৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বরিশালে সবজির দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে দাম না বাড়লেও বরিশাল নগরীর বাজারগুলোতে আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সেই সঙ্গে সব ধরনের মাছের দামও বেশ চড়া।

শুক্রবার নগরীর বাজার রোড, বাংলা বাজার, বটতলা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর। এই সবজিটি কিনতে ক্রেতাদের দাম দিতে হচ্ছে চড়া। এছাড়া কেজি একশ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়ার তালিকায় রয়েছে পাকা টমেটো। আগের সপ্তাহের মতো পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এর সঙ্গে বেগুন, ঝিঙ্গে, করলা, বরবটি, চিচিঙ্গার দামও বেশ চড়া। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সবগুলোরই দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেগুন, ঝিঙ্গে এবং করলার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটির কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আগের মতো ঢ্যাঁড়স এবং পটল ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। পেঁপের কেজি ৪০ টাকা।

সবজির দামের বিষয়ে পোট রোড বাজারের ব্যবসায়ী কবির বলেন, আমাদের হিসেবে সবজির দাম যে হারে বাড়ার কথা, সে হারে বাড়নি। কারণ এবার বৃষ্টিতে প্রচুর সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার করোনার কারণে সবজির সরবরাহ কম। সে হিসেবে সবজির দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় কথা, তবে বাড়েনি। ঈদের পর সবজির দাম বাড়বে বলে আমাদের ধারণা।

বাংলা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কালাম বলেন, আড়তে এখন সবজির দাম অনেক। বেশি দামে কিনে আনার কারণে আমরা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। শীতের সবজি বাজারে আসার আগে দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বরং ঈদের পর সবজির দাম আরও বাড়তে পারে। এদিকে তিন সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া আদা বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। আর দেশি আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, রুই মাছ ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা এবং রূপচাঁদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাংসের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আগের মতো ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। লেয়ার মুরগি ২৪০-২৫০ টাকা আর সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। মুরগির পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। এর সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে আলু এবং ডিমের। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। আর ফার্মের মুরগির ডিম ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।

চৌমাথা বাজার থেকে সবজি ও মাছ কেনা শামিমা বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম চড়া। আমাদের কিছু করার নেই। সবকিছু মুখ বন্ধ করে সহ্য করে নিতে হবে। এই করোনার মধ্যে সাধারণ মানুষ কী পরিমাণ কষ্টে আছে, বলে বোঝানো যাবে না।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ