২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিশুদের টিকা দিতে না পেরে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে দু’উপজেলার অভিভাবকরা !

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

হারুন অর রশিদ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
বেতন বৈষম্য নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশের ন্যায় বরগুনার আমতলী ও তালতলীতে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন অব্যাহত রেখেছেন। এতে বন্ধ রয়েছে উপজেলার ইপিআই কার্যক্রম। ফলে ইপিআই কর্মসূচির আওতার শিশুদের টিকা দিতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন অভিভাবকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আমতলী ও ২০ শয্যা তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থায়ী ১টি টিকাদান কেন্দ্রসহ দু’উপজেলা ১৪টি ইউনিয়নে ২৪০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে। এতে ৫৩ জন স্বাস্থ্য সহকারী টিকা কার্যক্রমে কর্মরত আছেন। এর মধ্যে আমতলী উপজেলায় ৪২ ও তালতলী উপজেলায় ১১ জন। এসকল অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে সপ্তাহের দুইদিন স্বাস্থ্য কর্মীদের মাধ্যমে শিশুদের টিকা দেওয়া হতো। দু’উপজেলার মধ্যে একমাত্র আমতলী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে থেকে সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার শিশুদের বিভিন্ন ধরনের টিকা দেওয়া হলেও বাকী সকল অস্থায়ী কেন্দ্র আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী, কুকুয়া, আঠারোগাছিয়া, চাওড়া ইউনিয়নের অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রলোতে সপ্তাহের প্রতি রবি ও বুধবার। হলদিয়া, আমতলী সদর, আড়পাঙ্গাশিয়া, তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া, নবগঠিত শারিকখালী, পঁচাকোড়ালিয়া, নবগঠি ছোটবগী ইউনিয়নের অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রলোতে সপ্তাহের প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার এবং বড়বগীসহ নবগঠিত নিশানবাড়ীয়া, ফকিরহাট ইউনিয়নের অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রলোতে সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও বেতন বৈষম্য নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন অব্যাহত থাকায় টিকাদান কর্মসূচি আপাতত বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১০০ জন ও একটি ইউনিয়নের ২৪টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৪৮০ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের টিকা নিতে আসে। কিন্তু গত ২৬ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্য কর্মীদের লাগাতার কর্মবিরতিতে থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ওই টিকাদান কার্যক্রম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিশুদের অভিবাবকরা। তাঁরা দূর- দুরন্ত থেকে শিশুকে কোলে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে টিকা দিতে না পেরে অভিবাবকরা হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন।

হলদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজারের একটি অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা দিতে আসা গৃহবধূ সালেহা বেগম জানান, গত দুই দিন শিশুকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে টিকা দিতে না পেরে বাধ্যহয়ে বাড়ী ফিরে এসেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটি (ইপিআই) মোঃ আবুল বাশার মুঠোফোনে বলেন, হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন টিকা সরবরাহ করা হলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্দোলনে থাকায় দু’উপজেলার সকল অস্থায়ী কেন্দ্র সমুহে টিকাদান কর্মসূচি আপাতত বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, চলতি বছরে দু’উপজেলায় ৭ হাজার ৩’শ ৬৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হলেও দু’উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের লাগাতার কর্মবিরতির কারনে তা ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বশেষ