১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ ইজরায়েল থেকে তথাকথিত স্পাইওয়ের কেনার বিষয়টা আসলে কি?

আল- জাজিরার মতে বাংলাদেশ ইজরায়েল থেকে তথাকথিত স্পাইওয়ের কেনার বিষয়টা আসলে কি?

নাঈমুল ইসলাম খান: [১] বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ডিসেম্বর ২০১৬ তে, জাতিসংঘের কাছ থেকে একটি অনুরোধ পেয়েছিলো কঙ্গোতে একটি সিগন্যাল ইনটেলিজেন্স ইউনিট নিয়োজিত করার।

[২] তেমন একটি সিগন্যাল ইনটেলিজেন্স ইউনিট পাঠাতে প্যাসিভ ইন্টারসেপশন ডিভাইস থাকতে হবে, তখন সেই রকম কিছু বাংলাদেশে ছিলো না তাই তারা কঙ্গোতে ইউনিট পাঠাতে পারেনি।

[৩] জাতিসংঘ তখন তানজানিয়া থেকে সেই সিগন্যাল ইনটেলিজেন্স ইউনিট কঙ্গোতে নিয়োজিত করে। নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে, সেই ইউনিট এখনও কঙ্গোতে কাজ করছে।

[৪] গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক প্রশ্নের জবাবে আল- জাজিরা সম্প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন্’ সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।
সেই প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেছেন,‘‘We have required in one peacekeeping operation, in line with the relevant UN intelligence peacekeeping policy, the capability to intercept certain types of communications as a measure to enhance the security of UN personnel in situations where security conditions warrant its use. This capability is employed strictly in accordance with UN Peacekeeping– Intelligence Policy and under the operational authority of the Force Commander’.
তিনি আরও বলেছেন, ‘‘Bangladesh is the largest contributor of uniformed personnel to UN peacekeeping operations. The deployment of such personnel is pursuant to specific requirements from the UN that are reflected in agreements with Bangladesh for each peacekeeping operation that they contribute to. The UN has not indentified in any of these agreements a requirement for the capability provided by the operation of electronic equipment in the nature described by Al Jazeera in its documentary, and such equipment has not been deployed with Bangladeshi contingents in UN peacekeeping operations.

[৫] বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তখন থেকে ভাবতে শুরু করে একটি প্যাসিভ ইন্টারসেপশন ডিভাইস (তথাকথিত স্পাইওয়ের) কিনবে যেটা ভবিষ্যতে জাতিসংঘের কোনো মিশনে কাজে লাগতে পারে। (সূত্র আইএসপিআর)

[৬] বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মার্চ ২০১৭ সালে এই ডিভাইসটি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে এবং জুন ২০১৮ সালে হংকংয়ের Sovereign Technologies Ltd এর সাথে চুক্তি করে। এই ডিভাইসের প্রস্তুতকারক PICSIX Ltd Hungary, সেখানেই উক্ত ডিভাইসের ওপরে প্রশিক্ষণ এবং প্রি শিপমেন্ট ইনসপেকশনও সম্পন্ন হয় এবং বাংলাদেশ এই যন্ত্র পেয়ে যায়। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনোই দাবি করেনি যে এই ডিভাইস জাতিসংঘের কোনো মিশনে তারা কাজে লাগিয়েছে। (সূত্র নির্ভরযোগ্য)

[৭] এই ডিভাইসটি হংকংভিত্তিক একটি কোম্পানির কাছ থেকে কেনা হয়েছে এবং তারা হাঙ্গেরিতে তৈরি মর্মেই এই যন্ত্র, সেখান থেকেই সরবরাহ করেছে, এটাই বাংলাদেশ আর্মির অবস্থান। এই প্রযুক্তি ইসরায়েলের কোনো বিশেষজ্ঞ উদ্ভাবন করে থাকতে পারেন বলে আমি মনে করি, কিন্তু বৈশি্বক বাণিজ্য এই মুক্তবাজার অর্থনীতির সময়ে যেভাবে বেচা- কেনা পরিচালিত হয়, তাতে কোনো একটি প্রোডাক্টের উদ্ভাবন কোথায় হয় এবং তার বিভিন্ন অংশ কোথায় কোথায় তৈরি হয়, তারপর কোথায় সংযোজন হয় এবং তারপর কোন দেশে কোন একজন ব্যবসায়িক পার্টনার বা প্রতিনিধি সেই প্রোডাক্ট আরেকটি ভিন্ন দেশ বা কোম্পানির কাছে বিক্রি করে, এটা অত্যন্ত ইন্টারেস্টিং এবং অভিনব, যারা জানেন তারা এটা বুঝবেন।

[৮] সম্প্রতি আল- জাজিরা টেলিভিশনে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন্’ অনুষ্ঠানে যেভাবে দাবি করা হচ্ছে বাংলাদেশ ইসরায়েলের কাছ থেকেই কিনেছে এটা নির্বোধের গোয়ার্তুমি এবং দেশের স্বার্থবিরোধী।

অনুলেখক: ফাহমিদা তিশা
রচনার তারিখ: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email