৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আ.লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, বাস চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের জড়িয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ। বৃহস্পতিবার বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আ’লীগ নেতা সুলতান মাহামুদ এবং শ্রমিক নেতা পরিমল চন্দ্র দাসের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বাসস্ট্যান্ডে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হলে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দেয় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এই সংঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অনেকটা আকস্মিক সুলতান মাহামুদ ও পরিমলের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বাসস্ট্যান্ডে উত্তেজনা ছড়িয়ের পড় এবং সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করলেও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা।

উল্লেখ্য, রুপাতলী শ্রমিক ইউনিয়নের একটি কমিটি থাকলেও সম্প্রতি শ্রমিকলীগ নেতা পরিমাল চন্দ্র দাসকে সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু শাহারিয়ার বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। অধিকাংশ শ্রমিক এই কমিটিকে অবৈধ হিসেবে দাবি করে আসলেও তারা বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

সুলতান মাহামুদ জানান, শ্রমিকেরা কথিত কমিটিকে মেনে নেয়নি। তারপরেও তারা জোরপূর্বক স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। এবং বিরোধে মনভাবপন্ন শ্রমিকদের মারধর করছে। বৃহস্পতিবার সকালে তারা স্ট্যান্ড অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের ডিউটি না দেওয়ার কথা বললে অনেকেই সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ক্ষুব্ধ হয়ে কথিত কমিটির লোক বাবুল, হান্নান মৃধা, শওকত খানসহ বেশ কয়েকজন মিলে হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের ৫ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

তবে পরিমল চন্দ্র দাস হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, শ্রমিকরা যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত থাকলে এমন সময় হঠাৎ করে এসে সুলতান মাহামুদ তাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছে। এতে বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নাসির মৃধাসহ তাদেরও ৫ কর্মী আহত হয়েছেন।

পরিমল চন্দ্র নিজেকে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দাবি বলেন, সুলতান মাহামুদ স্ট্যান্ডে আধিপত্য ধরে রাখতে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নিজের আত্মীয় স্বজন নিয়ে বাস মালিক সমিতির নেতার ওপর হামলা করেছে।

কিন্তু সুলতান মাহামুদ বলছেন, পরিমলদের কমিটির কোনো বৈধতা নেই। তাদের কমিটি কোনো মেনে না নেওয়ায় এখন শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে।’

কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি নুরুল ইসলাম জানান, স্ট্যান্ডে এখন পরিবেশ শান্ত আছে। উভয়পক্ষের সাথে আলোচনা চলছে, দ্রুত যাত্রী পরিবহন শুরু হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ