২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

রাজাপুরে শিক্ষার্থীদের অনুদানের বরাদ্দ ৫ হাজার, কিন্তু পেয়েছে ৩ হাজার!

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :: ঝালকাঠির রাজাপুরের সোনারগাঁও জবান আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কীমের ব্যবস্থাপনা জবাবদিহির অনুদানের ৫ লাখ টাকা বণ্টনে অনিয়ম ও ২০ শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও ৩ হাজার টাকা করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার(২৩ এপ্রিল) দুপুরে নিয়ম উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কাউকে না জানিয়ে ওই স্কুলের ২০ শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার করে নিয়ম থাকলেও মাত্র ৩ হাজার টাকা করে শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট পরিপত্র সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এর আওতাভুক্ত এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টাস কর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশনস স্কীমের স্কুল/মাদ্রাসা/কলেজ ব্যবস্থাপনা জবাবদিহি অনুদান (ঝগঅএ/গগঅএ/এইঅএ) হিসেবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সারা দেশে ২৫০০টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিক্ষক প্রনোদনায় ২০ শতাংশ, বইপত্র শিক্ষা উপকরন গবেষণার সরঞ্জাম ক্রয় এবং লাইব্রেরি উন্নয়নে ২৫ শতাংশ, অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৩০ শতাংশ, সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ২০ শতাংশ অনুদান ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ৫ শতাংশ বন্টন করে দেয়া হয়। এর আওতায় এ স্কুলেও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা ১ লাখ টাকা উপজেলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার/একাডেমিক সুপারভাইজার, প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষক প্রতিনিধির সমন্বয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, অতিদরিদ্র, দুস্থ, এতিম, নদী সিকস্তি ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের পরিবারের শিক্ষার্থী বা তার আইনানুগ অভিভাবকের নিজ নামে রেজিস্টার্ড মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে অনুদানের অর্থ প্রেরণের কথা থাকলেও সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট কাউকে কিছু না জানিয়ে মনগড়া ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের শিশুদের তালিকা করে হাতে হাতে ৩ হাজার করে টাকা দেয়া হয়। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্য চরম ক্ষোভ বিরাজ করে।

ফেরদৌসী বেগম নামে একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, তার মেয়ে সাম্মি ১০ শ্রেণিতে ও তার ছেলে সাব্বির ৭ম শ্রেণিতে পড়ে কিন্তু তার দুজনের একজনেও টাকা পায়নি। তাদের চেয়ে অনেক বড় লোক বড় লোক ব্যক্তিরাও ৩ হাজার করে টাকা পেয়েছে। অভিভাবক রুনু বেগম জানান, তার মেয়ে মিম দশম শ্রেণিতে পড়ে রোল-২। তাকেও ৩ হাজার টাকা দিছে। শুনছি ৫ হাজার টাকা আসছে, কিন্তু ৩ হাজার দিয়ে সবাইকে শিখায়ে দিছে কেহ জিগাইলে বলবা ৫ হাজার দিছে। ২ হাজার টাকা কেন রেখে দিল এর বিচার চাই।

সরেজমিনে শিক্ষার্থী সাথী, লিজা, মিম অভিযোগ করে জানায়, সরকারের বিশেষ অনুদানের টাকা প্রত্যেকের নামে পাঁচ হাজার টাকা করে আসলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন মোবাইল ব্যাংকিং এর পরিবর্ত হাতে তিন হাজার টাকা দিয়ে দুই হাজার পকেটে রেখে দেয়। এ সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লাকি বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় টাকা কম দেয়ার কথা কাউকে বলতে নিষেধও করে দিয়েছেন তারা। সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে তাদের সামনে বসে ৫ হাজার করে দুজনকে দেয়া হলেও পরে পিয়ন বাহিরে এসে দুই হাজার করে ফেরৎ নিয়ে যায়।

অভিভাবক আঃ ছালাম, দুলাল, জসিম খান অভিযোগ করে জানায়, আমাদের ছেলে-মেয়েদের নামে কত টাকা বরাদ্দ আসছে আমাদের জানায়নি। শুনেছি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আসছে, শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ছেলে-মেয়েদের ডেকে তাদের হাতে তিন হাজার করে টাকা দিয়েছে। আর প্রত্যেকের বিকাশ নম্বরসহ পিন নম্বর রেখে দিয়েছে। স্কুলের অন্য বরাদ্দ আত্মসাৎ করবে কিছুই করবে না।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ২০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। কাউকে কম দেওয়া হয় নাই। বরাদ্দের ৫ লাখ নিয়মমতই যথাযথভাবে বন্টন করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লাকি বেগম জানান, তিনি নিজে উপস্থিত থেকেই হাতে হাতে টাকা প্রদান করেছেন। অন্য কাউকে তো প্রয়োজন নেই। কম দেয়ার কোন ঘটনাই ঘটেনি।

ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুনিল চন্দ্র সেন বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে মোবাইল ফোনে জানতে পারলাম। কিন্তু বিষয়টি ভূক্তভোগীরা লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মোবাইলে ব্যাংকিংয়ে টাকা প্রদানের প্রমানসহ প্রধান শিক্ষককে কালকে অফিসে আসতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ