা দিনে ঢাকাগামী মাত্র একটি লঞ্চ চলাচল করে। বিভিন্ন পণ্য ও যাত্রীদের আনা নেয়া বাবদ ঘাটে প্রতিদিন ৩-৪ হাজার আয় টাকা আয়। সরকারি কোষাগারে জমা দেয় দিনে মাত্র ২৬৭ টাকা।’

সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, ‘প্রথমবার এমপি হওয়ার পর ওই ঘাটের ইজারা বাতিল করিয়েছিলাম। বিনা পয়সায় লোকজন যাতায়াত করত। কিছুদিন আগে ক্ষমতার দাপটে ঘাটটি ইজারা দিতে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা হয়। আজিজুর রহমান নামে একজন ইজারা পেলেও তাকে ঘাটে যেতে দেয়া হয়নি। মোতালেব জাহাঙ্গীরের লোকজন ঘাট দখল করে টাকা তুলছে।

‘এখন আবার স্পট কোটেশন করে টাকা আদায় এবং স্থায়ীভাবে ইজারা দেয়ার চেষ্টা চলছে। যে স্থাপনা জনসাধারণ ব্যবহার করতে পারছে না, তার জন্য কেন তারা টাকা দেবে? আমি সেজন্য এটি ইজারা না দিতে অনুরোধ জানিয়েছি। এরই মধ্যে বিআইডব্লিউটিএকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করছি, অচিরেই ঘাটের ইজারা বন্ধে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

এমপি পঙ্কজ দেবনাথের দাবি, যেহেতু লঞ্চঘাটে লঞ্চ আসে না, তাই মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ঘাটের ইজারা বাতিল চেয়ে তিনি বিআইডব্লিউটিএকে চিঠি দিয়েছেন।

আর সাংসদ শাম্মী আহমেদের অনুসারীদের দাবি, ঘাট বেদখল হওয়াতে পঙ্কজ নাথ ইজারা প্রথা বাতিলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

চর এককুরিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বেলাল মাহমুদ বলেন, ঘাট নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব এখন চরমে। স্থানীয় জনগণ সবাই চায় ঘাট উন্মুক্ত করে দেয়া হোক। ঘাট যদি ইজারা দেয়া হয়, তাহলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে।

মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘এটি আসলে এমপি পঙ্কজ দেবনাথের একটি স্টান্টবাজি। তার লোকজন ঘাট পাবে না বুঝে তিনি জনদরদি সাজার নাটক করছেন। গত ৫ বছর ঘাট ইজারা দেয়া হচ্ছে। এমপি পঙ্কজ ঘাট ইজারা বাতিলের আবেদন করেছেন। সরকার যদি মনে করে তার এ বাতিলের দাবি যৌক্তিক, তাহলে সরকার এটা বন্ধ করে দিক।’

আগামী জুন মাসে ঘাটটি বার্ষিক ভিত্তিতে ইজারা দেয়ার প্রস্তুতি চললেও দুই এমপির টানাহেঁচড়ায় বিপাকে পড়েছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। কার কথা শুনবেন আর কারটা ফেলবেন- তাই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন নদীবন্দর কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ