১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বরিশাল সদর বিএনপি’র সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষানার দাবি

বরিশাল বাণী: বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি’র সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষানার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সেইসাথে বরিশাল জেলা (দক্ষিন) এর কমিটি পুনঃগঠনের দাবির কথাও জানিয়েছেন বিএনপির একাংশের নেতারা।
শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২ টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির শহীদ জননী সাহান আরা বেগম স্মৃতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবির কথা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সদ্য ঘোষিত বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য মোঃ জিয়াউল ইসলাম সাবু তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, অসাংগঠনিকভাবে গত ১৯ জুলাই পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে সম্প্রতি বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির একটি কমিটি দিয়েছে বরিশাল জেলা (দক্ষিন) বিএনপি’র আহবায়ক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান নান্টু ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন তালুকদার মেবুল।
অথচ বিলুপ্ত করার আগে সদর উপজেলার সভাপতি অ্যাডভোকটে কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু ঘটনার সময় হজ্ব পালনে দেশের বাহিরে ছিলেন। সেসময় তার অনুরোধসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধসহ পরামর্শও উপেক্ষা করে তারা এ কমিটি দিয়েছে বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ২০ জুলাই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের নিকট লিখিত অভিযাগ দেন অ্যাডভোকটে কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু।পরবর্তীতে ৩১ জুলাই মহাসচিবের বরাতে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-সভাপতি আঃ আউয়াল মিন্টু বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের পরামর্শক্রমে বরিশাল সদর উপজেলা কমিটি করার লিখিত নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ফেসবুকের মাধ্যমে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করেন জেলার সভাপতি।
তিনি বলেন, মুজিবুর রহমান নান্টু ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অগনতান্ত্রিকভাবে সদর উপজেলার সাবেক কমিটির কারো সাথে পরামর্শ বা মতামত না করিয়া অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় একটি হাস্যকর কমিটি ঘোষনা করেন। যে কমিটিতে পদাধিকার বলে বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দর থাকার কথা থাকলেও অনেককেই রাখা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াত থেকে বহিস্কৃত বিতর্কিত নেতা নুরুল আমিনকে সদ্য ঘোষিত সদর উপজেলা বিএনপি’র কমিটির আহবায়ক ঘোষনা করা হয়েছে। যে কিনা সদ্য বিলুপ্ত উপজেলার বিএনপি’র সদস্যও ছিলেন না। যদিও এরআগে নুরুল আমিন কড়াপুর ইউনিয়নের আহবায়কের দায়িত্ব নিলে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সম্পাদক সহ ১৯২ জন নেতানেত্রী পদত্যাগ করেন।
এদিকে বর্তমান কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র চলমান কমিটিকে স্থগিত দেখিয়ে থানা বিএনপি’র অনুমোদন ব্যতীত নিজেকে সভাপতি ও তার আপন ছোট ভাই যুবলীগ নেতা মনির হোসেনকে সিনিয়র সহ সভাপতি ঘোষনা দিয়ে কমিটি প্রকাশ করেন। যে কমিটির বিরুদ্ধে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সিকদার ও হাবিবুর রহমান মিন্টু মেম্বর একটি মামলা আনায়ন করে, যা বর্তমানে চলমান। এছাড়া উক্ত নুরুল আমিন বিগত ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট কাজী এনায়েত হোসেনের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তার ইউনিয়নে বিএনপি’র নেতাদের পুলিশী হয়রানি করেন। এছাড়া ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নুরুল আমিন ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা হয়েও আওয়ামীলীগের প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
অপরদিকে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চরমোনাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী নুরুল ইসলাম মাষ্টারের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারী বিতর্কিত নেতা আঃ ছালাম রাঢ়ীকে বর্তমান আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক করা হছে।
এছাড়া উক্ত বিতর্কিত আহবায়ক কমিটিতে অনেক অঙ্গ সংগঠনের লোকদের সদস্য করা হয়েছে যাদের অনেককে আমরা চিনিনা। কমিটিতে অনেককে যথাযথ স্থানে না রেখে জুনিয়র সদস্যদের নিচে নাম লেখা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, কমিটিতে সদর উপজেলা বিএনপি’র পরীক্ষিত ত্যাগী জেল জুলুম ও অত্যাচার সহ্যকারী নেতাকর্মীগন হতাশ, নিরাশ এবং হতবাক। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে নেতৃবৃন্দ এই দাবী না মানলে লাগাতার কর্মসূচী দিয়ে অবাঞ্চিত কমিটিকে হঠাতে বাধ্য হবো। এছাড়া বরিশাল জেলা বিএনপি’র বিতর্কিত ও মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির আহবায়ক এ্যাড. মজিবুর রহমান নান্টুর জেলা কমিটির পুনঃগঠনের দাবী জানাই। কারণ উক্ত মজিবুর রহমান নান্টু পিরোজপুর জেলার লোক বরিশাল জেলা বিএনপি’র কোন আন্দোলন সংগ্রামে তাকে পাওয়া যায়নি এবং সদস্য সচিব পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালির লোক। আমরা চাই বরিশাল জেলার লোক দিয়ে জেলা কমিটি গঠন করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি’র সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু, সদ্য ঘোষিত কমিটির ২ নম্বর যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মন্টু খানসহ একাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে কমিটি বাতিলের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি নেতারা।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ