১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

(মোরা আইনের লোক) চৌকিদারের দাপটে গ্রামবাসী অতিস্ট – প্রশাসনের কাছে অভিযোগ

মোঃগোলাম সরোয়ার মনজু

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৫নং কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ০৯ নম্বর ওয়ার্ডের গাবুয়ার চৌকিদার মোঃ হেলাল এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারনে অত্র এলাকার সাধারন মানুষ ও মসজিদের সন্মানিত ইমাম সাহেব পর্যন্ত নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে বলে ১৩ জনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ করেছেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামবাসী গত ১৯ আগস্ট রোজ বুধবার মির্জাগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ সরোয়ার হোসেন এর দপ্তরে হেলাল চৌকিদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে দেখা যায়, নিজাম উদ্দিন, পিং- জয়নুদ্দিন এর ভোগ দখলীকৃত জমি জোড় করে ভোগদখল, টাকার বিনিময়ে উত্তরাধিকার সনদে স্বাক্ষর, বন বিভাগের দেয়া টাকার চেক গ্রহনে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দোহাই দিয়ে অপকৌশল করে জন প্রতি ৫-৬ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেয়া, এবং বন বিভাগের বাকেরগঞ্জ সুবিদখালী মহাসড়কের ভাটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দক্ষিণ দিকে তাঁরাবুনিয়া আলম আলী হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত মহা সড়কের উভয় পাশে বন বিভাগের সৃজিত বাগানের মধ্যে যাদের জমি নেই এমন লোককে টাকার বিনিময়ে সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। যাদের প্রকৃত জমি আছে তাদের নাম তালিকায় না দেয়া এবং হেলাল চৌকিদার এর নামের সামান্য পরিবর্তন করে সুচতুরভাবে তার ২ ছেলের সৃজিত বাগানের তালিকায় নাম রাখা। আরও জমি না থাকা সত্ত্বেও একই পরিবারের ৩ জন সদস্যের পিতার নামে সামান্য পরিবর্তন করে সুচতুরভাবে অর্থের বিনিময়ে তালিকাভুক্ত করেন। এছাড়া তার ছেলেদের মধ্যে এক ছেলে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বলে জানা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছে হেলাল চৌকিদারের সম্পর্কে জানতে চাইলে তার ভয়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি কেউ। তারপর সাংবাদিকরা গোপনভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও ধারন করলে তখন স্থানীয় লোকজন ক্যামেরা নাই ভেবে তাদের মুখ খুলেন। প্রায় অর্ধ শতাধিক লোকের কাছে জিজ্ঞেস করে জানা যায় এই হেলাল চৌকিদার স্থানীয়ভাবে এসপি হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় লোকজন আরও বলেন হেলাল চৌকিদার এলাকার জন্য ত্রাশ। আমরা এর হাত থেকে বাঁচতে চাই।

এই ব্যাপারে হেলাল চৌকিদারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি নানা অজুহাতে এরিয়ে যান। পরে তার মুঠফোনে জানতে চাইলে তিনি উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতার প্রভাব দেখিয়ে তিনি দেখা করবে বলে জানান।

অভিযোগে উল্লেখিত বিষয়ে কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ সহ গন্যমান্য ব্যাক্তিরা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য বলে স্বীকার করেন এবং বলেন আমাদের নাম দয়া করে গোপন রাখলে ভালো হয়। কারন ও কারো ইজ্জত রাখেনা তাই।

এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব এম আর শওকত আনোয়ার হোসেন বলেন, উল্লেখিত অভিযোগের কথাগুলো সত্যি হলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ সরোয়ার হোসেন মুঠোফোনে জানান কোন বক্তব্য নাই তদন্ত করতে দিবো তদন্তে দোষী প্রমানিত হলে কঠিন শাস্তি হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ