২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাজাপুরে স্বামী পরিত্যক্তা প্রতিবন্ধীর সন্তান প্রসব, ৫ জনের নামে মামলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ::: ঝালকাঠির রাজাপুরে স্বামী পরিত্যক্তা এক বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বুধবার (৯ জুন) সকালে পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন ওই নারীর বড় বোন সুখি বেগম (৪৫)। গত ৩ জুন সকালে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তবে মা হলেও সন্তানের বাবা, কে হতে পারে তা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অবশেষে সন্তান প্রসবের ৬ দিন পর এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ সন্তানের পিতৃ পরিচয় খুঁজতে মাঠে নেমেছে।

বুধবার (৯ জুন) দুপুরে ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া সার্কেল) মো. শাখাওয়াত হোসেন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খোকন হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মামলার আসামিরা হলেন, পূর্ব রাজাপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. রাহাত হোসেন (৩২), উত্তর সাউথপুর গ্রামের আবদুল লতিফ হাওলাদারের ছেলে মানিক হাওলাদার (২৮), পূর্ব রাজাপুর গ্রামের বেল্লাল খা’র ছেলে মো. তারেক খা (২৮), চুনপুরী গ্রামের মো. আরিফ (৩০) ও আলী আহম্মদের ছেলে মো. নাসির (৪০)।

মামলায় বাদী সুখি বেগম অভিযোগ করেন, ছোট বোন (৩০) একজন বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী। ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। ১২ বছর বয়সী তার একটি ছেলে রয়েছে। ৮ বছর আগে স্বামী তাকে তালাক দিলে ভিক্ষা করেই জীবিকা নির্বাহ করতো সে। বোনের বাড়ির পাশে একটি ঘরে সে বসবাস করে। ৯ থেকে ১০ মাস আগে তার ঘরে লোকজনের উপস্থিতি টের পেতেন বলেও জানান সুখি। তিন মাস আগে বোনকে দেখে সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করলে টিউমার হয়েছে বলে জানায়। গত ২ জুন বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী ওই নারী অসুস্থ হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমা ইয়াসমিন মুন্নির সহযোগিতায় তাকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ৩ জুন ওই নারী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মামলার বাদী তার বোনকে ধর্ষণের বিচারের পাশাপাশি সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর পিতৃ পরিচয় খুঁজে বের করার দাবি জানান এজাহারে।

রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল খায়ের রাসেল বলেন, বর্তমানে মা ও নবজাতক সুস্থ রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ভর্তির সময় ওই নারীর স্বামীর নাম পাওয়া যায়নি।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এজাহারে যাদের নাম রয়েছে প্রথমে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। সন্তানটির প্রকৃত পিতাকে খুঁজে বের করার জন্য যা করা দরকার পুলিশের পক্ষ থেকে তা করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ