২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

রাজাপুর সরকারি কলেজে ‘উন্নয়ন ফি’ নিচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ!

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :: ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০২০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক অটো পাস করা শিক্ষার্থীদের মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দেয়ার জন্য উন্নয়ন তহবিলের নামে অবৈধ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র পেতে কলেজের অফিস সহকারী জাকারিয়া জুয়েল প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ফোন দিয়ে ৬০০ টাকা করে নিয়ে আসতে বলেছেন।

গতবছর রাজাপুর সরকারি কলেজ থেকে মোট ১৯৫ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় কলেজের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই হাজার করে টাকা নেয়া হয়েছে। আবার পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেয়ার সময় নেয়া হয় ৫০০ করে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজ কর্তৃপক্ষ আগেই বলেছিল পরীক্ষা যেহেতু হয়নি, সেজন্য প্রবেশপত্রের জন্য যে ৫০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে তা ফেরত দেয়া হবে। ওই টাকা আজও ফেরত দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে রাজাপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম বারী জানান, এটি উন্নয়ন তহবিলের জন্য নেয়া হচ্ছে। তবে কেউ অসচ্ছল হলে বা অনুরোধ করলে তাদের কাছ থেকে কমিয়ে নেয়া হচ্ছে।

তিনি এ প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার কলেজ থেকেও প্রশংসাপত্র আনার সময় আপনি এই চাঁদা দিয়ে এসেছেন। এতে বেআইনি কিছু নেই।’
প্রবেশপত্র ও ফরম পূরণের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফরম পূরণের টাকার বিষয়ে বোর্ড কিছু জানায়নি এবং প্রবেশপত্রের টাকা আমরা এখনো ফেরত পাইনি।’

সরকারি কলেজে সরকারের বরাদ্দে সব উন্নয়ন হয়। তাই উন্নয়ন ফি নেয়া হচ্ছে কিসের জন্য, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি অধ্যক্ষ।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনূস বলেন, সরকারি কলেজের উন্নয়ন তহবিলে শিক্ষার্থীরা কেন টাকা দেবে? এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোক্তার হোসেন বলেন, কেউ যদি এই বিষয়ে অভিযোগ করেন, তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ