৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

রাঙ্গাবালীতে তেল সারের মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকের গলার কাঁটা

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় আষাঢ় মাস থেকে শ্রাবণের মাঝামাঝি পর্যন্ত বৃষ্টির তেমন দেখা মেলেনি। অনেক কৃষকের চারা বীজতলাতেই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কেউ কেউ বাড়তি খরচ করে পানির মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপণ করেছেন। বৃষ্টির জন্য ২ আগস্ট রাঙ্গাবালীর কৃষকরা ইস্তিয়াক নামাজও আদায় করেছিলেন। প্রচন্ড খরার পর সেই চিত্র এখন ভিন্ন,বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার কারনে গত বৃহস্পতিবার থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙা বাধ দিয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে পাঁচটি গ্রামের লোকালয় ও নিম্নাঞ্চল। ৬৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। বীজতলা করা হয়েছে ১ হাজার ২৫৫ হেক্টরে। ওইসব আমন ক্ষেত টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে এখন পানিতে নিমজ্জিত। অন্য দিকে তেলের দাম বৃদ্ধি। ধান রোপণের শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সময়মতো পানি না পাওয়ায় ধানের বীজতলা তেমন ভালো হয়নি। তাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহতের শঙ্কা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দেখা গেছে, কৃষকেরা বৃষ্টির পানিতে জমি চাষ শুরু করেছেন। কেউ কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন, আবার কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন। কারও কারও বীজতলা পানিতে তলিয়ে আছে। চরমোন্তাজ ইউনিয়নের কৃষক মোঃ রাসেদ খান বলেন, এ বছর খরার কারণে বীজতলা ভালো হয়নি। পানির অভাবে সময়মতো ধান লাগাতে পারিনি। ধানের চারার বয়স হয়ে গেছে। আবহাওয়া ভালো হলে ধান রোপণ শুরু করবো। বদলা (শ্রমিক) -সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত টাকায় ধান রোপণের শ্রমিক নিতে হচ্ছে। গত বছর যেখানে ৫০০ টাকায় বদলা (শ্রমিক) পেয়েছেন, এ বছর ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে। উত্তর চরমোন্তাজ ইউনিয়নের কৃষক মোঃ সাইদুল খান বলেন, তিনি এ বছর ছয় একর জমিতে ধান রোপণ করছেন। খরায় বা বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ধানের বীজতলার চারা ভালো হয়নি। রোদের কারণে বীজতলার চারা মারা গেছে। পরে আবার চারা তৈরি করেছেন। সেই চারা রোপণ করছেন। এক দিকে এখন তেলের দাম বৃদ্ধি অন্য দিকে সারের দামও বৃদ্ধি তাই আগামী বছর থেকে চাষাবাদ ছেড়ে দিব। দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের কৃষক ইউনুস শরীফ বলেন, ধান কাটার পর একই জমিতে তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু দেরিতে ধান রোপণের কারণে তরমুজ চাষ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুজ বাজরের বিসিআসি ডিলার জিহাদ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার সুমন বলেন,গত বছর আমন চাষের সময় ইউরিয়া সার ১৬ টাকা কেজি ছিল, ৮০০ টাকা বস্তা ছিল। এবছর ইউরিয়া সার ২২ কেজি, ১১০০টাকা বস্তা হয়েছে। রাঙ্গাবালী উপজেলার উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ জুয়েল বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এ বছর ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ