৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বরিশাল নগরীতে বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষকদের বিক্ষোভ

বাণী ডেস্ক।।
বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের ৫০ ভাগ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান ও শিক্ষা জাতীয় করনসহ বিভিন্ন দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন সমিতি।

শনিবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় নগরের সদররোডস্থ অশ্বিনী কুমার টাউন হলে উক্ত মানববন্ধন করে তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আগামী জানুয়ারী থেকে শিক্ষকদেন দাবি দাওয়া পুরন না করা হলে এদেশের সমাজ পরিবর্তন যে আন্দোলন গড়ে উঠবে শিক্ষক সমাজ সেই আন্দোরনে ঝাপিয়ে পরবে।

একই সাথে গণ অনশন,আমরন অনশন সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনদিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার হবে বলে বক্তব্যতে একথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন সমিতির বিভাগীয় সমন্বয়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম খসরু, যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক হানিফ হোসেন তালুকদার, অধ্যক্ষ প্রনব বেপারী, প্রধান শিক্ষক শাহ আলম, অধ্যক্ষ তাইজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপিকা ফারহানা তিথি, মো. শহিদুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।

এসময় মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে সরকার এসেছে, সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থা যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। শিক্ষা আজ ধনীদের শিক্ষায় পরিনত হয়েছে। শিক্ষা গরিবদের ধরাছোয়ার বাইরে চলেগেছে। অথচ সংবিধান মোতাবেক শিক্ষা সকল মানুষের মৌলিক অধিকার।

তারা বলেন, মহামারি করোনায় শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষকরা মারাক্তকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দূভাগ্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী বহু প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিবর্গকে প্রনোদনা দিয়েছেন কিন্তু বেসরকারী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীরা বঞ্চিত থেকেছে।

তিনি আরো বলেন , বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের বাজারে উর্দ্ধগতি ও চিকিৎসা সেবা নেওয়া শিক্ষকদের জন্য দুরুহ হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় দাড়িয়ে বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের ৫০ ভাগ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদানের জোর দাবি জানান বক্তারা।

বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় কোন বদলির ব্যবস্থা নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন শিক্ষক নিয়োগ হয় এনটিআরসি থেকে। যার ফলে একজন শিক্ষক নিয়োগের পর থেকেই তাকে একই কর্মস্থানে থাকতে হয়।

তিনি বলেন, বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীরা মাসে এক হাজার টাকা বাড়িভাড়া পায়, উৎসব বোনাস দেওয়া হয় মাত্র ২৫ ভাগ। তাই আমাদের দাবি সরকারি স্কুল কলেজ, মাদ্রাসার ন্যায় আমাদেরকেও ভাতা প্রদান করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বৈষম্য বিরাজমান, তার উপর অনার্সসহ প্রচুর শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ১০/২০ বছর শিক্ষকতা করে কোন বেতন পাচ্ছেনা। এতে ওইসব শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এসময় বক্তারা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো. বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের ৫০ ভাগ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান, বাড়িভাড়া এক হাজার টাকার পরিবর্তে সরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ন্যায় প্রদান করা, বেসরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজে জ্যেষ্ঠ প্রাষকের পরিবর্তে সহকারি অধ্যাপক পদবী চালু, বেসরকারি কলেজে অনার্স শিক্ষক সহ নন এমপিও ভুক্ত সকল শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিও ভুক্ত করা, শিক্ষা মন্ত্রনালয় , জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড, মাউশিসহ সকল শিক্ষা অফিসগুলোতে শিক্ষক কর্মচারীদের নানা হয়রানী বন্ধ, যানবাহনে ছাত্র শিক্ষক ও কর্মচারীদের যাতায়াতে হাফভাড়া প্রদান ও পুনাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদানসহ শিক্ষা জাতীয় করনের দাবি তুলে ধরেন।

মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দরা নগরীতে এক বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধাানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। মানববন্ধনে বরিশালের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও স্কুল কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী গন উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ