১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বাউফলে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

অনলাইন ডেস্ক :: পটুয়াখালীর বাউফলে চিকিৎসকের অবহেলায় সাথী আক্তার (২০) নামের এক প্রসুতি মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে কালিশুরী নিউ লাইফ কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। সাথী আক্তার উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাদ গ্রামের মিলন হাওলাদারের স্ত্রী। সাথীর বাবার বাড়ি একই ইউনিয়নের মান্দারবন গ্রামে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রসব বেদনা নিয়ে সাথী বুধবার বিকালে ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন। সন্ধ্যা ৭ টায় সাথীর সিজার অপারেশন করেন ডা. আহমেদ কামাল তুষার ও ডা. নাবিলা রহমান। সিজারের মাধ্যমে সাথী একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন।

কিন্তু অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই সাথীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে সাথী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। দ্রুত সাথীকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সাথীর ভাই শুভ বাদী হয়ে ২ চিকিৎসকসহ ৮ জনকে আসামি করে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ সাথীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মামলার বাদী শুভ বলেন, চিকিৎসকের অবহেলায় আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমি ন্যায় বিচার চাই। আর ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।

এদিকে ডা. আহমেদ কামাল তুষারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি কলকাতার একটি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সনদ নিয়ে সিজার অপারেশন করছেন। কিন্তু তার এসএসসি ও এইসএসসি পরীক্ষা পাশের সনদপত্র নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

আহমেদ কামাল তুষার দীর্ঘদিন থেকে বাউফলের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ক্লিনিকে সিজার করছেন। এর আগেও তার অপারেশন করার পর কয়েকজন প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।

ডা. আহমেদ কামাল তুষার গত ১৮ জুলাই সেবা ক্লিনিকে লিপি আক্তার নামের এক প্রসূতির সিজার করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ার পর লিপিকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ আগস্ট লিপি আক্তার মারা যান। এর আগে সেবা ক্লিনিকে ডা. আহমেদ কামাল তুষারের হাতে কালাইয়া সবুজবাগ এলাকার নীপা রানী নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়।

এসব বিষয়ে জানার জন্য ডা. আহমেদ কামাল তুষারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয় কিন্তু নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলার অন্যতম আসামি ডা. নাবিলা রহমান বলেন, আমি ক্লিনিকের ডিউটি ডক্টর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত। সিজারের সঙ্গে আমি জড়িত না। আমাকে আসামি করার মানে হয় না।

তিনি বলেন, অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে ডা. আহমেদ কামাল তুষার রোগীকে প্রথমে স্পাইনাল এনেস্থেসিয়া (অবশ করার জন্য চিকিৎসা ) প্রয়োগ করেন। এরপর তিনি নিজেই সিজার অপারেশন করেন।

সার্জন কীভাবে অ্যানেশথেশিয়া প্রয়োগ করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর তারা আমাকে বলেন, এটা দেখার দায়িত্ব আমাদের, আপনার নয়।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক জরুরি প্রসূতি সেবা বিভাগ থাকলেও কতিপয় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও দালালদের কারণে তা অচল হয়ে আছে। সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা প্রসূতিদের বিভিন্ন কৌশলে বাণিজ্যিক ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্লিনিকেই সরকারি নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না।

আরও অভিযোগ রয়েছে, পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে বাণিজ্যিক ক্লিনিকগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ফলে রোগীরা প্রতারিত হলেও ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আহমেদ কামাল তুষার একজন ভুয়া চিকিৎসক। প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ